বান্দরবান ২৮ বৌদ্ধ শরণার্থী ফেরত গেছে মিয়ানমার

ডেভিড সাহা, বান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবানের রুমা সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসা বৌদ্ধ শরণার্থীদের আটটি পরিবারের ২৮ সদস্য স্বেচ্ছায় স্বদেশে ফিরে গেছেন।
বিজিবির বান্দরবান সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল জহিরুল হক রোববার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রুমা উপজেলার দুর্গম রেমাক্রি প্রানসা সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থানকারী মিয়ানমারের ২৮ শরণার্থী রোববার দুপুরে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। এখন সেখানে ১৩৫ জন আছেন। তারাও চলে যাবেন বলে জানিয়েছেন।’
কর্নেল জহিরুল হক আরও বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি কড়া নজরদারি করছে। কাউকেই অনুপ্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।’
এর আগে গতকাল শনিবার বিজিবির এই কর্মকর্তা হেলিকপ্টারে মিয়ানমার-ভারত সীমান্তের কাছে নেপুপাড়া ক্যাম্পে যান। সেখান থেকে তিনি জিরো লাইনে অবস্থানকারী শরণার্থীদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন।
সরকারি বাহিনীর সঙ্গে গত ডিসেম্বর থেকে রাখাইনে দ্য আরাকান আর্মি’র (এএ) সদস্যরা যুদ্ধ করছেন। যুদ্ধের দামামার মধ্যে সন্তান-সন্তুতি নিয়ে সাধারণ বৌদ্ধরা ভিড় জমান বাংলাদেশ সীমান্তে। তীব্র শীতে দুর্গম পাহাড় পাড়ি দিয়ে তারা প্রথমে আশ্রয় নেন বান্দরবান সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে।পরে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রি প্রানসা ইউনিয়নের দুর্গম চাইক্ষ্যাংপাড়ায় আশ্রয় নেন এসব শরণার্থীরা। সেখানকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর খুমি, খ্য, বম ও রাখাইন সম্প্রদায়ের স্থানীয়রা তাদের খাদ্য সহায়তা দেয়। এদিকে, রোববার বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেছেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো শরণার্থী থাকতে পারবে না। রোহিঙ্গা বা বৌদ্ধ শরণার্থী যেই হোক, কাউকেই এখানে জায়গা দেয়া হবে না। এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।’ তিনি বলেন, ‘প্রথমদিকে বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে যেসব রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছেন, মানবিক কারণে তাদের সহায়তা দেয়া হয়েছে। কিন্তু, পরে তাদের সরিয়ে উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে নেয়া হয়েছে। কোনো রোহিঙ্গাকেই বান্দরবানে জায়গা দেয়া হয়নি। এখন রুমা সীমান্ত দিয়ে যে সব শরণার্থী আসছে, তাদেরও জায়গা দেয়া হবে না।’
মন্ত্রী নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন। এই বৈঠকে জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম, বলিপাড়া ৩৮ বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সানভির আহম্মেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

মন্তব্য