শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জন্মনিল সাদা বাঘ শাবক

সাইফুল আলম সুমন,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রথমবারের মতো জন্ম নেওয়া ডোরাকাটা সাদা রঙের বাঘের বাচ্চাটি এখন সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। তুলতুলে শরীর। নীল চোখ। ইতিউতি উঁকিঝুঁকি মারছে। মায়ের নজর একটু অন্যদিকে গেলেই দেয় ছুট। কিন্তু মাকে ফাঁকি দেওয়া কি এত্ত সহজ! এক মাস বয়সী মেয়েটি ছুট দিলেই মা পথ আগলে রাখে। কাছে নিয়ে মুখ ঘষে দেয়। ধবল দেহটি জিব দিয়ে মুছে দেয়। বাংলাদেশে এটি জন্ম নেওয়া তৃতীয় সাদা বেঙ্গল টাইগারের বাচ্চা। আর সাফারি পার্কে এটিই প্রথম শ্বেতাঙ্গ বেঙ্গল টাইগার। বাবা-মা ডোরাকাটা হলুদ রঙের হলেও এই বাচ্চা মেয়ে বাঘটি সাদা হয়েছে। তার সঙ্গে আরও দুটি বোন জন্ম নিয়েছে। সেগুলো অবশ্য বাবা-মায়ের রং পেয়েছে।

সোমবার গাজীপুর সাফারি পার্কে সরেজমিনে দেখা যায়, শ্বেত বাঘিনীকে ওর মায়ের মতোই আগলে রাখা হচ্ছে। পার্কের মিনি এনক্লোজারে নিরিবিলি থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে সাদা শাবকটি ওর দুটি বোন আর মায়ের সঙ্গে সারা দিন খেলা করে। একটু দৌড়ঝাঁপ। ক্লান্ত হলে আবার মায়ের কাছে ছুটে যায়। আরাম করে মায়ের হলদে ডোরাকাটা লোমশ দেহে মুখ ডুবিয়ে দুধ পান করে নেয়। এরপর আবার চলে ছুটোছুটি, খেলা। বিশ্রাম নিতেই চায় না। তাই সাদা বাঘের মায়ের চোখে যেন ঘুম নেই। গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে মাত্র মাসখানেক আগে শ্বেত বাঘিনীর জন্ম হয়েছে। সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৮ আগস্ট সকালবেলা বেঙ্গল টাইগার পরিবারে তিনটি বাঘিনীর জন্ম হয়। শ্বেত বাঘিনীর বাবার নাম জ্যাকবল। মায়ের নাম দেওয়া হয়নি। নতুন শাবকগুলোরও নাম দেওয়া হয়নি। এই বাচ্চা বাঘগুলোর মায়ের এর আগেও তিনটি মেয়ে বাচ্চা হয়েছিল। সেগুলোর নাম জয়া, জ্যোতি ও মাধুরী। নতুন শাবক নিয়ে সাফারি পার্কে এখন মোট বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ১২। এর মধ্যে তিনটি পুরুষ।

বাঘের পালক নুরুন্নবী বলেন, অচেনা কাউকে দেখলেই বাঘের মা রেগে যায়। আর রোগাক্রান্ত যেন না হয় সে জন্য বিশেষ খেয়াল রাখা হয়। জন্মের পর বাইরের কোনো লোককে বাঘের সাদা বাচ্চাসহ অন্যদের দেখতে দেওয়া হয়নি। আরও বছরখানেক আড়ালেই রাখা হবে। এখন বাচ্চাগুলো মায়ের বুকের দুধই কেবল পান করবে। মাস ছয়েক বয়স হলে অল্প স্বল্প করে মাংস দেওয়া হবে। সাদা বাঘটি সুস্থ আছে সব বাচ্চারই ওজন বাড়ছে। কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়নি।
তিনি আরোও জানান, তিন মাস আগে বাঘিনীর গর্ভধারণের বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরপর থেকে মিনি এনক্লোজারে রাখা হয় মা বেঙ্গল টাইগারকে। তখন থেকে বাচ্চা জন্ম হওয়ার আগ পর্যন্ত মা বাঘটিকে প্রতিদিন পাঁচ কেজি গরুর মাংস খেতে দেওয়া হতো। এক দিন খাবার দেওয়া হতো না। এ ছাড়া সপ্তাহে এক দিন জ্যান্ত একটি খরগোশ খাওয়ানো হতো। বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পর মাংস এক কেজি বাড়তি দেওয়া হচ্ছে। জীবন্ত খরগোশ খাওয়ানো বন্ধ। কারণ, জীবন্ত খরগোশ খেতে দিলে মা তার বাচ্চাদের একইভাবে খেয়ে ফেলতে পারে।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আপাতত বাঘের সাদা বাচ্চাকে মায়ের সঙ্গে রাখা হবে। এরপর কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। সাদা বাঘের আলাদা করে বিশেষ যতœ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। মায়ের সঙ্গে, ভাইবোনদের সঙ্গে রাখলেই চলবে। বনে সাদা বেঙ্গল টাইগারের জন্ম খুব কম হয়। সুন্দরবনে হয়ই না। তবে সাদা বাঘ দেখতে সুন্দর। জন্মও খুব কম হয়। তাই এর কদর বেশি। জন্ম নেওয়ার পর থেকে বাঘের খাঁচাটি ঢেকে দেওয়া হয়। এখনো সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি বাঘশাবকগুলোকে। মানুষের উপস্থিতিতে বাঘ ও বাঘিনী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতে পারে ।

মন্তব্য

মন্তব্য