তিতাসে স্ত্রীকে অপহরণের অভিযোগে স্বামী কারাগারে

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় স্ত্রীকে অপহরণের অভিযোগে স্বামী কে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উলুকান্দি গ্রামে।

এলাকাবাসী সুত্রে জানান যায় ওই গ্রামের মৃত আসাদ মিয়ার মেয়ে রাফিয়া ইসলাম (২৩) একই গ্রামের কালাই মীরের ছেলে আলাউদ্দিন (৩১) এর সাথে প্রায় ৭/৮ বছর পূর্বে ইসলামি সরিয়া মোতাবেক বিয়ে হয়। সম্প্রতি আলাউদ্দিন প্রবাস ওমান থেকে ছুটিতে দেশে আসলে ৫ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং তারিখ বিকালে ঔষধ কিনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় রাফিয়া।
তাকে অনেক খোজাখুজি করে না পেয়ে তার বড় ভাই বাহাউদ্দিন বাদী হয়ে ১২/১২/১৮ইং তারিখে তিতাস থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রি করেন, তিতাস থানা পুলিশ মোবাইল নাম্বার টেকিং করে গত ০৬/০১/১৯ইং তারিখে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ভিংলাবাড়ি গ্রামের ফুল মিয়ার ঘর থেকে দেবিদ্বার থানা পুলিশের সহযোগিতায় তিতাস থানা পুলিশ রাফিয়াকে উদ্ধার করে তিতাসে এনে তার পরিবারের নিকট বুঝিয়ে দেয়।
এদিকে ফুল মিয়ার স্ত্রী আলেহা বেগম রাফিয়াকে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী দাবি করে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং-২ আদালতে স্বামী আলাউদ্দিন ,রাফিয়ার বড় ভাই বাহা উদ্দিন ও মামাত ভাই ইসমাইলকে আসামী করে অপহরণ মামলা করে।
মামলার এজাহার পর্যলোচনা করে উক্ত মামলাটি জরুরী ভিত্তিতে এফ.আই.আর হিসেবে গন্য করে আইন অনুযায়ী তদন্ত পূর্বক ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭৩ ধারায় রিপোর্ট দাখিল করার জন্য দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন বিজ্ঞ বিচারক।
দেবিদ্বার থানার ওসি বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশ প্রাপ্ত হইয়া ১০/০১/১৯ই তারিখে উক্ত মামলাটি এফ.আই . আর করে রাতেই তিতাস থানা পুলিশের সহযোগিতায় ভিকটিমের বাপের বাড়ি তিতাস উপজেলার উলুকান্দি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে এবং স্বামী আলাউদ্দিন কে গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়ে কোর্টে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে মামলার বাদী আলেহা বেগম বলেন ভিকটিম ২০/০২/১৮ইং তারিখে তার প্রথম স্বামী আলাউদ্দিদনকে তালাক প্রদান করে এবং কয়েক মাস পর ভিকটিম রাফিয়া ইসলাম আমার ভাই মো. মোতালেব মিয়াকে বিয়ে করে সংসার শুরু করে।
এদিকে ৬/০১/১৯ ইং তারিখ রাতে আলাউদ্দিনসহ কয়েক জন লোক এসে জোর করে রাফিয়া ইসলামকে তুলে নিয়ে যায়।এসময় পুলিশ সাথে ছিল বলে আলেহা বেগম সাংবাদিকদের সাথে স্বীকার করেছেন।ভিকটিমের মা সুফিয়া বেগম বলেন রাফিয়া প্রেম কের আলাউদ্দিনকে বিয়ে করে, বিয়ের পর আলাউদ্দিন বিদেশ চলে যায় এবং টাকা উপার্জন করে আমার মেয়ে রাফিয়ার নামে ১০ শতক জমি কিনে এবং বিদেশে উপার্জনের সব টাকা রাফিয়ার নামে পাঠায়।
জামাই ছুটিতে দেশে আসতেছে জানতে পেরে রাফিয়া বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়, আমরা অনেক খোজাখুজি করে না পেয়ে আমার ছেলে বাহাউদ্দিন বাদী হয়ে তিতাস থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করি যার নং-৪০০তাং১২/১২/১৮ইং। তিতাস থানা পুলিশ ও দেবিদ্বার থানা পুলিশ মিলে ০৬/০১/১৯ইং তারিখে দেবিদ্বার উপজেলার ভিংলাবাড়ি গ্রামের ফুল মিয়ার স্ত্রী আলেহা বেগমের ঘর থেকে আমার মেয়েকে উদ্ধার করে আমাদের হাতে তুলে দেয় রাফিয়াকে।
ভিকটিম রাফিয়ার ভাই বাহাউদ্দিনের করা নিখোঁজ জিডির তদন্ত কর্মকর্তা তিতাস থানার এস আই ইউসুফ বলেন নিখোঁজ জিডির আলোকে মোবাইল নাম্বার টেকিং করে দেবিদ্বার থানা পুলিশের সহযোগিতায় ওই থানার ভিংলাবাড়ি ফুল মিয়ার স্ত্রী আলেহা বেগমের ঘর থেকে ভিকটিম রাফিয়াকে উদ্ধার করে তার মা সুফিয়া বেগম ও ভাই বাহাউদ্দিনের কাছে বুঝিয়ে দেই ।
এদিকে দেবীদ্বার থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার বলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং-২ কুমিল্লা আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের নির্দশ প্রাপ্ত হইয়া আমি মামলাটি এফ .আই. আর করি এবং তদন্ত সাপেক্ষে রিপোর্ট দেয়া হবে।

মন্তব্য

মন্তব্য