কাঁদলেন, নৌকার পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকারও করলেন মনোনয়ন বঞ্চিত দুর্জয়

সাইফুল আলম সুমন,নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও তৎপর। যেকোনও ত্যাগের বিনিময়ে সব ষড়যন্ত্র, শত্রুতা ভুলে আওয়ামীলীগকে জয়ী করার চেষ্টা করতে হবে। যদি আওয়ামীলীগকে জয়ী করতে না পারি, তাহলে আবারও রাজাকার, আলবদর, যুদ্ধাপরাধী, আল-শামসরা ক্ষমতায় আসবে। আবারও দুঃশাসন শুরু হবে। এ অবস্থা হতে দেওয়া যাবে না।

শনিবার বিকেলে শ্রীপুর ভবন প্রাঙ্গনে গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর-ভাওয়ালগড়, পিরুজালি ও মির্জাপুর) আসনের মনোনয়ন বঞ্চিত ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামিল হাসান দুর্জয় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এ কথাগুলো বলেন। নেতাকর্মীদের সামনে কথা বলতে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকবার টিস্যু দিয়ে চোখের পানিও মুছলেন মনোনয়নবঞ্চিত এই আওয়ামী লীগ নেতা।

দুর্জয় ঢাকা থেকে শ্রীপুরের নিজ বাড়িতে এলে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও এসে ভিড় করেন। এসময় সংবাদকর্মীরা আসলে তাদের সামনেও তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মীদের মধ্যে কান্নার ঢল নামে।

অর্নিধারিত সভায় অ্যাডভোকেট জামিল হাসান দুর্জয় নেতাকর্মীদের শান্ত থেকে শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার ঘোষনা দেন। এসময় সাংসদপুত্র জামিল হাসান দূর্জয় বলেন, আমার লক্ষ্য ছিল আমার বাবার মত আপনাদের কল্যানে কাজ করার। আমার বাবার জীবনে কোন অন্যায় কাজ করেন নাই। আর অনেক সংসদ সদস্য আছে যারা সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় অনেক দুর্নাম ও ব্যথা নিয়ে চলে যেতে হয়েছে। কিন্তু আমার বাবা সম্মানের সহিত সংসদ সদস্য হিসেবে জীবন কাটিয়েছেন। যেদিন গনতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা অন্য কাউকে মনোনয়ন দিয়েছেন সেদিন থেকেই আমি তাকে মেনে নিয়েছি। ২৫ তারিখে ঘোষনার পর সাথে সাথে আমি শোকরিয়া আদায় করেছি। শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তাকেই নৌকা প্রতীকে বিজয়ী করতে হবে। নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করা মানে শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করা। দু:খ থাকতে পারে কষ্ট থাকতে পারে কিন্তু এই ব্যথা ভুলে দুর্বার শক্তি নিয়ে নৌকার জন্য কাজ করব। নৌকা যদি বিজয়ী না হয় তাহলে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আসবে। দেশ সংকটে পড়ে যাবে। তাই মনোনয়ন যাকেই দেয়া হউক নৌকার বিজয়ের জন্য সকলকেই কাজ করতে হবে ।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার বাবাকে মনোনয়ন দিয়ে এমপি করেছিলেন। আমি আমার বাবার সাথে থেকে চেষ্টা করেছি, আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন কাজ করতে। আমি আওয়ামীলীগের কাজ করতে এসেছি। সেই প্রত্যয় নিয়েই এসেছি। যারা আওয়ামীলীগকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চেয়েছে, তারা এখনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

তিনি আরও বলেন, নেতাকর্মীদের অনুরোধ করবো, এই ষড়যন্ত্র থেকে আপনারা সাবধান থাকবেন। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে যে ক্ষতি আমার হয়েছে, এটা কোনো ক্ষতি না। যদি আমরা আসনটি ধরে রাখতে না পারি। যেকোনও ত্যাগের বিনিময়ে সব ষড়যন্ত্র, শত্রুতা ভুলে গিয়ে আসুন আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আওয়ামীলীগের প্রতীক “নৌকা” কে বিজয়ী করার চেষ্টা করি। আভ্যন্তরীন প্রতিযোগীতা ভুলে গিয়ে নৌকার পক্ষে সবাই ঝাঁপিয়ে পরি।

তিনি বলেন, এ আসনে প্রধানমন্ত্রী যাকে নৌকা মার্কা দিয়েছেন তাকে আমি অভিনন্দন জানাই। আমরা আগামী ৩০ ডিসেম্বর তাকে আমরা বিজয়ী করবো, ইনশাল্লাহ। ব্যক্তির ওপর রাগ-ক্ষোভ অভিমান থাকতেই পারে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের রাগ-ক্ষোভ থাকা অনুচিত।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকিরুল হাসান (জিকু) সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের বক্তব্য দেন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ্যডভোকেট জাকির হোসেন খান মামুন, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কমর উদ্দিন, শ্রীপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক ভিপি আহসান উল্লাহ, রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন, গাজীপুর জেলা পরিষদের সদস্য নূরুল ইসলাম শিমুল, আনোয়ার হোসেন সরকার, পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান বিএ, কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আইনুল হক প্রমূখ।

মন্তব্য

মন্তব্য