গাইবান্ধায় অবাধে চলছে ডিজিটাল জুয়া ‘লুডুবাজি’!

রওশন হাবিব,গাইবান্ধা প্রতিনিধি //
মোবাইলে চলছে জমজমাট জুয়া! জেলার বিভিন্ন জায়গায় অবাধে চলছে এই লুডু খেলার নামে ডিজিটাল জুয়া। আর এই ডিজিটাল জুয়া খেলা ধরার মত কেউ নেই। বাজি হয় মুখে মুখে অথবা সংকেতে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ছাত্র ও যুবকরাই বেশি মেতে উঠেছে এই ডিজিটাল লুডু জুয়ায়।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, গাইবান্ধার প্রায় সব পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান, পথে-ঘাটে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলেও চলছে লুডুর জমজমাট জুয়ার আসর। এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেটে লুডু সফটওয়্যার ডাউনলোড করে রাত-দিন যেখানে সেখানে ৪-৫ জন জুয়ারি একটি মোবাইলে লুডু খেলছে। শহরের বিভিন্ন এলাকার ভবনের বারান্দায়, দোকানের ভিতর দিনরাত চলছে এই লুডু বাজি। এছাড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন চায়ের দোকান ও রেস্টুরেন্টে সন্ধ্যা থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত এই খেলায় মত্ত থাকে বেশিরভাগ কিশোর, যুবক, স্কুলছাত্র, এমনকি বয়স্করাও।

শহরের নতুন ব্রীজ থেকে কদমতলী পর্যন্ত একাধিক স্থানে খেলতে দেখা যায় এইসব জুয়ারিদের। এসব জুয়ারিদের মধ্যে রয়েছে রিক্সা-ভ্যান, ইজিবাইক, ট্রলি, ট্রাক্টর (কাকড়া) চালক, ক্ষেতখামারে কাজ করা কৃষি শ্রমিক, দোকান কর্মচারী এবং স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্টের সময় এই জুয়ার আসরগুলোর কথা মিডিয়াতে আসলেও গাইবান্ধার জুয়ারিরা এবার তাদের কৌশল পরিবর্তন করে লুডুর জুয়াকে বেশ জমজমাট করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সুত্র জানায়, প্রতিদিন শুধু পৌরসভার ভিতরেই লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হয় এই মোবাইল লুডুতে। তবে সম্প্রতি গাইবান্ধায় এন্ড্রয়েড মুঠোফোন দিয়ে লুডু খেলা (জুয়া) ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চার পরিবারের চারজন, সাথে আরও দু-চারজন পরামর্শকসহ লুডু দিয়ে দেরারছে চলছে জুয়া খেলা।

শহরের ডিবি রোডের ইমরান জানান, প্রতিদিন বন্ধু বান্ধব মিলে এই লুডু খেলেন। তবে টাকা দিয়ে না খেলে তারা খাওয়া দাওয়া বাজি ধরেন।

এভাবেই লুডু বাজি আর খেলায় দীর্ঘসময় মগ্ন থাকতে জুয়ারিরা ব্যবহার করছে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক। ফলে গাইবান্ধায় বেকার ও মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই লুডু বাজি প্রতিরোধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গাইবান্ধার সচেতন মহল।

মন্তব্য

মন্তব্য