“জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ” পিছিয়ে নেই বান্দরবানের নারীরা”


মোহাম্মদ আলী,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধ//

“জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ” পিছিয়ে নেই বান্দরবানের নারীরা। পাচঁ জন সফল নারী জীবন-গাঁথা শুনতে গল্পের মত হনে হলেও প্রকৃত পক্ষে সত্য ঘটনা। সফল নারীদের মধ্যে বান্দরবান জেলার থানছি উপজেলার জাহানারা আক্তার অত্যান্ত দরিদ্র পরিবারে জম্ম নিয়েও অনেক কষ্টে এইচ.এস.সি পাশ করেন। পড়ালেখার পাশা-পাশি সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। স্থানীয় এনজিও বিএনকেএস এ চাকুরী করেন। পরবর্তীতে যুব উন্নয়ন থেকে গবাদি পশু পালন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে গুরু ছাগল পালন শুরু করেন। বর্তমানে তার ১১টি ছাগল ও ৫টি গরু আছে। এছাড়া নমশী কাথা তৈরী এবং হাঁস মুরগীর খামার থেকে তার প্রতি মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় হয়।
থানছি উপজেলার আরেক সফল নারী ইন্দিরা ত্রিপুরা সে তৃতীয় শ্রেণী হতে হোস্টেল থেকে পড়ালেখার শুরু করেছিল। বাবা সামন্য বেতনে চাকরী করে লেখা পড়ার ব্যয়ভার বহন করতে পারত না, বাড়িতে এসে জুম চাষ শুরু করে আবার থানছি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এসএসসি পাশ করার পর ঢাকা মোহাম্মদ পুর মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ২০১৫ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরী লাভ করেন। বর্তমানে এলাকার মেয়ে শিশুদের উন্নত শিক্ষার জন্য প্রতিদিন বিকেলে ২ঘন্টা করে ২০জন মেয়েকে বিনা পারিশ্রমিক পাইভেট পড়ান।
আরেক সফল নারী বান্দরবান সদর উপজেলার ইয়াছমিন আক্তার রুবি-স্বামী-কাজ্বী নাছিরুল আলমসাং-শেওে বাংলা নগর, বান্দরবান পৌরসভা। ইয়াছমিন আক্তার রুবি তার দারিদ্রতার কারনে লেখাপাড়া করা সম্ভব হয়নি। সন্তান সংখ্যা ৩জন। ২ মেয়ে ১ছেলে। বড় ছেলে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল.এল.বি অনার্স এল এল এম পাশ করে বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালত ঢাকা ও বান্দরবান আইন পেশায় নিয়োজিত। মেজ মেয়ে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল.এল.বি অনার্স এল এল এম পাশ করে ঢাবা বার এর একজন সিনিয়ির আইনজীবির সাথে আইন পেশায় নিয়োজিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ছোট মেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
আরেক সফল নারী বান্দরবান সদর উপজেলার পাইং¤্রাউ মার্মা তিনি বাবা মায়ের প্রথম সন্তান। বাবার আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল। পাছ ভাই বোনের বড় পরিবার চালাতে বাবা মাকে অনেক কষ্ট করতে হত। অনেক কষ্টে এস এসসি পাস করার পর বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান হতে সেলাই ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এলাকার মেয়েদেরে নিয়ে বান্দরবান মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এর সহযোগিতায় মহিলা সমিতি গঠন করেন। এলাকার জনগরেন পাশে থেকে সুখ দু:খে সাহায্য করেছেন। এলাকার জনগরেন অনুপ্রেরণায় ২০১৬ সালে বান্দরবান সদর ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬নং সংরক্ষিত মহিলা আসনে সদস্য পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় লাখ করেন।
আরেক সফল নারী বান্দরবান পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর সালেহা বেগম। তিনি অষ্টম শ্রেণীতে লেখা পড়া করার সময় মা মারা যান। বাবা দ্বিতীয় বিবাহ করা পর সঃ মায়ের হাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হই। বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে সেনলাই, হাঁস মুরগী ও গবাদি পশু প্রতিপালণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গুহণ করি। বিভিন্ন এনজিওতে চাকুরী করে দুই ছেলেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করি। বড় ছেলে মার্স্টাস পাশ করেছে। তৃতীয় ছেলে চট্টগ্রাম সরকারী কলেজে অনার্সে এবং ছোট মেয়ে বান্দরবান সরকারী কলেজে এইচ এস সিতে অধ্যায়নরত। ২০১৭ সালে পৌর নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে ৪,৫ ও ৬নং সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হই।

মন্তব্য

মন্তব্য