হোমনায় যুবককে মুখে কালো কাপড় বেঁধে হত্যা চেষ্টা

হালিম সৈকত,কুমিল্লা
কুমিল্লা জেলার মাছিমপুর- জয়পুর সড়কটি ক্রমেই একটি ক্রাইম জোন হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠছে। এই রোডটিতে ঘটছে একের পর এক নানাহ ঘটনা। সড়কটিতে একের পর এক ঘটছে ছিনতাই, দুর্ধর্ষ ডাকাতি, হত্যাসহ নানা ঘটনা। গত এক বছরে ঘটেছে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনা। এটি মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের কাছে একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্মে দিশেহারা আশেপাশের মানুষজন। গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবার বড় বড় চালান এই পথ দিয়েই যায়। বলা হয়ে থাকে মুরাদনগর,হোমনা ও তিতাসের সবচেয়ে বড় মাদকের স্পট এটি।
তিতাস- হোমনার মানুষের কাছে ইতোমধ্যে জায়গাটি একটি ভয়ঙ্কর জায়গা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
ভয়ংকর এই জায়গাটিতে গতকাল রাতে ঘটেছে এক মর্মান্তিক ট্রাজেডি। জয়পুর গ্রামের আয়েব আলীর ছেলে সোহেলকে মেরে মৃত ভেবে পানিতে ফেলে যায় একদল দুর্বৃত্ত। কিন্তু ভাগ্যক্রমে সে বেঁচে যায়। সে প্রতিদিনের মত মাছিমপুর বাজার থেকে দোকানদারী করে রাত ১০.৩০টায় বাড়ি ফিরছিল (জয়পুর)। পথিমধ্যে তার পথ রোধ করে ৫/৬ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত। তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এবং কঠোর মারধর করে। সোহেল অজ্ঞান হয়ে গেলে মৃতভেবে মুখ বেঁধে পানিতে ফেলে দেয়। সকালে পথচারীগণ তাকে দেখতে পেয়ে ডাঙ্গায় উঠিয়ে আনে এবং চিনতে পেরে বাড়িতে খবর দেয়। ঠিক কি কারণে এমনটি ঘটেছে আহত সোহেল ও তার পরিবার বলতে পারছে না। মুখে কালো কাপড় বাঁধা থাকায় কাউকে চিনতে পারেনি সে। কারো সাথে তার কোন পূর্ব শত্রুতাও নেই। সে মাদকও গ্রহণ করে না। তবে মাঝে মাঝে ফেইসবুকে ছাত্রদলের হয়ে বিভিন্ন পোস্ট দিত। তবে তার কোন পদপদবী নেই। বিএনপিকে পছন্দ করে কিন্তু কোন মিটিং মিছিলেও যায় না। এই দিকে আহত সোহেলকে প্রথমে হোমনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুর খেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত জায়গাটিতে। ঠিক একই জায়গায় গত কোরবানীর ঈদে মাছিমপুর গ্রামের বাদল মিয়াকে হত্যা করে ডুবায় ফেলে রেখে যায়।
এই বিষয়ে সোহেলের বড় ভাই সাত্তার বলেন, আগে সোহেল সুস্থ্য হোক তারপর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সে সুস্থ্য হওয়ার আগে কিছু বলতে পারছি না।
সুশীল সমাজ ধারণা করছেন বাদল হত্যাকারী ও সোহেলকে মেরে পানিতে ফেলে দেয়া একই সংঘবদ্ধচক্র বা গোষ্ঠী করতে পারে। এর আগে একই জায়গায় মাছিমপুর গ্রামের মতিন ভান্ডারীর ছেলে মেহেদী মামুনকে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা।
এর আগে জয়পুর গ্রামে মমতাজ মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। নগদ টাকা স্বর্ণালঙ্কর ও এলইডি টিভিসহ প্রায় লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে যায়।
মাদকের একটি বড় স্পট হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে এটি দিনকে পরিচিতি পাচ্ছে এবং অপরাধের মাত্রা দিনকে দিন বেড়েই চলছে। এলাকার মানুষজন ভয়ে আতঙ্কে জীবন যাপন করছেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী ও ভোক্তভোগী পরিবার। তারা ছিনতাইকারী, ডাকাত ও মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে থানায় মামলা দূরে থাক জিডি পর্যন্ত করতে ভয় পাচ্ছেন।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. ফজলে রাব্বী বলেন, এই বিষয়ে (সোহেলের) কেউ থানায় কোন মামলা বা জিডি করেনি। যদি কেউ করে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিব। তবে যেই জায়গাটির কথা বললেন, জয়পুর খেলার মাঠ সেখানে আমরা পুলিশের টহল জোরদার করব।

মন্তব্য

মন্তব্য