সাকিবকে এশিয়া কাপ খেলতে জোর করা হয়নি, পাপন

ক্রীড়া প্রতিবেদক,
সাকিব আল হাসান চেয়েছিলেন চোট পাওয়া আঙুলের অস্ত্রোপচারটা এশিয়া কাপের পর করতে। কিন্তু বিসিবি সভাপতি চেয়েছিলেন যদি খেলতে অসুবিধা না হয়, অস্ত্রোপচারটা এশিয়া কাপের পরেও করতে পারেন। সাকিব এশিয়া কাপ খেললেন। পরে তাঁর চোট কতটা মারাত্মক হলো, সেটি জানা। বিসিবি সভাপতি অবশ্য আজ জানিয়েছেন, সাকিব নিজের সিদ্ধান্তেই এশিয়া কাপ খেলেছে। তাঁকে জোর করা হয়নি।

সাকিব আল হাসান গত ৯ আগস্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে ফিরেই জানিয়েছিলেন, এশিয়া কাপের আগে আঙুলের অস্ত্রোপচার করিয়ে ফেলতে চান। ওই দিন বিকেলে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান কোচের সঙ্গে মিটিং শেষে বলেছিলেন, ‘(অস্ত্রোপচার) এশিয়া কাপের আগেও হতে পারে, পরেও হতে পারে। জিম্বাবুয়ে সিরিজের সময়ও (অক্টোবরে) হতে পারে। আমার মনে হয়, অন্য সময় (এশিয়া কাপের পর) করাটাই ভালো হবে।’

অস্ত্রোপচার নিয়ে দ্বিধা কিংবা ফিটনেস নিয়ে নানা সংশয় থাকার পরও সাকিব এশিয়া কাপ খেলেছেন। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীতই হয়েছে। আঙুলের চোটের অবস্থার এতটাই অবনতি হয়,তাঁর পুরো হাতটাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। এই মুহূর্তে মেলবোর্নের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গ্রেগ হয়ের তত্ত্বাবধানে চলছে তাঁর হাতের চিকিৎসা। প্রশ্ন উঠেছে, সাকিবের এই অবস্থা কেন হলো? যেহেতু বিসিবি সভাপতি চেয়েছিলেন বাঁ হাতি অলরাউন্ডার এশিয়া কাপ খেলুক, চলে আসছে সে প্রসঙ্গটাও। তবে সবচেয়ে বেশি কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে ফিজিও চন্দ্রমোহনকে। ফিজিও কেন বুঝতে পারেননি, সাকিবের আঙুল কী কারণে ফুলে গেছে, কেনই বা এ অবস্থা?

আজ দুপুরে গুলশানে নিজ বাসভবনে সাকিবের চোট নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান, ‘বলতে পারেন, এশিয়া কাপের পরে অস্ত্রোপচারের কথা কেন বললাম। ওর যে অস্ত্রোপচার লাগবে সেটাই তো জানি না। সমস্যা থাকবে। আমাকে চিকিৎসকেরা বলেছেন, ৭০ শতাংশ থাকলেই হবে। এটা নিয়ে খেলতে পারবে। আর অস্ত্রোপচার করলে আগের অবস্থা ফিরে পাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। এটার কথা কেউ বলেনি। আপনারা আমাকে বলেন, এর আগে আমেরিকায় এক-দেড় মাস ছিল, বসেই ছিল। তখনই তো করতে পারত (অস্ত্রোপচার)। আমাকে সে মক্কা-মদিনাতে বলেছে (হজের সময়), ফিজিও বলেছে এটা নিয়ে খেললে (চোট) বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো অসুবিধা নেই। সে খেলতে পারে। তারপরও বলেছি তুমি একজন ডাক্তার দেখাও। আমার ধারণা ছিল অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে (অস্ত্রোপচার) করতে পারে। কোন চিকিৎসক বলেছেন ওর অস্ত্রোপচার লাগবেই, এটা জানা নেই বোর্ডের। অস্ত্রোপচার করার ব্যাপারটা ছিল সাকিব, ফিজিও ও চিকিৎসকের ওপর। সাকিব এশিয়া কাপের আগেই করতে চায়। আমি বলেছি, এশিয়া কাপে খেলা গেলে সে পরে করুক। যদি খেলা যায়, যদি ফিজিও-চিকিৎসক সবুজ সংকেত দেয়। মুশফিক-মাশরাফি তো খেলে যাচ্ছে। আমার কথা হচ্ছে, পারলে খেলুক। যতক্ষণ পারি জান দিয়ে খেলব।’

