পুলিশের খাতায় পলাতক কিন্তু নিয়মিত অফিস করেন জেলা জামায়াত নেতা সাধারণ সম্পাদক

মোঃ জাহেদুল ইসলাম (জাহেদ) কক্সবাজার : নাশকতা ও হত্যা মামলার গ্রেফতারী পরোয়না মাথা নিয়েই গত  ৩ বছর ১ মাস যাবৎ কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী জি.এম. রহিমউল্লাহ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা পরিষদ ভবনে নিয়মিত অফিস করছেন।  চালিয়ে যাচ্ছেন    জেলা ও উপজেলার কর্মকা। এছাড়াও   বিভিন্ন সভা, সেমিনার, সরকারী- বেসরকারী  এবং সামাজিক আচার অনুষ্ঠানেও রয়েছে তার উপস্থি।  কিন্তু  পুলিশ তাকে খোঁজে পাচ্ছে না। পুলিশের খাতায় তিনি পলাতক।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের কতিপয় নেতা, অসাধু কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগীতায় বছরের পর পুলিশের খাতায় পলাতক থেকেও রহিমউল্লাহ তার রাজনৈতিক আদর্শের প্রচারণা চালাচ্ছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের দায়ে আটক দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ে   বিক্ষুব্দ হয়ে জামায়াত- শিবিরের ক্যাডাররা চট্রগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়কের ঈদগাঁও ষ্টেশন এলাকায়  জঙ্গী তান্ডব চালায়। এতে হামলাকারীদের আঘাতে আবদুর রশিদ নাসের এক যুবক নিহত হয় এবং  আহত হয় আরো দুইজন। অধরা এই জামায়াত নেতার দাম্ভিকতার বিষয়ে  কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন,উক্ত   ঘটনায় ১ মার্চ কক্সবাজার সদর থানায় নাশকতা ও হত্যার দায়ে ৯৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো দুই হাজারকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা লিপিবদ্ধ করা হয়। ওই মামলায় ২০১৫ সালের ১০ মে সদর উপজেলার ভারুয়াখালি ইউপির বানিয়াপাড়ার মৃত লোকমান হাকিমের ছেলে জি.এম রহিমউল্লাহ সহ ১২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করে পুলিশ। তবে সেই মামলায় জিএম রহিমউল্লাহ’র বিরুদ্ধে এখনো গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে কিনা জানা নেই।
কিন্তু কক্সবাজার সদর আদালতের ওসি কাজী দিদারুল ইসলাম বলেন, জি.এম রহিমউল্লাহ’র বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারি পরায়োনা জারি  রয়ে।যাতে তিনি অদ্যবদি   পলাতক রয়েছে। এছাড়া ২০১৬ সালের ১৮ মে জি.এম রহিমউল্লাহ’র মাল ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। যা পুলিশ একই বছরের ২৩ নভেম্বর তামিল করে।  সূত্র জানায়, ওই মামলার ১২৭ জনের মধ্যে মো. সোহেল ও হাকিম আলী নামের দুইজন পলাতক আসামী বিরুদ্ধে ক্রোক পরায়োনা মূলতবি থাকায় মামলাটির বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছেনা এবং বিচারকি আদালতে মামলাটি প্রেরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে পুলিশের খাতার পলাতক আসামী জিএম রহিমউল্লাহ বীরদর্পে কক্সবাজার উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করছে।
এবিষয়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, বিষয়টি ভয়ানক। একজন গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত আসামী আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক সহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকা আইনের পরিপন্থি। আমি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করব তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহি কর্মকর্তা ( ইউএনও) হাবিবুল হাসান বলেন, আমি মাত্র তিনমাস আগে কক্সবাজারে যোগদান করেছি। উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে সরকারী প্রোগামে অংশ নেয় এবং অফিস করেন এটি সত্য।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, আমি সদ্য কক্সবাজার যোগদান করেছি। জিএম রহিমউল্লাহ’র বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে কিনা আমার জানা নেই। যদি থাকে তবে অবশ্যই তাকে অতি শ্রীঘই আইনের আওতায় আনা হবে।

মন্তব্য

মন্তব্য