চন্দনাইশে একই জমিতে তিন ধরণের সবজির চাষে সাফল্য

মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ ঃচন্দনাইশে একই জমিতে তিন রকম সবজি উৎপাদিত হওয়ায় কৃষকের মুখে প্রশান্তির হাসি। ফলে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে।
শিক্ষা বিজ্ঞান থেকে শিক্ষা ব্যবস্থা,গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র প্রযুক্তির ছোয়া লেগেছে। প্রযুক্তির কল্যাণে দেশ এখন স্বনির্ভর এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণ। জাতি হিসেবে বাঙ্গালি দাঁড়িয়ে যাচ্ছে নিজেদের পায়ে। একই ভাবে কৃষি খাতে দেশ এখন কোনভাবে পিঁছিয়ে নাই। এমনকি বিদেশেও খাদ্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। অন্যান্য ক্ষেত্রের ন্যায় কৃষি ক্ষেত্রে ও অর্জন করেছে সফলতা। আধুনিক প্রযুক্তি সে ছোঁয়ায় গ্রামীন কৃষকদের মাঝেও এসেছে পরিবর্তন। এখন ফসল ফলনে নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনে সচেষ্ট কৃষি বিভাগ। মাত্র ১ দশক আগেও যেখানে এ এলাকায় জমিগুলো এক ফসলি চাষ করে কৃষকদের বসে থাকত হত। সেখানে এখন জমি গুলো বছরে একটি দিনও অনাবাদি থাকছে না। সারা বছরই কোন না কোন ফসলের চাষ হচ্ছে।
চন্দনাইশ-সাতকানিয়া উপজেলার শঙ্খ নদীর দ্ইু পাড়ে ১০টির অধিক গ্রামের লোকজন সবজি চাষের সাথে জড়িত। এতে লক্ষাধিক কৃষক সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনা দ্বার খুলতে পেরেছে নতুন নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগের কারণে। প্রযুক্তিগত কারণে এখন কৃষকেরা একই একসাথে কয়েক রকম সবজি চাষ করছে। জমিতে একই সাথে দুই বা ততোধিক ফসলের চাষ করা শঙ্খ নদীর উপকূলবর্তী চরের একাধিক সবজি ক্ষেত সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কোন জমিতে নিচে মূলা, গাজর, সবজি চাষ উপরে অন্য ধরণের মাচাং তৈরি করে দেয়া হয়েছে দেশী লাউয়ের লতা, বরবটি, আখ। একইভাবে আবার কোন কোন জমিতে নালা কেটে লাগানো হয়েছে শীতকালীন ধনিয়া পাতা, মরিচ, উপরে মাচাং দিয়ে চাষ করা হচ্ছে কাকরল আর তিত করল। একই জমিতে দুই থেকে তিন ধরনের ফসল চাষের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জমির একটি ফসল উঠে গেলে আর একটি ফসল জমিতে থেকে যায়। আর সে ফসল থেকে দ্রæত উৎপাদন পাওয়া সহজ হয়। ফলে বছরের পর বছর একই জমিতে একসাথে দুই থেকে চার রকমের ফসল উৎপাদনে আগ্রহীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। তেমনি এ রকম দু’ফসলা তিন ফসলা, জমিতে ক্ষেতের সংখ্যাও বাড়ছে। এ ধরণের ফসল উৎপাদন করে শত শত কৃষক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সংসারের অভাব ঘুচাতে সক্ষম হচ্ছে।
শঙ্খচরের বিশাল এলাকা জুড়ে জেগে উঠা এসব জমির মাটি পলি মিশ্রিত, দো-আঁশ হওয়ায় জমিগুলোর সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং উপযোগি বলে জানালেন কৃষকেরা। একই জমিতে কয়েক ধরণের ফসল ফলিয়ে লাভের মুখ দেখা কৃষকদের মধ্যে নুর মোহাম্মদ, আমির হোসেন, হাছি মিয়া, রফিক, আবদুল শুক্কুর অনেকেই উচ্ছাসিত একই জমিতে একই সাথে কয়েক ধরনের সবজি পলিয়ে সফল হয়েছেন বলে জানান। তাদের মতে পরিশ্রম করলে কোনভাবে লোকসান হওয়ার কথা নই। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না ঘটলে শঙ্খনদীর উপকূলবর্তী চরে উৎপাদিত সবজি চট্টগ্রামের সিংহভাগ চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। একই জমিতে একাধিক ধরণের ফসল নয়, অনেকেই সাথী ফসলের চাষও করছেন একই জমিতে। সে রকম জমি গুলোতে দেখা যায়, জমিতে নালা কেটে রোপন করা হয়েছে আখের ডগা, আবার দুইটির নালার মাঝখানের জায়গায় চাষ করা হয়েছে নানা ধরণের শাক, মূলা, গাজর, বেগুন। আবার একইভাবে একই জমিতে বেগুন গাছের মাঝখানের সারিতে রোপন করা হয়েছে মূলা, বরবটি, শিমের চারা। পুরো চর জুড়ে সবজি ক্ষেতের সবুজে সবুজে ভরা উঠার দৃশ্য দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাসান ইমাম বলেছেন, একই জমিতে দুই বা তিনটি ফসলের চাষ বা একাধিক চাষ হওয়ার বিষয়টি সত্য। কৃষি ক্ষেত্রে এটি একটি আশা ব্যঞ্জক দিক। এভাবে প্রত্যেক এলাকায় একই জমিতে দুই ফসল বা ততোধিক ফসলের চাষ হলে, দেশে কৃষি বিপ্লব ঘটবে। 

মন্তব্য

মন্তব্য