দুই হাজার টাকা না দেয়ায় বন্ধুকে হত্যার লোম হর্ষক বর্ণনা দিলো দুই বন্ধু

সাইফুল আলম সুমন,নিজস্ব প্রতিবেদক:
বন্ধু আল মামুনের কাছ থেকে ধার নেওয়া দুই হাজার টাকা না দেওয়ায় বন্ধু রাসেল মোল্লাকে (২৬) হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত ও গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেছে ঘনিষ্ঠ বন্ধু আল মামুন (১৯)। পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে আল মামুন বন্ধু রাসেলকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে সহযোগী ইমাম হোসেনকে (২০) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর বাজার থেকে গ্রেপ্তার করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলাম মোল্লা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার আল মামুন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বেলতৈল গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও তার সহযোগী ইমাম হোসেন একই গ্রামের হেলিম উদ্দিনের ছেলে। তারা রাজেন্দ্রপুর (আরপিগেট বাজারে) বাসা ভাড়া নিয়ে রাজেন্দ্রপুর (সাটিয়াবাড়ি) এলাকার ডার্ড কম্পোজিট (গার্মেন্টস) কারখানায় অপারেটর হিসেবে চাকুরি করতো।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম মোল্লা জানান, রাসেল রাজেন্দ্রপুর এলাকার ডার্ড কম্পোজিট (গার্মেন্টস) কারখানায় অপারেটর হিসেবে চাকুরি করতো। গত বুধবার (৮আগস্ট) সকাল সাতটায় কারখানায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সে আর বাড়ি ফিরেনি। শুক্রবার (১০আগস্ট) বিকেলে স্থানীয়রা বনখড়িয়া গজারি বনের ভিতর গরু চড়াতে গিয়ে লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের মা রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালায়। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে প্রথমে আল মামুন ও পরে তার দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে ইমাম হোসেনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মামুন হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেয়। রাসেল মোল্লা ও আল মামুন ডার্ড কম্পোজিট (গার্মেন্টস) কারখানায় চাকুরী করার সময় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হয়। বন্ধুত্বের খাতিরে আল মামুনের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা ধার নেয় রাসেল মোল্লা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দেয়ায় দুই বন্ধুর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

গত বুধবার (৮আগস্ট) বিকেলে আল মামুন পাওনা টাকা দেয়ার জন্য রাসেল মোল্লাকে ফোন করে রাজেন্দ্রপুর বাজারে নিয়ে আসে। পরে মামুন তার সহযোগী ইমামকে সাথে নিয়ে রাজেন্দ্রপুর বাজার থেকে একটি হাতুড়ি ক্রয় করে। হাতুড়ি ইমামের কোমড়ে লুকিয়ে রাখে। সন্ধ্যা ৭টায় দিকে রাজেন্দ্রপুর বাজারে রাসেল মোল্লার সাথে তাদের দেখা হয়। রাসেল পাওনা টাকা দেওয়ার জন্য মামুনকে তার সাথে তাদের বাড়িতে যেতে বলে। তারা তিন বন্ধু রাত সাড়ে ৮টায় রাজেন্দ্রপুর রেলস্টেশন থেকে পায়ে হেঁটে রাসেলের বাড়ি যাওয়ার পথে তাদের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে বাগবিতন্ডা হয়। ওই সড়কের বনখড়িয়া গজারি বনের ভেতর মামুন ও তার সহযোগী ইমাম রাসেলকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। রাসেল মাটিতে পড়ে গেলে ইমাম হোসেনের প্যান্টের বেল্ট খুলে গলায় ফাঁস দিয়ে রাসেলের মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তারা রাসেলের সাথে থাকা মুঠোফোন ও বেতনের ৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো জানান, সোমবার গাজীপুর আদালতের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুল ইসলামের আদালতে গ্রেফতারকৃতরা বন্ধু রাসেল মোল্লাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। পরে আদালত তাদেরকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য