আইনগত মতামত

 

তপশীল
মৌজা- গারাঙ্গিয়া আর,এস খতিয়ান নং ৮৫৭, আর,এস দাগ নং ২০০৪, জমি (পুকুর) ১২ গন্ডা দুই কড়া
উক্ত খতিয়ানের মালিক ছিলেন আহমদ আলী ও মতিউর রহমান। তাহাদের নামে উক্ত খতিয়ান শুদ্ধ রুপে প্রচারিত ও বলবৎ আছে। ভ্রাতা মতিউর রহমান তৎ স্বত্বাংশ ভ্রাতা আহমদ আলীকে ছেড়ে দিয়ে অন্য দাগের নেওয়ায় আহমদ আলী উক্ত খতিয়ান ও আর,এস দাগের ১২গন্ডা দুই কড়া পুকুর জমিতে একা স্বত্ববান ও দখলকার হন। আহমদ আলী স্বত্ববান ও দখলকার থাকাবস্থায় উক্ত ঠান্ডা মিয়ার স্ত্রী নাচোয়া খাতুনকে হস্তান্তর করেন। নাচোয়া খাতুন গত ০৯/০১/১৯৪৬ ইং তারিখে পাট্টা দলিল মূলে জনৈক আবদুল হাকিম দারোগাকে ১২গন্ডা দুই কড়া পুকুর জমি বন্দোবস্তি প্রদান করেন। আবদুল হাকিম দারোগা শরীকদারের সহিত এজমালিতে পুকুরে মৎস্য জিয়ানে শিকারে স্বত্ববান ও দখলকার থাকেন। গারাঙ্গীয়া সাকিনের আশরফ আলীর পুত্র নছরত আলী নিজ অর্থে ও স্বার্থে জনৈক আবদুছ ছালামের বিনামীতে উপরোক্ত ১২গন্ডা দুই কড়া পুকুর জমি আবদুল হাকিম দারোগা থেকে উচিতপণে ২৭/১০/১৯৫০ ইং তারিখের কবলামূলে খরিদ করেন। আবদুছ ছালাম ৩০/১০/১৯৫০ ইং তারিখের রেজিঃকৃত মুক্তিনামা দলিল মূলে নছরত আলী স্বত্ব দখল স্বীকার করেন। নছরত আলী উক্ত মতে স্বত্ব অর্জন করত নির্বিঘ্নে উক্ত পুকুরে দখলকার আছেন। মোহাং ইসমাইলের পুত্র আবদুল খালেক উক্ত জমির স্বত্ব দাবী করিলে উপরোক্ত নছরত আলী সাতকানিয়া মুন্সেফী আদালতে ১৯৫৫ সালে ১৪৪ ও ১৯৫৭ সালে ৩২ নং অপর মোকদ্দমা দায়ের করিয়া স্বত্ব সাব্যস্থ দখল স্থিরতরের ডিগ্রি প্রর্থনা করে। উক্ত মোকদ্দমায় উক্ত আবদুল হাকিম দারোগা ২নং বিবাদী পক্ষভুক্ত থাকে। উপরোক্ত মোকদ্দমায় নাচোয়া খাতুনের স্বামী ঠান্ডা মিয়া বাদীর ৩নং স্বাক্ষী হিসাবে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন এবং নালিশী জমি পুকুর বাদী দখল করে বলিয়া সাক্ষ্য দেন। উপরোক্ত মামলা বাদীর বরাবরে ডিগ্রি হয়। বিজ্ঞ আদালত দোতর্ফা সূত্রে নালিশী জমিতে বাদীর (নছরত আলীর) স্বত্ব সাব্যস্থ করেন এবং নালিশী জমিতে বাদীর দখল Confirm / স্থিরতর করতঃ ডিগ্রি প্রদান করেন। সাতকানিয়া ১ম সুন্সেফী আদালতের রায় ডিগ্রির বিরুদ্ধে বিবাদী আবদুল খালেক জেলা জজ আদালতে ১৯৫৭ সনের ১৩১ নং অপর আপীল দায়ের করেন। আপীল নিষ্পত্তির জন্য ২য় সাব জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। আপীল আদালত পক্ষগণকে শুনিয়া ০৫/০৪/১৯৯৫ ইং তারিখে আপীল খারিজ করেন ও নিম্ন আদালতের রায় ডিগ্রি বহাল রাখেন। বিবাদী আপীলকারী আবদুল খালেক ০৫/০৪/১৯৯৫ ইং তারিখের আপীল খারিজাদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে ১৯৯৬ সনের ২৭৩৩ নং সিভিল রিভিশন দায়ের করেন। উক্ত মামলা এখনও বিচাররাধীন আছে। নিম্ন আদালত নালিশী জমিতে নছরত আলীর স্বত্ব ঘোষণা ও দখল স্থির করিয়াছেন এবং তাহা আপীল আদালত কর্তৃক বহাল রহিয়াছে। উপরোক্ত নাচোয়া খাতুনের গর্ভজাত ও ঠান্ডা মিয়ার ঔরসজাত ছেলে সাহাব মিয়া নালিশী জমি বি,এস খতিয়ান তাহার নামে লিপি হওয়া উল্লেখে ৩য় পক্ষ হিসাবে উপরোক্ত জমি দাবি করা জানা যায়। উল্লেখ্য যে, বি,এস জরিপ কালিন সময়ে নছরত আলীর দায়েরকৃত উপরোক্ত মোকদ্দমা ও আপীল বিচাররাধীন  থাকা অবস্থায় ভিন্ন ব্যক্তির নামে বি,এস খতিয়ান প্রচার হয়। উক্ত বি,এস খতিয়ান ভুল ও ভিত্তিহীন হয়। উপরোক্ত সাহাব মিয়া মোকদ্দমায় পক্ষ না থাকলেও তাহার পিতা ঠান্ডা মিয়া মোকদ্দমায় স্বাক্ষ্য প্রদান করে বাদী নছরত আলীর দখল স্বীকার করেন। এমতাবস্থায় নালিশী জমিতে সাহাব মিয়ার দাবী কোনক্রমে গ্রহণযোগ্য নহে। সাহাব মিয়া নিজ স্বত্ব সাব্যস্থ খাস দখলের প্রার্থনা করিয়া দেওয়ানী আদালতের স্বত্বের মোকদ্দমা করিয়া ডিগ্রি পাওয়ার পর নালিশী জমিতে তাহার দাবী উত্থাপন করিতে পারে। পূর্বেই উল্লেখ করা হইয়াছে যে, মামলার ডিগ্রি মূলে নালিশী জমিতে নছরত আলীর নিবুঢ় স্বত্ব দখল অর্জিত হইয়াছে এবং নালিশী জমিতে নছরত আলী স্বত্ববান ও দখলকার আছেন। এমতাবস্থায় আমার মতে ৩য় পক্ষ সাহাব মিয়া বা অন্য কেহ নালিশী জমিতে স্বত্বের দাবী করিতে পারিবেনা, করিলেও তাহা অগ্রাহ্য বা অবৈধ বলিয়া গণ্য হইবে। তবে বি,এস খতিয়ান ভুল হইলেও সংশোধন করিতে হইবে। ইহা আমার নিরপেক্ষ আইনগত মতামত।
ইতি
এডভোকেট সুনীল বড়ুয়া
অতিরিক্ত জি, পি
সাতকানিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালত
সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।

মন্তব্য

মন্তব্য