কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার ৪ গুণ বেশি বন্দি

সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি //
ধারণক্ষমতার চারগুণের বেশি বন্দি রাখা হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে। কারা ওয়ার্ডগুলোতে জায়গা না হওয়ায় বারান্দায় লোহার গ্রীল লাগিয়ে বন্দি রাখা হয়েছে। এত বন্দি নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, বন্দিদের ঘুমানো, গোসল করাসহ প্রতিদিন নানা কাজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।কারা সূত্র জানায়, ৪টি পুরুষ ওয়ার্ড ও ২টি নারী ওয়ার্ড মিলে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ১৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দি ধারণক্ষমতা ১৪৫ এবং নারী বন্দি ধারণক্ষমতা ১৮ জন। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে বন্দির সংখ্যা বাড়তে থাকায় কারাগারে এখন বন্দিসংখ্যা ধারণক্ষমতার চারগুণ অতিক্রম করেছে। অতিরিক্ত চাপে ওয়ার্ডগুলোর বারান্দায় লোহার গ্রীল লাগিয়ে সেখানে বন্দিদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গতকাল (২৫ অক্টোবর) পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে মোট বন্দি রয়েছেন ৭৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দি ৭২২ এবং নারী বন্দি ২৭ জন।আরও জানায়, মোট বন্দির মধ্যে ১০৫ জন সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ ও ৫ জন সাজাপ্রাপ্ত নারী রয়েছেন। অন্য সবাই বিচারাধীন মামলার বন্দি হিসেবে রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে মাদক সংক্রান্ত মামলার আসামি তিন শতাধিক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কারারক্ষী জানান, অতিরিক্ত বন্দির চাপে কারাগারের অভ্যন্তরের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। বন্দির চাপ সামাল দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।কারাগারের জেলার মো: লুৎফর রহমান বলেন, ‘জেলা কারাগারে সবসময় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি থাকে। গরম মৌসুমে এ নিয়ে আমাদের বিপাকে পড়তে হয়। বর্তমানে অতিরিক্ত বন্দির চাপে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ জেলার আরও জানান, কারাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব করে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নিলে কারাগারের ধারণক্ষমতা বাড়তে পারে।উল্লেখ্য যে, উপ-কারাগার হিসেবে যাত্রা শুরু করা এ কারাগার ১৯৮৭ সালের ৪ ফেব্রæয়ারি জেলা কারাগারে রূপান্তরিত হয়। পৌনে সাত একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এ কারাগারের অভ্যন্তরীণ আয়তন (মূল কারাগার) ৩.৮৬ একর।

মন্তব্য

মন্তব্য