গলাচিপায় বীজতলা  রক্ষা করতে বাঁধ কেটে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ কৃষক গোষ্ঠী 

মু. জিল্লুর রহমান জুয়েলে, পটুয়াখালী।
পটুয়াখালীর গলাচিপায় হরিদপুর-শাঁখারিয়া সড়কে আদম ব্রিজের এলাকায় খোলা খাল বাঁধ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতায় ইরি মৌসুমের  আবাদী জমির বীজতলা পচেঁ যাওয়ায়  এলাকার হাজার হাজার কৃষক ক্ষুব্দ হয়ে ১৯ জুলাই শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে নির্মাণাধীণ ব্রীজের  ডাইভার্সন বাঁধ কেটে দিয়েছে কৃষকরা।
চলতি বছরের টানা বৈরীআবহাওয়া আর ভারী    বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে রয়েছে গোলখালী,  সুহরী ও ছোটগাবুয়ার ৫ হাজার কৃষকের কৃষিজমি। এসব গ্রামের ফসলী জমি, পানের বরজ পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এদিকে নির্মাণাধীন ব্রিজ এলাকার বাঁধ কেটে দেওয়ার খবর পেয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মতিউর  ইসলাম চৌধুরী , গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. রফিকুল ইসলাম ও গলাচিপস থানার অফিসার ইনচার্জ আখতার মোর্শেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের সাথে আবাদী জমির পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
 ব্রিজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্সের সাইট ম্যানেজার গোলাম মাওলা মিটু বলেন, শুরবার সকালে এলাকার কৃষকরা দলবদ্ধভাবে এসে হঠাৎ করেই বাঁধ কেটে দেয়। তিনি আরো বলেন, তিন মাসে আগে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করলেও পুরনো ব্রিজ ভাংতে সময় লেগেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে যাবে।
এদিকে গোলখালী ইউনিয়নের সুহরী গ্রামের পান চাষী নাসির উদ্দিন জানান, তার নিজের তিন একর কৃষি জমি রয়েছে, এর মধ্যে তিন কুড়ি পানের বরজও আছে। ধান চাষের জন্য বিআর- ১১, ২২ ধানের বীজ তিনবার বোপন করেছিলেন। কিন্তু পানিতে তলিয়ে থাকায় সব নষ্ট হয়ে গেছে। অপর দিকে পানের বরজ তলিয়ে থাকায় গত কয়েক দিন ধরে পাম্প মেশিন দিয়ে পাানি নিস্কাশনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বহস্পতিবার তাও আর সম্ভব হয়নি। এখন সব বরজ পানিতে তলিয়প নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে তার প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছে। একই ইউনিয়নের ছোটগাবুয়ার কৃষক আশ্রাফুজ্জামন লিটন জানান, সাত একর জমিতে ধান চাষ করবো। দুই বার বীজ বপন করেও জলাবদ্ধতার কারণে তা নষ্ট হয়ে যায়। বীজ বপণের মৌসুম শুরু হলেও বীজ বপণ করতে পারিনি। পানচাষী নিতাই সাধু, অবিরাম সাধু ও মন্টু বিশ্বাস ওই গ্রামের বড় পান চাষী। তারা জানান, সড়ক বিভাগ অপরিকল্পিতভাবে আদম ব্রিজ এলাকার খোলা খাল ডাইভার্সন বাঁধ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করায় প্রায় ৫ হাজার কষক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ মো. সামস্ মোকাদ্দের বলেন, ‘বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা একটু হবেই। ব্রিজটি নির্মাণের কাজ শেষ করতে এখনো এক মাসের মতা সময় লাগবে বলে নিজের দ্বায় ভার এরিয়ে যান।
জলবদ্ধতার বিষয়ে  গোলখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাশির উদ্দিন হাওলাদার বলেন,পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ও গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং কৃষকদের কথা বিবেচনা করে বাঁধের কাটা স্থানে কাঠ দিয়ে অস্থায়ী কালবার্ড করে দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য

মন্তব্য