বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় স্প্যান বসবে লেবুখলীতে।

মোঃ শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী জেলা  প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর পায়রা নদীর  লেবুখালীতে নির্মাণাধীন পায়রা (লেবুখালী) সেতুতে পদ্মার থেকেও বড় স্প্যান বসনো হবে। নান্দনিক এক্সটাডোজ ক্যাবল বক্স গার্ডার সেতুটিতে নদীর মাঝে মূল সেতু হবে ৬৩০ মিটার। এজন্য ২০০ মিটারের ২টি স্প্যান ও দু’পাশে ২টি স্পান ১১৫ মিটার করে হবে। যা দেশের সবচেয়ে বড় এমনকি পদ্মাসেতুর স্প্যানের থেকেও বড়।

বরিশাল টু পটুয়াখালী টু কুয়াকাটা মহাসড়কের পায়রা নদীর উপর ‘লেবুখালী সেতু’ নির্মাণের মধ্য দিয়ে কুয়াকাটা আলিপুর মহিপুড় কলাপাড়া আমতলি তালতলি পটুয়াখালীর মানুষের মুখে ফুটেছে হাসি।

চারলেন বিশিষ্ট ১,৪৭০ মিটার (৪,৮২০ ফুট) দৈর্ঘ্যের ১৯.৭৬ মিটার (৬৪.৮ ফুট) এক্সট্রা বক্স গার্ডার সেতুটির উভয়দিকে ৭ কিলোমিটারজুড়ে নির্মাণ করা হবে অ্যাপ্রোচ সড়ক। ব্রিজটির প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৪৪৬ কোটি টাকা।

এছাড়াও সেতুটি নদীর জলতল থেকে ১৮.৩০ মিটার উঁচু হবে। যার ফলে নদীতে নৌযান চলাচলে কোনো অসুবিধা হবে না। বিদ্যুৎ এর পাশাপাশি থাকবে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোকিত হবে সেতুটি।

পটুয়াখালী জেলা ও বরগুনা জেলার ব্যবসাইরা বলেন সেতুটি নির্মিত হলে আমাদের ব্যবসায় চলে আসবে আরো উন্নতি। সেতুটি নির্মিত হলে খুলে যাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সাথে সারা বাংলাদেশের  যোগাযোগ ব্যবস্থায় সৃষ্টি হবে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। বাণিজ্যিক সুবিধা পাবে ব্যবসায়ীরা। গড়ে উঠবে কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান।

এই সেতুকে ঘিরে পরিকল্পনায় ব্যস্ত রয়েছেন ছোট-বড় নানান ধরনের ব্যবসায়ীরা। হোটেল, তেল পাম্পসহ এমনকি জমির মালিকরাও।

কুয়েত সরকারের অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে চায়নার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লংজিয়ান চাইনিজ কোম্পানি সেতুটি নির্মাণ করছে। দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে সেতুটির নির্মাণকাজ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

রেসিডেন্স ইঞ্জিনিয়ার আহমদ শরীফ সজিব বলেন, উভয় তীরের গার্ডার নির্মাণ শেষে এখন নদীর মাঝের গার্ডার নির্মাণ কাজও শেষের দিকে। একই সঙ্গে স্প্যান বসানো হচ্ছে। লংজিয়ান চায়নার নির্মাণ শ্রমিকরা খাবার বিরতি ছাড়া দিন-রাত সমান তালে দ্রুততার সঙ্গে নির্মাণকাজ করছেন। এখন গড় হিসেবে ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২০ সলের জুনের দিকে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেতুটি নির্মিত হলে পটুয়াখালী-বরগুনা জেলাসহ উপকূলীয় ১০ উপজেলার অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সৃষ্টি হবে অভূতপূর্ব উন্নয়ন।

২০১২ সালের ৮ মে একনেক সভায় প্রকল্পটি সরকারের অনুমোদন পায় এবং ২০১৩ সালের ১৯শে মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালী সফরে এসে লেবুখালীতে পায়রা নদীর দক্ষিণ পারে ফেরিঘাটে চার সড়ক বিশিষ্ট পায়রা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

পদ্মাসেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার।

মন্তব্য

মন্তব্য