বন্দরবানে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শুরু হল বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা

ডেভিড সাহা,  বান্দরবান :  বান্দরবানে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্যদিয়ে শুরু হল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা, মার্মা সম্প্রদায়ের কাছে যা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে নামে পরিচিত। প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব উদযাপন উপলক্ষে আজ শনিবার (১২অক্টোবর) সন্ধ্যায় বান্দরবানের রাজার মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী ফানুশ উড়ানো, রথ টানা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এসময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মোমবাতি জ্বালিয়ে রথ টেনে প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব উদযাপনের শুভ উদ্বোধন করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু ক্যশৈহ্লা । ‘ছংরাসিহ্ ওয়াগ্যোয়াই লাহ্ রাথা পোয়েঃ লাগাইমে.. ’ (সবাই মিলে মিশে রথযাত্রায় যায়..) আদিবাসী মার্মা’রা এই বিশেষ গানটি পরিবেশন করে মাহারথ যাত্রা শুরু করে। এ সময় পাংখো নৃত্য পরিবেশন আর রথ টানতে শত শত আদিবাসীরা রাস্তায় নেমে আসে। রথে জ্বালানো হয় হাজার হাজার বাতি এবং দান করা হয় নগদ অর্থ। পরে শহরের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে আগুন জ্বালিয়ে নানা রংয়ের ফানুশ আকাশে উড়ানো হয়, এসময় ফানুশের আলোতে ঝলমল হয়ে ওঠে পাহাড়ের আকাশ। এদিকে বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টির সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় মনোরম সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সাংস্কৃতিক অনুষ্টানে স্থানীয় শিল্পীদের মনোরম সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের নজর কাড়ে। এসময় মার্মা শিল্পিরা বাংলা হিন্দি ও মার্মা ভাষায় সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে অনুষ্ঠানস্থল মাতিয়ে রাখে। জেলা সদরের মতো জেলার থানচি, লামা, রুমা, রোয়াংছড়ি, আলীকদমসহ অন্য ৬টি উপজেলায় প্রবারণা পূর্ণিমার আনন্দে মতোয়ারা হয়ে উঠেছে বৌদ্ধ অনুসারীরা। বান্দরবান শহরের ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে এর রথে মোমবাতি প্রজ্জলন করছেন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যাশৈহ্লা অনুষ্ঠানে পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা,সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একে এম জাহাঙ্গীর,পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সিং ইয়ং ম্রো,ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টির সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক মংনুচিংসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী সোমবার মধ্যরাতে সাংগু নদীতে রথ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের এই প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসবের।

মন্তব্য

মন্তব্য