যদি আমরা সত্যিকারের শান্তি খুঁজে পেতে চাই, যদি আমরা মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের যুদ্ধ চালিয়ে নিয়ে যেতে চাই ,তবে তা শুরু হবে আজকের শিশুদের দ্বারা।

স্টাফ রিপোর্টার//এই উক্তি বলে দেয় বর্তমান পৃথিবীর বাস্তবতাই শিশুদের তাৎপর্য। শান্তিময় পৃথিবীর অন্বেষণ মানব সভ্যতার আদি লক্ষ এবং নিঃস্বার্থ ভালবাসাই সেই লক্ষ্য পূরণের একমাত্র হাতিয়ার। শিশুরা সৃষ্টির জন্ম লগ্ন থেকেই নিঃস্বার্থ ভালবাসার একমাত্র প্রতীক। তথাকথিত আধুনিক সভ্যতার জাঁতাকলে পিষ্ট এই নিঃস্বার্থ শিশুর পরিচয় আজ বিভক্তিময়। আজ তার একটি অংশ সমাজে বিবেচিত হয়

পথশিশু বলে। পথশিশুর সংজ্ঞায় বলা হয় সমাজে যারা সকল প্রকার সুবিধা বঞ্ছিত,রাস্তাই যাদের জীবন,ভিক্ষা করা যাদের বেচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।এই পথশিশু উপাধি আমার নিকট বরই আপত্তিকর। আমরা কি কখনও সমাজের উচু শ্রেণীর শিশুদের যারা আধুনিক সকল সুবিধা প্রাপ্ত ,যারা ইট তক্তার তৈরী গৃহে বাস করে,তাদের কি আমরা ‘গৃহপালিত শিশু’ নামে ডাকি।এই কথার উত্তরে একটাই উত্তর ’অবশ্যই না’। তবে এই সকল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কেন আমরা পথশিশু নামে অভিহিত করবো। বিষয়টি কি কিঞ্চিত লজ্জাকর নয়।’অবশ্য যদি আমাদের লজ্জা নামক বিশ্লেষণ থেকে থাকে! বাংলাদেশ পরিসংখ্যান অধিদফতরের এক জরিপে বলা হয়েছে, সারা দেশে ১০ লক্ষাধিক পথশিশু রয়েছে। এদের মধ্যে ৫ ভাগ পথশিশু অস্থায়ীভাবে বসবাস করে রাজধানীতে, বাকি ৯৫ ভাগ সারা দেশের বিভাগ ও জেলা শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

