কালীগঞ্জে বোরহান হত্যায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বোরহান উদ্দিন নামে এক জেলেকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ নৌকাসহ পানিতে ডুবিয়ে দেয়ার অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে বোরহানউদ্দিনের স্ত্রী তানিয়া বেগম গতকাল বৃহস্পতিবার কালীগঞ্জ থানায় ৩০২,২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। নিহত বোরহানউদ্দিন কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ নারগানা গ্রামের আলী আজগরের ছেলে।
কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নারগানা গ্রামের অভিযুক্ত পরিমল চন্দ্র বর্মন (৫২), কমল চন্দ্র বর্মন (৩৪) ও পাপন চন্দ্র বর্মনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে, মামলা নং ২০।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ২ জানুয়ারি রাতে বোরহান উদ্দিন শীতলক্ষ্যা নদীতে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। ১৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর মঙ্গলবার সকালে বোরহানের শ্যালক মামুন মিয়া কৌশলে জেলে কমল চন্দ্র বর্মনকে ঘোড়াশাল নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে কমল চন্দ্র মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বোরহান উদ্দিনকে হত্যা করার বিষয়টি স্বীকার করে। পরে এলকাবাসী কমল চন্দ্র, পরিমল চন্দ্র ও পাপন চন্দ্রকে আটক করে পুলিশে দেয়।
পলাশ উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. সাদেকুন বারি জানান, লাশের সন্ধানে পলাশ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও টঙ্গী থেকে একদল ডুবুরি এসে নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ ২৪ ঘন্টা উদ্ধার অভিযান চালানোর পর বধুবার বিকেল ৩ টায় জনতা জুট মিলের পাশে শীতলক্ষ্যা নদীর প্রায় ২৫ ফুট পানির তল থেকে ডুবে যাওয়া নৌকাসহ জেলের লাশটি উদ্ধার করা হয়। লাশের গায়ে কাঁথা ও মাছ ধরা জাল মোড়ানো ছিল। এ কারণে লাশটির শরীরে তেমন কোনো পচন ধরেনি। পরে পলাশ থানা পুলিশ উদ্ধার হওয়া লাশটি কালীগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়।
কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) রাজীব চক্রবর্তী বলেন, নিহত বোরহানউদ্দিনের লাশের ময়নাতদন্তের পর তার লাশটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে তিনজনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

মন্তব্য

মন্তব্য