বোরহানউদ্দিনে জাহিদ-৭ লঞ্চটির বেহাল অবস্থা … দূর্ঘটনার আশংকা

মো: হুমায়ুন কবির পালোয়ান; বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ
ঢাকা- বোরহানউদ্দিন নৌ রুঢে নানা সমস্যা নিয়ে যাত্রী পারাপার করছে এম ভি জাহিদ-৭ লঞ্চটি। লঞ্চটি একে বারে জরাজীর্ন, পিছনের দিকে বড় ধরনের ফাটল নিয়ে শত শত যাত্রী পারাপার করে যাচ্ছে। আর কোন লঞ্চ না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়ে যাত্রীরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ লঞ্চে যাতায়াত করছে। চলমান বৈরি আবহাওয়া এ লঞ্চটির যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা করছেন যাত্রীরা। যাত্রীরা এ রুঢ থেকে এ লঞ্চটি দ্রæত সরিয়ে বড় লঞ্চ দেয়ার জোরালো দাবী জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। লঞ্চটির নাজুক অবস্থা উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে উপজেলা প্রশাসন যাত্রী উঠতে দেয় নি ওই লঞ্চে। এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষন করে এ লঞ্চের ফাটল অংশ স্যোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন যাবত নানা সমস্যা নিয়ে এমভি জাহিদ-৭ লঞ্চটি যাত্রী পারাপার করে যাচ্ছে। লঞ্চের পিছনে বড় ধরনের ফাটল সহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল রয়েছে। আর লঞ্চের ভিতরের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ছে। এসকল সমস্যা সমাধান না করেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রশাসন কে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে দীর্ঘ দিন যাত্রী পারাপার করে আসছে। আর সাধারন যাত্রীরাও বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুকি নিয়ে এ লঞ্চে যাতায়াত করছে। কারন লঞ্চটির নাজুক অবস্থা দেখে যাত্রীরা রাত জেগে বসে থাকে।
স্থানীয় ও পৌর বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, যাত্রী সেবায় বোরহানউদ্দিন আধুনিক মানের লঞ্চ টার্মিনাল হলেও যাত্রীসেবায় নেই বড় ধরনের লঞ্চ ব্যবস্থা। তাই আমরা অনেকে এ লঞ্চের নাজুক অবস্থা এবং এ রুঢে ছোট লঞ্চের কারনে হাকিমুদ্দিন ও ভোলা সদর দিয়ে ঢাকায় আসা যাওয়া করতে হয়। তারা বলেন, বোরহানউদ্দিন বাসীর সুযোগ সুবিধার কথা চিন্তা করে যাতে এ রুঢে বড় লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়। এ উপজেলায় ২২৫ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র চলমান, আর দুইটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ চলমান রয়েছে। তার কারনে বিদেশী লোকজন এ উপজেলায় আসতে হয়। কিন্তু ছোট লঞ্চের ভয়ে তারা হাকিমুদ্দিন ও ভোলা লঞ্চ যোগে আসে। প্রয়োজনে বোরহানউদ্দিন খাল খনন করে হলেও বড় লঞ্চে ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন। আর বড় লঞ্চ না দিলে এ রুঢটি দিয়ে মানুষ যাতায়াত একেবারেই বন্ধে করে দেয়ারও সংশয় প্রকাশ করেন তারা।
এদিকে গত সোমবার লঞ্চটির নাজুক অবস্থা নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। পরে তারা লঞ্চটি মেরামত ছাড়া যাত্রী উঠা নামা করতে নিষেধ করেন এবং বিষয়টি বিআইডিবিøউ কে অবহিত করেন। পরে ভোলা বিআইডবিøউটি কর্মকর্তার এসে ৭ দিনের মধ্যে লঞ্চটি মেরামত করে ফিটনেস উপযোগী করে লঞ্চ চালানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে যাত্রীরা ভয়ে কেউ ওই লঞ্চে উঠে নি। পরে বোরহানউদ্দিন ঘাট থেকে ঢাকা উদ্যেশে যাত্রী বিহীন ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় লঞ্চটি।
এব্যাপারে বোরহানউদ্দিন পৌর ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির পালোয়ান বলেন, এ লঞ্চটির পিছনের অংশ সহ আশ পাশে বড় ধরনের ফাটল রয়েছে। যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ লঞ্চে উঠছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যদি এ লঞ্চের বিরুদ্ধে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন না করে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলেও তিনি জানান। ছোট ছোট লঞ্চ গুলো সরিয়ে এ রুঢে বড় লঞ্চ দেয়ার দাবীও জানান তিনি।
এব্যাপারে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহি অফিসার খালেদা খানম রেখা জানান, লঞ্চ ঘাটে গিয়ে লঞ্চটির নাজুক অবস্থা দেখে বিষয়টি বিআইডবিøউটি কে অবহিত করেছি। এ অবস্থায় এ লঞ্চটি যাত্রী নিয়ে চলাচলে অনুপোযোগী। তারা তাৎক্ষনিক এসে লঞ্চ স্ট্যাফ কে ৭ দিনের সময় বেধে দিয়েছে লঞ্চ মেরামত করার জন্য।

মন্তব্য

মন্তব্য