বাউফলে ইউএনও যখন ঠিকাদার…ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ডেকারেশন ও সৌন্দর্য বর্ধণের নামে সরকারের ৭ লাখ টাকা অপচয়

 

মো:ফিরোজ,বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর বাউফলে দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে, ঠিকাদারকে উপজেলা পরিষদের ভবন নির্মাণের জন্য কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছে। এরপরেও দুইটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ডেকারেশন ও সৌন্দর্য বর্ধণের নামে সরকারের কয়েক লাখ টাকা অপচয় করা হচ্ছে। ঠিকাদার হিসেবে আর এ কাজ করাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজেই।
এমন ঘটনা ঘটছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় বাউফল উপজেলা পরিষদের চার তলা বিশিষ্ট একটি নতুন ভবন ও এক তলা বিশিষ্ট একটি হলরুম (পরিষদের সভাকক্ষ) নির্মাণের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ১৪০ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স আবুল কালাম আজা- মহিউদ্দিন জয়েন্ট ভেঞ্চার । চার তলা ভবনটির দৈর্ঘ্য হবে ৮০ ফুট ও প্রস্থ ৬৭ ফুট এবং একতলা বিশিষ্ট হলরুমের দৈর্ঘ্য হবে ৮৬ ফুট ও প্রস্থ ৩৮ ফুট।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউএনওর কার্যালয় ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিটি পিলারে ও বিমে বড় আকারের ফাটল। পিলারের রড বেরিয়ে রয়েছে। দেয়াল ও ছাদের পলেস্তেরা খসে পড়ছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে ভবনটির ১৪ টি পিলারের পাশে লোহার খুটি দিয়ে বিমের সঙ্গে ডেক দেওয়া রয়েছে। একই অবস্থা হলরুমেরও। ১৭ টি পিলারের পাশে ১৭ টি লোহার খুটি দিয়ে বিমের সঙ্গে ডেক দেওয়া রয়েছে। এরপরেও এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ইউএনও ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের দুটি কক্ষে ডেকারেশন ও সৌন্দর্য বর্ধণের নামে কাজ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় হবে সরকারি কয়েক লাখ টাকা।
ডেকারেশন ও সৌন্দর্য বর্ধণের কাজে নিয়োজিত মো. শামীম ব্যাপারী বলেন,‘প্রথমে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইউএনও স্যারের কক্ষটি ডেকারেশনের জন্য কাজ শুরু করি। পরে তাঁরই নির্দেশে বাকি কাজ করি। এতে সাত লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন,‘যে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং যেখানে নতুন ভবন নির্মিত হচ্ছে। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সাত লাখ টাকা ব্যয় করা মানে সরকারি টাকার অপচয়।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে এক কর্মকর্তা বলেন,‘পিআইওর চেয়ে উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে পিআইওর কক্ষ ডেকারেশন করতে হবে কেন? এতে অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।’
পিআইও রাজিব বিশ্বাস বলেন,‘উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে আমার ও ইউএনও স্যারের দুটি কক্ষসহ করিডোরের ডেকারেশন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্যারই ভালো বলতে পারবেন।’
এ ব্যাপারে ইউএনও পিজুস চন্দ্র দে বলেন,‘আধুনিকীকরণের জন্য ডেকারেশন করা হয়েছে।’ নতুন ভবন নির্মিত হচ্ছে এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,নতুন ভবন নির্মিত হতে এখনও দুই বছর সময় লাগবে।’

মন্তব্য

মন্তব্য