দেড় ঘণ্টার রাস্তা ১০ ঘণ্টায় !

ডেস্ক রিপোর্ট  : ঈদযাত্রায় মাত্র দেড় ঘণ্টার রাস্তা পার হতে সময় লেগেছে প্রায় ১০ ঘণ্টা। যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে এই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

বাসযাত্রী হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে ন্যাশনাল পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বিকাল পৌনে ৬টার দিকে তাদের বাসটি টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস এলাকায় এসে পৌঁছায়।

হাফিজুর রহমান বলেন, ‘চন্দ্রা থেকে বাসটি থেমে-থেমে চলছিল। ১ মিনিট সামনে এগোলে ২০ মিনিট থেমে থাকতে হয়েছে। এভাবে কি বাসে চলাচল করা যায়। এ অবস্থায় বাসের অনেক লোক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আজকে সিরাজগঞ্জ পৌঁছাতে পারবো কিনা, সেটাও জানি না। ফাঁকা থাকলে চন্দ্রা থেকে এই সড়ক দিয়ে টাঙ্গাইল পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টা।’

শফিকুল নামের ওই বাসের আরেক যাত্রী বলেন, ‘যানজটে নাকাল হয়ে পড়েছি। গাড়ি কিছু দূর এগোলে আবার থেমে যাচ্ছে। তখন গরমে বাস থেকে নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়াতে হচ্ছে। না খেয়ে থেকে এবং সময়মতো প্রস্রাব-পায়খানা না করতে পেরে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এছাড়া প্রচণ্ড গরমে বাসের ভেতরে থাকাই যাচ্ছে না।’

শ্যামল নামের এক ট্রাকচালক বলেন, ‘ভোর ৫টার দিকে রফতানি থেকে ট্রাকটি ছেড়েছি। বিকাল ৬টার দিকে টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাসে এসে আটকে আছি। গাড়ি থেমে-থেমে চলছে। কিছু দূর চললেও আবার আটকে যাচ্ছে। কখন রাজশাহীতে পৌঁছাবো সেটাও জানি না।’

ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কযাত্রীদের অভিযোগ শুক্রবার রাত থেকে এভাবেই গাড়ি চলছে। এর কারণে নাকাল হয়ে পড়েছেন উত্তরাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ। এর আগে শুক্রবার দুপুরে এ রোডের মির্জাপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বিকালের দিকে চাকা ঘুরতে শুরু করে।

রাবনা বাইপাসে দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এশরাজুল হক বলেন, ‘ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের চাপ, সড়কের ধারণক্ষমতার বেশি যানবাহন চলাচল ও বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাশের মহাসড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলার কারণে টাঙ্গাইলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এখনও গাড়ি থেমে থেমে চলছে।’

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

মন্তব্য

মন্তব্য