শ্রীপুরে কারখানা শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু

সাইফুল আলম সুমন,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে বেড়াইদেরচালা গ্রামের ডিজাইনটেক্স লিমিটেড নামের কাখানায় দায়িত্বরত অবস্থায় এক শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতের শিফটে কাজ করা অবস্থায় দিবাগত রাত দেড়টায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত তারিকুল ইসলাম (৩৫) নেত্রকোণা জেলা সদরের ঘাগড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি শ্রীপুরের চন্নাপাড়া গ্রামে নোমানের বাড়িতে তার দুই সন্তান ও স্ত্রীসহ ভাড়া থেকে ওই কারখানায় চাকরি করতেন।

নিহতের স্ত্রী সুমনা বেগম বলেন, তার স্বামী নয় মাস ধরে কারখানায় চাকরি করছেন। তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থ্যতার জন্য গত শুক্রবার রাতের শিফটে কাজ করতে অপারগতা জানিয়ে একটি আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু ঈদের ছুটির পর শিপম্যান্ট জটিলতার কারণে তাকের ছুটি না দিয়ে কাজ করতে বলে কারখানা কর্তৃপক্ষ। পরে রাত ১২টার দিকে তিনি অসুস্থ্য হয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ায় সুস্থ্যতা বোধ করেন এবং স্বাভাবিক কাজে ফিরে যান। এর পর রাত ১টার দিকে তিনি হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে দ্রæত হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতলে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কারখানার একাধিক শ্রমিক জানায়, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারকে কোন ক্ষতিপূরণ না দিয়ে লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠাতে চাইছিল কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করতে থাকে। তারা ক্ষতিপূরণবাবদ ওই পরিবারকে ৫লাখ টাকা দেওয়ার দাবি জানায়। কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি না মেনে নেওয়ায় ক্ষোভ আরও বেশি দানা বাধে। অবশেষে শ্রীপুর থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশের উপস্থিতিতে শ্রমিক আন্দোলনের মুখে দাবির কিছুটা মেনে নিতে বাধ্য হয় ডিজাইনটেক্স কর্তৃপক্ষ। দুপুরে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেয় তারা। পরিবারকে ক্ষতিপূরণবাবদ ২লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করে কারখানার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় কারখানায় ৩দিনের শোক ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। কারখানার জিএম দেওয়ান মোহাম্মদ আরিফুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেনননি।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক(এসআই) সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করি। বিষয়টি নিয়ে কারখানা কর্তৃক্ষের সাথে কয়েকদফা কথা হয়। পরে শোকগ্রস্থ পরিবারকে দুই লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়।

মন্তব্য

মন্তব্য