মুয়ালপী পাড়া  প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক সংঙ্কট ও প্রধান শিক্ষক একজনের  দ্বারা স্কুলের যাবতীয় কার্যক্রম চলছে

লাল সাংলম (বম), রুমা প্রতিনিধি, বান্দরবান //
রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের অন্তর্গত মুয়ালপী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর  শিক্ষা ব্যবস্থা করুন দশা।  কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন ব্যক্তি যে কেউ শঙ্কিত না হয়ে পারবেন না। চরম শিক্ষক সংকট ও পাঠদানের সমস্যায় জর্জরিত উক্ত বিদ্যালয়টি।
প্রসঙ্গত; মুয়ালপী পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চরম শিক্ষক সংঙ্কট ও সপ্তাহে ২/৩ দিন মাত্র স্কুল খোলা থাকে বিদ্যালয়টি তাও একজন প্রধান শিক্ষকের দ্বারা পুরো স্কুল পরিচালনা করে আসছেন। অনেক পুরনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এটি।  বর্তমানে বম ও মার্মা সম্প্রদায় মিলে মোট ৭০-৮০জন ছাত্রছাত্রী অধ্যায়ন করে আসছে। পূরনো স্কুল ঘর ভেঙে নতুন করে ২০১৬-১৭ইং অর্থবছরে পিইডিপি-৩ বরাদ্দে ৫০ লক্ষ টাকার ব্যয়ে দ্বিতল ভবন ৬ কক্ষ বিশিষ্ট ভবন নির্মিত হয়। কিন্তু বর্তমানে চরম শিক্ষক সংকটে প্রায় বন্ধ হতে চলেছে এই বিদ্যালয়টি।
 খোঁজ নিয়ে জানা যায় বর্তমানে একজন প্রধান শিক্ষক দ্বারা পুরো স্কুল পরিচালিত হয়। একজন সহকারী শিক্ষক জনাব লালরামকিম বম সহকারী পদ থেকে বর্তমানে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি হাওয়ায় অন্য স্কুলে বদলি করা হয়েছে। অন্য একজন জনাব স্টিফেন ত্রিপুরা তিনি রয়েছেন ডিপিএড প্রশিক্ষনরত অবস্থায়।  এ নিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে কর্তব্যরত জনাব ভানরামঙাক বলেন, আমার একা পক্ষে পুরো স্কুল পরিচালনা করা সম্ভব নয় কারণ অফিসের কাজে প্রায় আমাকে শিক্ষা অফিসে যেতে হয় বাধ্য হয়ে আমাকে স্কুল বন্ধ রাখতে হয়। আমি খুবই চিন্তিত ও উৎদিগ্ন ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখা নিয়ে বলে জানান।অভিভাবকরা এ নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছেন।  লালপেক বম নামে একজন অভিভাবক জানিয়েছেন, সপ্তাহে ২/৩ দিন বেশি স্কুল চলে না, সরকারি ছুটির ছাড়া বাকি দিনগুলোও শিক্ষক অভাবে স্কুলটি বন্ধ থাকে। বর্তমানে আমার ২ সন্তান এই স্কুলে পড়ালেখা করে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত, এভাবে আমাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া চলতে থাকলে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলে জানান।  অন্যদিকে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হ্লাথোইচিং মারমা সাথে মুঠোফোনে কথা বলে তিনি জানান, আমরা এই বিষয় নিয়ে ৫ মাস আগে উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় কাছে অবগত করেছি এবং তিনি এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলেও আশ্বাস দেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমরা কোন সুফল পাইনি বলে জানান। আর স্কুল বন্ধতার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সত্যতা স্বীকার করেছেন।
শিক্ষার মান নিয়ে অত্যন্ত শঙ্কিত অভিভাবকরা। যেখানে স্কুলটি বন্ধ প্রায় উপক্রম পাঠদান ও শিক্ষার মান নিয়ে ভাবতেই পারছে না অত্র পাড়াবাসীরা। অনেক অভিভাবক হতাশা ও নিরাশা হয়ে তাদের ছেলে মেয়েকে বিভিন্ন আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রেখে আসতে হয়। এসব অভিভাবকরা অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। তাই অনতিবিলম্ব পর্যাপ্ত শিক্ষক বরাদ্দ প্রদান করে ভাল পাঠদান ও সুন্দর পরিবেশ তৈরীর জন্য অত্র পাড়াবাসীরা জোড় দাবি জানাচ্ছে।।

মন্তব্য

মন্তব্য