নাজমুলের কথা হচ্ছে, এশিয়া কাপ খেলতে সাকিবকে মোটেও জোর করা হয়নি, ‘আমাকে সে বলেছে, আঙুলের এই সমস্যা। বলল, অপারেশন করলেই চলে। আমি বলেছি, তুমি ডাক্তারের সঙ্গে দেখা কর। এমন যদি হয়, এখন না করলেও চলবে। তুমি এটা পরে কর । তারপর ওর সঙ্গে মক্কা এবং মদিনায় দেখা, একই কথা। আমি বলেছি, ঝুঁকি নিও না। তুমি ডাক্তার দেখাও। ও জিজ্ঞেস করেছে, কী করব। বললাম, তোমার সিদ্ধান্ত। ও বলল, ফিজিও বলে দিয়েছে অসুবিধা নেই। জিজ্ঞেস করলাম, খেললে খারাপ হতে পারে কি না। বলল, না। এটাই শেষ কথা হয়েছে। আমি হজ করে ঢাকায় আসছি, চার দিন পর হঠাৎ কোচের (স্টিভ রোডস) মেইল দেখলাম, সাকিব দলে যোগ দেবে না (ঢাকায়)। সে আমেরিকায় যাচ্ছে। ওখান থেকে সে সরাসরি এশিয়া কাপের দলে যোগ দেবে (দুবাইয়ে)। তখন আমরা জানলাম সে খেলছে।’

তবে সাকিবের হাত কেন এত ফুলেছে, এভাবে সংক্রমণ হয়েছে, সে প্রশ্ন নাজমুলেরও। বিসিবি সভাপতি চমকপ্রদ এক তথ্যই দিলেন। নাজমুল জানালেন, সাকিব চোট পাওয়া হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ইনজেকশন দিয়েছিলেন, ‘এ রকম হলো কী করে? হঠাৎ করে হাতে এমন পুঁজ হলো কী করে? এটা আমাদের কাছে বিরাট প্রশ্ন। অস্ত্রোপচারের কথা জানতে চাইলাম, আমাকে সবাই বলছে অস্ত্রোপচার করে লাভ নেই। আমাকেও সে বলল,অস্ত্রোপচার করে লাভ নেই, লাগবে না। শুরুতে এটাই শুনে আসছি। এখনো ওই জায়গায় আছে। এখনো ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে আছে। কাল আমি দেবাশীষকে (বিসিবির চিকিৎসক) ফোন করি। জিজ্ঞেস করি, এটা হলো কীভাবে? আমরা সবাই এটা নিয়ে বেশ অবাক। ওদের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, ইনফেকশন ওদের পক্ষে বোঝা কঠিন। বাইরে থেকে বোঝা কঠিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ইনজেকশন দিয়েছে, কাকে জিজ্ঞেস করে দিয়েছে জানি না। এখন ওই ইনজেকশনের জন্য হলো কি না জানি না। আগে থেকে একটু থাকলে স্টেরয়েডের জন্য বাড়তে পারে। কিন্তু সেটাও বলা যাচ্ছে না। এটার প্রমাণ নেই। ও কিছু বলেনি। আসল পরিস্থিতিটা আমরা জানি না, জানার চেষ্টা করছি।

আজ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে বিসিবি সভাপতি ঘুরেফিরে এটিই বলতে চাইলেন, সাকিবকে তাঁরা জোর করে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেননি। কিন্তু সাকিবের আঙুলে যে ভয়াবহ সংক্রমণ হয়েছে, ফিজিওর ভূমিকা কী ছিল? তাঁর জবাবদিহি বিসিবি চাইবে কি না, এ প্রশ্নে নাজমুলের ব্যাখ্যা, ‘আমি শুধু সাকিবের কথা শুনেছি। ফিজিও না এলে কিছু বলতে পারছি না। ফিজিওর সঙ্গে কথা হয়নি। একটা জিনিস আমাকে বলা হয়েছে, ভেতরে ইনফেকশন এভাবে বোঝার উপায় নাই। যখন ইনজেকশন দেয় তখন বলার উপায় নেই। আমাদের কোনো খেলোয়াড়ের চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনো ব্যাপার থাকলে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। সাকিব আমাদের বড় সম্পদ।’

মন্তব্য

মন্তব্য