পরিসংখ্যানে পথশিশুর সংখ্যা রাজধানীর পরের অবস্থানে আছে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ। এসব পথশিশুর বেশির ভাগই বিপজ্জনক হারে মাদক সেবনে আসক্ত হচ্ছে একটি এনজিওর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পথশিশুদের ৮৫ ভাগই কোনো না কোনো মাদক সেবন করে। এ ছাড়া ধূমপান করে না এমন পথশিশু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। প্রথমে তারা ধূমপানে আসক্ত হয়ে পর্যায়ক্রমে গাঁজা থেকে শুরু করে সব ধরনের মাদকই স্পর্শ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদকাসক্তির এক পর্যায়ে শিশু-কিশোররা অপরাধীদের সাথেও যোগ দিচ্ছে। এতে বলা হয়, ৪৪ ভাগ পথশিশুর সাথে পুলিশের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। যার ফলে তারা যেকোনো অপরাধ করতে ভয় পায় না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শতকরা ৩৪ দশমিক ৮ ভাগ পথশিশু কোন একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসবাস করে ১ থেকে ৬ মাস। ২৯ ভাগ পথশিশু স্থান পরিবর্তন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কারণে, আর ৩৩ ভাগ পাহারাদারদের কারণে। এরা ফুটপাথে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটালেও প্রায় ৫৬ ভাগ শিশুকে মাসিক ১৫০-২০০ টাকা নৈশ প্রহরী বা মাস্তানকে দিতে হয়। বিবিএসের ওই একই গবেষণায় বলা হয়, পথশিশুদের প্রায় ৪৪ ভাগ ধূমপান করে এবং রাতে ঘুমানোর জন্য ৪১ ভাগ শিশুর কোন বিছানা নেই। পথশিশুদের প্রায় ৪০ ভাগ প্রতিদিন গোসল করতে পারে না ও ৩৫ ভাগ শিশু খোলা জায়গায় পায়খানা করে। কোন মতে খাবার যোগাড়ের জন্য ৮০ ভাগ পথশিশু বিভিন্ন ধরনের কাজ করে। ৮৪ ভাগের কোন শীতবস্ত্র নেই। এতে আরও বলা হয়, অসুস্থ হলে প্রায় ৫৪ ভাগের দেখাশোনার জন্য কেউ নেই। অর্থের অভাবে পথশিশুদের ৭৫ ভাগ ডাক্তারের কাছে যেতে পারেনা। পরিসংখ্যান কখন ও বাস্তবতাকে পূনার্ঙ্গ ভাবে প্রকাশ করেনা। কিন্তু বাস্তবতাকে সামান্য হলেও বুঝতে শেখায়।বাংলাদেশের মত ছোট দেশ এ জাতীয় বৃহৎ সংখ্যা ধারন করে তবে আমাদের মানবতা আজ কোথায় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।সরকার একা কখন ও এই সমস্যা সমাধান করতে পারবেনা যদি না তার জনগন তাকে সমর্থন না দেয়।আর একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জনগন হয়ে কেন আমরা সুবিধা বঞ্ছিত মানুষের দুঃখ দূরীকরণে হাত বাড়াবো না। স্বপ্নছোঁয়া পথশিশু মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জ শহরের লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্নে একটি অস্থায়ী পথশিশু আশ্রয়কেন্দ্র এবং পথশিশু পাঠশালা তৈরী করে কিছু ছিন্ন মূল শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং তাদের আথির্ক ভাবে সচ্ছলতায় আনার একান্ত প্রয়াস চালাচ্ছে। স্বপ্নছোঁয়া পথশিশু মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর কর্ণধার হাইউল ইসলাম প্রধান (হাবিব) ভাইয়ের প্রতি রইল আমাদের অসংখ্য শুভ কামনা। এইরকম যদি আমরা প্রতিটি শহরে নিজে বা বন্ধুদের উদ্যোগে অল্প অল্প কিছু পথশিশুদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করি তবে হয়তো একদিন আমাদের এ সোনার বাংলাদেশ বাস্তবেই এই নামের সম্মান রাখবে। আমাদের খুব বেশি কিছু করার দরকার নেই। আমদের কাছে সৃষ্টিকর্তা দুটি উপহার দিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাদের যথাযথ ব্যবহার করলেই হয়।‘ভালবাসা এবং মানবতা। প্রতিদিন আমাদের সাথে এই সব ছিন্ন মূল শিশুদের কারো না কারো সাথে দেখা হয়।বেশি কিছুনা,শুধু একটু ভালবাসা তাদের মাঝে ছড়িয়ে দিলে হয়তো এই ভালবাসাই তাদের কে দিতে পারে সুন্দর জীবনের নতুন সপ্ন। আমরা প্রত্যেকেই যদি আমাদের মানবতাবাদ জাগ্রত করি তবে একদিন এই ছিন্ন মূল শব্দটি হারিয়ে সবাই মূলে ফিরে যাবে।।এটাই হোক আমাদের আকাঙ্খা। স্বপ্নছোঁয়া পথশিশু মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাইউল ইসলাম প্রধান (হাবিব) আরো বলেন- এই ছোট ছোট শিশুরা যদি মানুষের কাছ হাত পেতে অল্প আয় দ্বারা তার পরিবারের জন্য ভালোবাসা দেখাতে পারে তবে আমরা সমাজে যারা স্বচ্ছল তারা কেন এই পথশিশুদের জন্য ভালবাসা দেখাতে কার্পণ্য করবো। আমি তাই চেষ্টা করছি অন্তত আমার জিবনের বিনিময়ে হলেও ২০১৯ সালের ১৬ই ডিসেম্বর চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পথশিশু মুক্ত নারায়ণগঞ্জ ঘোষণার মধ্যদিয়ে সারা দেশব্যাপী এই কার্যক্রম চালিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। এই সবুজের ওপারে হউক অন্য সূর্যোদয় পৃথিবী হোক পথশিশুদের জন্য নিরাপদ নির্ভয় আশ্রয়।

মন্তব্য

মন্তব্য