নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত প্রিয়কের শখের স্মৃতিচিহ্নটিও পুড়ে গেল

সাইফুল আলম সুমন,নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের ফারুক হোসেন প্রিয়কের ব্যবহৃত একটি নতুন প্রাইভেটকার শনিবার সকাল সাতটার দিকে আগুনে পুড়ে গেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পোড়াবাড়ী এলাকায় আকষ্মিক অগ্নিকান্ডে গাড়ীটি পুড়ে যায়।

এ বছরের ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন বিমান বন্দরে বিমান দুর্ঘটনায় ফারুক হোসেন প্রিয়ক তার একমাত্র কন্যা প্রিয়ংময়ী তামাররা প্রেয়সীসহ নিহত হন। তবে এ যাত্রায়ও বেঁচে গেলে প্রিয়কের মামাতো ভাই নেপালগামী প্রিয়কের বিমানসহযাত্রী মেহেদী হাসান মাসুম।

প্রিয়কের মা ফিরোজা বেগম বলেন, তার ছেলে ফারুক হোসেন প্রিয়ক গাড়ীটি নতুন কিনেছিলেন। গাড়ীটি তার খুব শখের ছিল। নেপাল থেকে ফিরে এসে গাড়ীর কাগজপত্রসহ সবকিছু ঠিকঠাক করার কথা ছিল। এ বছরের ১২ মার্চ নেপাল গিয়ে লাশ হয়ে ফিরেছে প্রিয়ক ও তার একমাত্র কন্যা প্রিয়ংময়ী তামাররা প্রেয়সী।

তিনি বলেন, নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারালাম, নাতি হারালাম, পরিবারের সব হারিয়ে এখন আমি একা। এবার সন্তানের স্মৃতিচিহ্ন নতুন গাড়ীটিও পুড়ে গেল। সবই এখন আমার পুড়ে যাওয়া স্মৃতি। আমি পুড়ে যাওয়া সব স্মৃতি নিয়েই বেঁচে আছি।

গাড়ীর বর্ণনা করতে গিয়ে কান্না কন্ঠে তিনি বলেন, গাড়ীটি অনেকদিন বাড়িতেই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল। ফলে গাড়ীতে যান্ত্রিক ত্রæটি দেখা দেয়। গাড়ীর বৈদ্যুতিক এবং গ্যাস সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শনিবার সকাল ৬টার দিকে প্রিয়কের বন্ধু মামাতো ভাই মেহেদী হাসান মাসুম মেরামতের জন্য গাড়ীটি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বের হয়। গাজীপুর মহানগরের পোড়াবাড়ী এলাকায় পৌঁছে স্থানীয় একটি পেট্রল পাম্প থেকে পেট্রল নিয়ে সড়কে উঠার পরই গাড়ীর পেছন দিকে আগুন ধরে যায়। আগুন দেখে মাসুম গাড়ী থেকে দ্রæত নেমে গিয়ে স্থানীয়দের ডাকাডাকি শুরু করে।

জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আধাঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘিœত হয়। কিন্তু ততÿণে গাড়ীটি পুড়ে যায়। এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ বছরের ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন বিমান বন্দরে বিমান দুর্ঘটনায় ফারুক হোসেন প্রিয়ক তার একমাত্র কন্যা প্রিয়ংময়ী তামাররা প্রেয়সীসহ নিহত হন। তার সাথে সস্ত্রীক বিমানের যাত্রী ছিলেন মেহেদী হাসান মাসুম। তিনি ওই ঘটনায় সপরিবারে আহত হয়েছিলেন। শনিবার আগুনে গাড়ীটি পুড়ে গেলেও এ যাত্রায় মাসুমও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন।

মন্তব্য

মন্তব্য