পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মার্মার বিরুদ্ধে ফের সোলার প্যানেলের অর্থ আত্মসাত্বের অভিযোগ।

 

ডেভিড সাহা,বান্দরবান //

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ১নংপাইন্দু ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মুননুয়াম পাড়া সোলার প্যানেল দিবে বলে প্রতি পরিবার থেকে দেড় হাজার টাকা করে নিয়েছিলেন পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মার্মা। তবে দুই বছর পেরিয়ে গেছে। তারপরও কোনো সোলার প্যানেল দেননি চেয়ারম্যান। এখন সোলার চাইতে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান বিব্রতবোধ করেন। মাঝে মধ্যে সোলার প্রসঙ্গ ওঠলেই পাড়াবাসীদের উপর উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তাই ঐ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড থেকে সোলার প্যানেল পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন । হত্যাশায় ভোগছেন মুননুয়াম পাড়াবাসীরা।
গত ৭/৭ /২০১৯ইং দুপুরে রুমা বাজারে এক আলাপ চলাকালিন সময়ে এসব কথা জানিয়েছেন বান্দরবানের রুমায় পাইন্দু ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মুননুয়াম পাড়ার স্থানীয়রা। এ পাড়ায় ৪২ টি পরিবারের লোকজন বসবাস করছেন। লালনুন নোয়াম, ভানলাল ভিয়াক ও লালচুম সাং এই তিনজনই মুননুয়াম পাড়ার বাসিন্দা। তাদের ভাষ্যমতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড(পাচউবো থেকে সোলার প্যানেল বরাদ্ধ পাওয়ার জন্য প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকতাদের খুশি করতে আনুষাঙ্গিক ব্যয় মেটানোর কথা জানিয়ে মুননুয়াম পাড়াবাসীদের কাছে ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার জনাব রোয়ালখুম লিয়ান বম এর মাধ্যমে চাপ প্রয়োগক্রমে পরিবার প্রতি ১৫০০/- (এক হাজার পাঁচশত ) টাকা হারে চাঁদা নিছে। সোলার প্যানেল পাওয়ার আশায় মুননুয়াম পাড়ার ৪২ পরিবার থেকে দেড় হাজার টাকা করে মোট ৬৩,০০০/- (তেষট্টি হাজার) টাকা বিগত ২০১৭সালের জুন মাসের ১ম সপ্তাহে ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মার্মাকে দেয়া হয়। দুই বছর পার হয়ে গেছে। এখনো কোনো পরিবার একটি সোলারও পাননি, এ ক্ষোভের কথা জানিয়ে লালনুন নোয়াম বম জানান যে, তার প্রতি বেশি মায়া মমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের ইচ্ছা অনুযায়ী গ্রামবাসী অনেক কষ্টকরে ধান/চাউল/বিক্রি করে ও দিনমজুর খেটে টাকা দিলেন যেন ছেলেমেয়ের লেখা পড়া একটু ভালো হবে সেই আশা কিন্ত তা আর হল না এমন কি জঙ্গল থেকে শিকার করে জীবিত বন মোরগ পর্যন্ত দিয়েছেন। তবুও কোনো সোলার প্যানেল পায়নি এখনো!
ভানলাল ভিয়াক বম বলেন মুননুয়াম পাড়ার লোকজন সবাই পাহাড়ি জুম চাষি। সোলার পাইতে পাড়াবাসীর মধ্যে অনেকে মহাজনের কাছে অগ্রিম মজুরি টাকা, দাদন ও সুদে টাকা ধার নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামংকে দিয়েছেন। তারপরও কেউ কোনো সোলার প্যানেল না পাওয়ার এ কষ্টের কথা কাকে গিয়ে জানাবো? এ প্রশ্ন করেন তিনি। তিনি আরো বলেন ইউপি চেয়ারম্যান সোলার প্যানেল দেয়ার কথা জানিয়ে আমাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে প্রতারণা করে অন্যায় করেছেন।
এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুবিচার চেয়ে উপজেলা কর্মকতার নিকট গত ৬ জুন ২০১৯ইং তারিখে অভিযোগ করেন তারা। মুননুয়াম পাড়ার ৪২ পরিবারের লোকজনের গণস্বাক্ষর সহ ওই অভিযোগ পত্রে প্রতি পরিবারকে ১০০ওয়ার্ট /৬৫ ওয়ার্ড সোলার প্যানেল বিতরণ অথবা মুননুয়াম পাড়াবাসীর নিকট উত্তোলিত চাঁদার টাকা ফেরত প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তারা।এই বিষয়ে জানতে উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার্ মোহাম্মদ শামসুল আলম এর সাথে মোটোফোনে কথা বলে জানতে পাড়ি যে, তিনি এই বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছেন এর সত্যতা যাচাই করে যতাযত ব্যবস্তা গ্রহন করা হবে বলে জানান। তবে এই অভিযোগের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সাথে মুটো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাদের মুটোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য যে, বিগত ৩০/০৬/২০১৯ইং তারিখে মাননীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একই বিষয়ে আর্থা পাড়াবাসী (রুমা ১নং পাইন্দু ইউনিয়ন) ৫১ পরিবারের গণস্বাক্ষরিত সোলার প্রদানের নামে অর্থ আত্বস্বাতের অভিযোগ করেন।

মন্তব্য

মন্তব্য