শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে মদনটাকের দুই ছানা

সাইফুল আলম সুমন,নিজস্ব প্রতিবেদক,

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে বিপন্নপ্রায় পাখি মদনটাকের পরিবারে নতুন ২ অতিথির জন্ম নিল। এ মদনটাক পাখি বাংলাদেশের দুলর্ভ পাখিদের মধ্যে অন্যতম। আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে মদনটাক পাখি আজ বিলুপ্তির পথে। সরকারিভাবে জায়গা করে নিয়েছে মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকায়।  রোববার পার্কের ভেতর মদনটাকের শেডে গিয়ে দেখা যায়, মা মদনটাক বাচ্চাগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সদ্যজাত বাচ্চাগুলো নাড়াচড়া করতে পারলেও এরা চলাচল বা উড়তে পাড়ে না। পাশে অন্যান্য মদনটাকগুলো দাড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর পর মা মদনটাক বাচ্চার শরীরে ঠোক বোলিয়ে দিচ্ছে। খাবার তুলে দিচ্ছে বাচ্চাগুলোকে।

সাফারী পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক মো. আনিছুর রহমান বলেন,  মদনটাক মূলত জলচর পাখি হিসেবে পরিচিত। মাছ, ব্যাঙ, সরীসৃপ, কাকড়া, বিভিন্ন জলজ প্রাণী এদের প্রধান খাদ্য। প্রজনন মৌসুম ব্যতীত একাকী নিভৃতচারী পাখি হিসেবে এরা পরিচিত। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে বড় গাছের মগডালে ডালপালা দিয়ে এরা ডিম পাড়ে। স্ত্রী জাতীয় মদনটাক তিন থেকে চারটি পর্যন্ত ডিম পাড়ে এবং ২৮ দিন পরেই ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে।

তিনি আরো বলেন, মদনটাকের মূল অস্তিত্ব দক্ষিণ এশিয়াজুড়েই। তবে বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকায় বিলুপ্ত হয়ে গেলেও সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশে এদের মাঝে মধ্যে দেখা যায়। ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর ও চীন থেকে এরা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠের দিক উজ্জ্বল কালো। শরীর সাদা বর্ণের হয়। ডানার গোড়ায় কালো রঙ থাকে। পালকহীন মুখের চামড়া ও ঘাড় লালচে। গলা হলদে বা লালচে। চোখ সাদা কিংবা ধূসর এবং পা লম্বা। পায়ের পাতা, নখ ও পা সবজে-ধূসর থেকে কালো। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা ও ঘাড়ে বিক্ষিপ্ত ঘন পালক থাকে। পিঠ অনুজ্জ্বল কালো বর্ণের হয়। সাফারি পার্কে মদনটাকে খাবারেরর জন্য নলা ও পুঁটি মাছ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রাকৃতিকভাবে খাবার যোগানের জন্য তাদের আবাস্থলের পাশেই জলাধার তৈরি করে তাতে মাছ ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আবার বাচ্চার খাবারের জন্য প্রতিদিনই ছোট ছোট মাছের যোগান দেয়া হচ্ছে।

সাফরি পার্কের তত্ত্বাবধায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, বাচ্চাগুলো জন্ম হওয়ায় আমরা আশান্বিত। এভাবে বাচ্চার জন্ম হতে থাকলে আমরা প্রকৃতিতে এদের অবমুক্ত করবো।

মন্তব্য

মন্তব্য