তালায় অবৈধ বৈদ্যুতিক শিয়াল মারা ফাঁদে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু ……..

মোঃ মোকলেসুর রহমান তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি//
সাতক্ষীরার তালায় শিয়াল মারার অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদে স্পৃষ্ট হয়ে আরাফাত (৯) নামের তৃতীয় শ্রণীর এক স্কুল ছাত্রের করুণ মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার নেহালপুর গ্রামের খায়রুল ইসলাম শেখের ছেলে। শুক্রবার (২২ মার্চ ) সকালে নিহত আরাফাত বন্ধুদের সাথে স্থানীয় জনৈক এরফান শেখের আম বাগানে ফুট বল খেলছিল এক পর্যায়ে বলটি পাশের মৃত ইমান আলী শেখের ছেলে মেহেদী শেখের পোল্ট্রি খামারের নিকট গেলে আরাফাত বলটি আনতে যায়। এসময় বলটি আনতে গিয়ে খামারের পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
এদিকে ঘটনার খবরে তালার একদল সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় চরমভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে বলে ঘটনার শিকার সাংবাদিকরা দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ,একই এলাকার মৃত ছেফাত উল্ল্যাহ’র ছেলে নিজেকে সেনাবাহীনির সার্জেন্ট পরিচয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারণ সম্পর্কে কৈফিয়ৎ তলব করেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজেকে সেনাবাহীনির সার্জেন্ট পরিচয় দিয়ে ছুটিতে বাড়ি এসেছেন বলে ঔদত্য ও অশ্লীল ভাষায় সাংবাদিকদের বলেন,২/৪ জন মারা গেলেও তাতে সাংবাদিকদের কি? ইত্যাদি সব অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে থাকেন একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের গাছে ঝুলিয়ে পেটানোর হুমকি প্রদর্শন করেন।
স্থানীয়রা জানায়, খামার মালিক মেহেদী শেখ ৬/৭ বছর পূর্ব থেকে প্রায় ৩ শ’ গজ দূরে তার বাড়ি থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে তার খামারের চার পাশে অরক্ষিত ভাবে ঐ শিয়াল মারার ফাঁদ পেতে আসছে।
প্রসঙ্গত,এর আগেও উপজেলার শিরাশুণী এলাকায় একইভাবে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে জনৈকা বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছিল। তবে ঐ ঘটনাও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কারো বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি।
স্থানীয়রা জানায়, সর্বশেষ ঘটনায় কোথাও কোন মামলা হয়নি এমনকি লাশের ময়না তদন্ত ছাড়াই বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে শিশুটির লাশের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এব্যাপারে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম সন্তোষ কুমার সাহার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,বিষয়টি নিয়ে কেউ তার কাছে কোন প্রকার অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে বিষয়টি দেখতেন তিনি।
এব্যাপারে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী রাসেল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,লাশের ময়না তদন্ত হয়নি। থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।
সর্বশেষ এলাবাসী জানায়,কথিত সার্জেন্ট উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা না করেই লাশের ময়না তদন্ত ও কোথাও কোন মামলা না করে লাশের দাফন সম্পন্ন করেছে।
এদিকে এঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা তাদের লাঞ্ছিতকারী সেনাবাহিনীর সদস্য’র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

মন্তব্য

মন্তব্য