কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের বিরুদ্ধে নুরুন্নাহার বেগমের সংবাদ সম্মেলন

মুশফিকুর রহমান //
আমি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন দিয়ে আপনাদের সামনে ৪র্থ বারের মতো হাজির হয়েছি। মিরপুর-পল্লবীর ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনাকারী ফ্রিডম কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক (কাউন্সিলর ৩নং ওয়ার্ড, ঢাকা মহানাগর উত্তর), মিরপুর ১৩ এর পানি পাম্পের লাইনম্যান শাহীন ওরফে পানি শাহীন, দেলোয়ার, কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের চাচা এবং বিএনপির সক্রিয় সদস্য কাজী হারুন ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি স্বাধীন কাফরুল থানার বিএনপির নেতা ফরহাদ আলম ভ’ইয়া এরা বিএনপির সরকারের সময় ফ্রিডম মানিককে সব ধরনের সহযোগিতা করায় আওয়ামীলীগ এর আমলে আওয়ামীলীগের কাউন্সিলর হওয়ায় এখন ফ্রিডম মানিক তাদেরকে সহযোগিতা করছে। আমাদের এই সকল জমি-জমা জবর দখল হয় বিএনপির সরকারে সময় আমাদের পরিবার এই ফ্রিডম মানিকের ভূমিদস্যুর হাত থেকে রেহাই পেতে চাই। আমাদের জমিজমা জবর দখল করে এই জমি বিক্রি করে দিয়েছে। বর্তমানে হুমকিতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বর্তমানে সংবাদ মাধ্যমে আমাদের ও আমার পরিবারের নামে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। আমি মোছাঃ নুরুন নাহার, পিতা মৃত অহিদ মোল্লা, পলাশনগর, পল্লবীর একজন বাসিন্দা। আমার পলাশনগরে মহানগর রেকর্ড খতিয়ান নং- ৯৯১, ১৬৫১ দাগ নং: ১৫৬৪২ জমির পরিমান ৩৩ শতাংশ বা ২০ কাঠা। চিহিত ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনাকারী ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (ঢাকা মহানগর উত্তর) ফ্রিডম কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক, তার চাচা বিএনপির সক্রিয় সদস্য কাজী হারুন, মিরপুর ১৩ এর পানি পাম্পের লাইনম্যান শাহীন ওরফে পানি শাহীন, দেলোয়ার, বিএনপির সক্রিয় সদস্য কাজী হারুন ও স্বাধঅন মিলে জাল দলিল তৈরি করে জোরপূর্বক ৯ কাঠা জমি দখলের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এর মধ্যে শাপলা সমিতির কাছে ৮০ লাখ টাকায় ৫ কাঠা জমি, আকলিমা বেগমের কাছে ৪০ লাখ টাকায় ২ কাঠা জমি, মুফতি মাওলানা শেখ রেজাউল করিমের কাছে ৪০লাখ টাকায় ২ কাঠা জমি বিক্রি করে দিয়েছে। আমি কোর্টে একটি মামলা করি। পিটিশন মামলা নং ৬৪৩/২০১২ যা কোর্টে আমার পক্ষে রায় দিয়েছে। কোর্টের রায় আমার পক্ষে থাকার পরেও ৯ কাঠা জমি না ছেড়ে উল্টো বাকি জমি দখল করে নেয়ার জন্য আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও মিথ্যা মামলায় হয়রানি করছে। প্রতিনিয়তই সন্ত্রাসীরা হত্যার হুমকি দিচ্ছে। মিরপুর ১৩ নম্বর এ পানি পাম্পের লাইনম্যান শাহীন ওরফে পানি শাহীন জালিয়াতের মাধ্যমে ও চাঁদাবাজি করে রাজধানীতে ৩/৪ টি বাড়ি করেছে। গত ২০০৪ সালে রাজধানীর মিরপুরে গার্মেন্টসে চাকরি করেছে দেলোয়ার। ভূমিদস্যুদের সাথে শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে দেলোয়ার শুরু করেছে নিরীহ মানুষের জমি দখল। বর্তমানে দেলোয়ারের মিরপুরে রয়েছে ৫/৬টি বাড়ি। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দফতর ও থানায় অভিযোগ থাকার পরেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। এই ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কাছে মিরপুর পল্লবীবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তরের ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক নিজেকে সরকারী দলের একজন নেতা ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীদের উত্তরের সহ-সভাপতি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ভাবে প্রতিমাসে মোটা াঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। শুধুমাত্র জুয়ার বোর্ড থেকেই প্রতিদিন ১২ লাখ টাকা নিচ্ছেন কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক, এ ব্যাপারে গত ৩০ এপ্রিল ২০১৮ইং তারিখে দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় একটি এক্সক্লোসিভ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই ভূমিদস্যুতা ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক ছিল ফ্রিডম পার্টির সক্রিয় নেতা। অথচ নিজের খোলস পাল্টিয়ে বর্তমানে আওয়ামী লীগে যোদ দিয়ে সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন ও হুমকি দিয়ে জমি ও বাড়ি দখল করে নিচ্ছে। উক্ত ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইজিপি পুলিশ কমিশনার , ডিবি ডিসি, র‌্যাব-৪, র‌্যাব সদরদফ্তর ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ার পরেও ফ্রিডম কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক, পানি পাম্পের লাইনম্যান শাহীন ওরফে পানি শাহীন, দেলোয়ার, কাজী হারুন ও স্বাধীনের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। উল্টো কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক সবাইকে বলে উপরের কেউ তাকে কিছু করতে পারবে না। সে সব সময় বিভিন্ন নেতার কথা বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হুমকি দেয় এবং সাধারণ মানুষে জমি দখল করে অন্য মানুষের কাছে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বর্তমানে কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক মিরপুরে সন্ত্রাসীদের গডফাদার। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। তার কাছে কেউ গেলে সে বিচার না করে উল্টো তার সম্পত্তি ও বাড়িঘর দখল করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আমার মতো অনেক মানুষের জমি ও বাড়ি দখল করে নিয়েছে ভূমিদস্যু কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকসহ এই চক্রের সদস্যরা।

মন্তব্য

মন্তব্য