চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি রানাসহ আটক-১০

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
এবার চাঁদাবাজি করতে গিয়ে বিজিবি’র হাতে আটক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিজভী আলম রানার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার মাসুদপুর সীমান্ত এলাকার মাসুদপুর গুরুর বীটে চাঁদাবাজিকালে সভাপতি রানাসহ ১০জন আটক করেছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ও প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়, ছাত্রলীগের সভাপতি রিজভী আলম রানার নেতৃত্বে ১০জন বীটে চাঁদাবাজি করতে আসে। চাঁদার টাকা দিতে রাজি না হলে তারা গোন্ডগোল সৃষ্টি করে। গোন্ডগোলের বিষয়টি জেনে মাসুদপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে অস্ত্রসহ আটক করে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধম ফেইসবুকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিজভী আলম রানা বিজিবি’র হাতে আটকের ভিডিও ভাইরাল হতে দেখা গেছে।
এব্যাপারে, বীট খাটাল মালিক রুবেল আলী জানান, আমাদের বীটে কার্যক্রম চলা অবস্থায় ছাত্রলীগের সভাপতি রিজভী আলম রানার নেতৃত্বে ১০/১৫জন ডাকাতি ও চাঁদাবাজি করে আসে। বিজিবিকে সংবাদ দিলে রানাসহ ১০জন আটক করে। কিন্তু এঘটনায় আরো ৪/৫জন পলাতক রয়েছে। পলাতকরা আমার বীট থেকে ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুত নিচ্ছি।
এব্যাপারে, মাসুদপুর বিওপি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার শাহাদাৎ হোসেন জানান, রিজভী আলম রানার নেতৃত্বে ১০/১৫জন চাঁদাবাজি করতে আসে মাসুদপুর বীটে। সংবাদ পেয়ে টহলদলকে বীটে পাঠানো হয়। সেখানে রিজভী আলম রানাসহ ১০জনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বীট মালিক রুবেল আলী বাদি হয়ে মামলা করবেন বলেও কমান্ডার শাহাদাৎ হোসেন জানান।
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আরিফুর রেজা ইমন জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিজভী আলম রানার ঘটনাটি আমি ফোনে ফোনে শুনেছি। ফেইসবুকে তাঁর যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তা আমি দেখার সুযোগ পাইনি। সাংগঠনিকভাবে জেলা কমিটি এর তদন্ত করবে। যদি সভাপতি রানা দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শিকদার মো. মশিউর রহমান জানান, বিজিবি’র কাছে কয়েকজন আটক আছে আমরা শুনেছি। কিন্তু বিজিবি আমাদের কাছে এখনো কাউকে হস্তান্তর বা লিখিত অভিযোগ দেয়নি। বিষয়টি তদন্ত করছি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের অভিযোগে উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নবীনূর রহমানকে গণধোলাই দেয় স্থানীয়রা। এঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে জেলা কমিটির কাছে।

মন্তব্য

মন্তব্য