প্রচন্ড বৃষ্টির মাঝেও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ভিড়।

এস এম ইলিয়াস জাবেদ, কলাপাড়া পটুয়াখালী// হঠাৎ বৃষ্টি আমরা শুনেছি গল্প সিনেমার নাম,প্রচন্ড রোদে মাখা চারিদিক আবার হঠাৎ মেঘলা আকাশ,অভিমানে কালো মেঘ আকার ধারণ করে আসে। হঠাৎ যেন ধুমপড়া বৃষ্টি, এ যেন হঠাৎ বৃষ্টি। এরই মাঝে সকল কিছুকে উপেক্ষা করে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে হাজির হয়েছে দেশ বিদেশের ভ্রমন পিপাসু হাজারো পর্যটক।

এই ঈদে দীর্ঘ পাঁচদিনের ছুটিতে দুরদুরান্ত থেকে আসা ভ্রমন প্রেয়সী মানুষগুলো কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দুর করতে সমুদ্র সৈকতে ছুটে আসা।পরিবারের ভালোবাসার প্রিয় মানুষদের সাথে অবিরাম আনন্দ ফুর্তি আর সমুদ্রের গর্জন যেন রীতিমত তাদেরকে মুগ্ধ করে তুলেছে। তবে ঈদের প্রথম দিনে পর্যটকদের তেমন কোন আনাগোনা না দেখলেও তৃতীয় ও চতুর্থ দিন সকাল থেকে পুরো সৈকত জুড়ে পর্যটকদের প্রচন্ড আনাগোনা লক্ষ করা গেছে। আর এসব পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জুরি হয় না। এ যেন প্রিয় সমুদ্র সৈকতকে প্রাণবন্ত করে তোলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে হাজার হাজার পর্যটকে মুখরিত হয়ে গেছে এবং তা উৎসবে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবার পরিজন কিংবা কেউ পছন্দের মানুষটিকে নিয়ে নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে ছুটে এসেছেন। তাদের হাতে থাকা স্মার্ট ফোনের সেলফি ও ভিডিও ক্লিপস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

দেখা গেছে, লাল কাকড়ার অবিরাম ছোটাছুটি প্রিয়জনের সাথে হৈই চৈই আর সমুদ্রের মোনকারা গর্জন শুনতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। ঐতিহ্যবাহী কুয়া, বৌদ্ধ বিহার, আড়াই শতবর্ষী নৌকা, ইলিশ পার্ক, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান, ঝাউ বন, লেম্বুর চর, চর গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার দ্বীপ, ফাতরার বন, স্বপ্নরাজ্য পার্ক ও রাখাইন পল্লীসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানেও বাড়ছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। এদিকে পর্যটন সংশ্লিষ্ট খাবার হোটেল গুলোতে কেনা বেচার ধুম পড়েছে দামেও ছাড়ছেন না তারা। তবে অধিকাংশ হোটেল, মোটেলের রুম বুকিং রয়েছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়িরা আমাদের জানিয়েছেন।

ভ্রমণ করতে আসা ব্যবসায়ি মো.সাইদুর রহমান বলেন, এই বৃষ্টি ভেজা সমুদ্রে কিছুটা আনন্দ উপভোগ করার জন্য এসেছি আর এরই মাঝে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ সাথে গা ভেজানো বৃষ্টি কিছুটা আনন্দই দিচ্ছে এটাই আলাদা। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের সব কষ্ট ঘুচিয়ে দিয়েছে। অপর পর্যটক সামিয়া ইসলাম জানান, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ঢেউয়ের গল্প শুনেছি আজ দেখতে এ যেন গল্পের থেকে অনেক সুন্দর।

কুয়াকাটায়় থাকামিনি পার্ক গুলোর কর্তৃপক্ষ জানান,ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় আসা পর্যটক অধিক পরিমাণ, আর আমাদের পার্ক গুলো উপচে পড়া ভিড়, আমরাা তাদেরকে বিনোদনের সার্বিক চেষ্টা করে যাচ্ছি।কুয়াকাটা হোটেল মোটেল মালিকরা জানান, আবহাওয়ার খারাপ থাকায় ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন তেমন কোন পর্যটক ছিলোনা। তৃতীয় দিন থেকে থেকে পর্যটকের চাপ বেড়ে গেছে। হোটেল গুলোতে এখনো বুকিং চলছে।

কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশ জেনের পরিদর্শক মো.খলিলুর রহমান জানান, সৈকতে পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার চেষ্টা করছি এবং তাদের চলাফেরা যেন অপ্রীতিকর কোন ঘটনা না ঘটে সে দিকে সার্বক্ষনিক নজর রাখছি আমরা।
মহিপুর থানার ওসি সোহেল আহম্মেদ জানান, পর্যটকদের অনেক চাপ রয়েছে। তাদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ ও মহিপুর থানা পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে মোতায়েন রয়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য