দশমিনায় ‘আখ চাষ’ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষক রফিক মুন্সী !!

মু. জিল্লুর রহমান জুয়েল, পটুয়াখালী।

বাংলাদেশ কৃষি স্বনির্ভর খাদ্য শষ্য ভান্ডারে পরিপূর্ণ করে বিদেশে খাদ্য শষ্য রপ্তানিকারক হিসেবে সু- নাম অর্জনকারী লাল সবুজের প্রিয় বাংলাদেশ। বর্তমান সরকারের অক্লান্ত চেষ্টা এবং কৃষি বান্ধব হওয়ায় আজ তা পরিপূর্ণতায় রুপ নিতেও দেখা যায়।

এরেই ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালীর জেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের আখ চাষি মোঃ রফিক মুন্সী। ক্লান্ত দূপুরে আখ চাষি তার আখ খেতে লালন পালন করছেন প্রান্তিক কৃষক রফিক মুন্সী।

কতা হলো, চাচা কেমন আছেন? উত্তরে সোনালী হাসি দিয়ে বল্লেন, আল্লাহ্‌ খুব ভালো রাখছে। তো, কতটুকু জমিতে আখ চাষ করছেন, কিভাবে করছেন জানতে চাইলে, তিনি ধারাহিক ‘আখ চাষের বর্ননা দিলেন।

বাংলা বছরে অগ্রাহন মাসে, আখের চারা রোপন করতে হয়, নিজ জেলা বা স্থানীয় কোন বাজারে আখ চাষের চারা না পাওয়ায়, সূদুর বরিশালবিভাগের শরুপ কাঠি থেকে ১ শত চারা তিন শত টাকা হারে কিনে আনতে হয়। প্রতিশতাংশে ১শত চারা আখের চারা রোপন করে দীর্ঘ ১০ মাস অপেক্ষা করতে হয় পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত।

তিনি মোট ৬৩ শতাংশে জমিতে ২০৮ ও তুর্পিন জাতের আখ চারা এনে, এ পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। তিনি আশা করছেন।

তিনি প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ব্যয়ের চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুন লাভবান হবেন বলে আশা করেন আখ চাষি রফিক মুন্সী। তবে, তিনি মনে কষ্ট নিয়ে বল্লেন, আমরা গ্রাম গঞ্জের সাধারণ কৃষক, সরকার আমাগো কেন সহযোগীতা করেনা, নাই কোন ঋনের ব্যবস্থা। সরকারী কিছু সাহায্যদান পাইলে, আরো অনেক আখ চাষে আগাইয়া আইতো।

কৃষি ব্যাংকে গেলেও কোন লাভ হয়না। আমাগো কোন ঋন দেয়া হইবেনা কইয়া ব্যাংকের স্যারেরা ফিরাইয়া দেয়।

আর কৃষি অফিসারের কথা কইয়া লাভ কি স্যার, আখ ক্ষতে কতো রোগ বালাই হয়, হেরো কোন সুপরামর্শ পাইনা, তবে আমাগো মতো কৃষক’গো লগে যদি সরকারি কোন সাহায্য পাই, হ্যালে অনেক চাষি আখ চাষ কইরা আরো ভালো লাভবান হইতো বলে প্রতিবেদককে জানান।

এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোঃ বনি আমিন খানের মুঠোফোনে জানতে চাইলে, তিনি বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব হওয়ায় দেশের প্রান্তিক কৃষকগোষ্ঠীর বিভিন্ন উপকরন দিয়ে সহযোগীতা করে আসছে।

তার’ই ধারাবাহিকায় এখনো কাজ করে যাচ্চে। আখ চাষিদের নিয়ে, বাংলাদেশ সুগার ক্যান গভেষনা ইনস্টাটিউটের গভেষকদের নিয়ে আখ চাষিদের নিয়ে, প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই আখ চাষের উপর প্রদর্শনীর ব্যবস্থা সহ কৃষকের স্বার্ভীক সহযোগীতা করবেন বলে প্রতিবেদককে জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য