পঞ্চগড়ে পাট চাষীরা পাট ধোঁয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত


মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ
পঞ্চগড়ের পাট চাষীরা এখন পাট ধোঁয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। শুকানোর পর বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ায় চাষীদের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় পাট চাষীদের সূত্রে জানা যায়, চৈত্র মাসের প্রথম দিকে এ এলাকার চাষীরা পাট চাষ করে থাকেন। বিশেষ করে পাটের জমিতে পরবর্তী ফসল মরিচ চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়ায় এজন্য চাষীরা অধিক হারে পাট চাষ করে থাকেন। তবে মৌসুম শুরুতে বীজের চড়া দাম ও খড়ার কারণে চাষীদের ফসলটিতে ধাক্কা খেতে হয়। তবে অনেকেই সেচ দিয়ে পাটের ফসল বাঁচিয়ে রাখেন। চলতি বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধির সংগে সংগে অবস্থা বুঝে চাষীরা পাট কর্তনের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এরই মধ্য পাট চাষের অধিকাংশ জমি থেকে পাট কর্তন করে জাগ দেয়ার পর কৃষকরা তা ধোঁয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পাড়। পাট চাষীরা বন্যার কারণে ঘরের চালায়, বাঁধে, রাস্তার ধারে কিংবা বাঁশের লম্বা আড় তৈরি করে দিন রাত তা শুকানোর কাজ করছেন। পাট শুকানোর সময় আকাশে মেঘ দেখলেই ভেজার হাত থেকে রক্ষা করতে দৌড় ঝাঁপ অন্যদিকে শুকনা পাট ঘরে তুলতে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে, যেন দম ফেলার সময় নেই তাদের। ভালো ভাবে পাট শুকানোর পর বিক্রির জন্য হাটে তুলছেন চাষীরা। তবে দাম ভালো থাকায় চাষীরা দারুণ খুশিতে রয়েছেন। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় তাদের কমপক্ষে লাভ থাকছে ৭/৮ হাজার টাকা। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৬নং সাতমেড়া ইউপির ১নং ওয়ার্ডের শিতলী হাসনা গ্রামের, মো: তাইজুল হক, পিতা-মৃত তমিরউদ্দিন জানান, আমার পাট এবার খুব ভাল হয়েছে দামও পাচ্ছি ভালো। ঐ একই গ্রামের হারুন, সামিউল, লেলিন ও তেঁতুলিয়া উপজেলার ৫নং বুড়াবুড়ি ইউপির কালদাস পাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বার, আহসান হাবীব জানান, পাট ধোঁয়ার পর শুকনো পাট বাজারে ১৭’শ থেকে ১৮’শ ৫০ টাকা মন দরে বিক্রি করা যাচ্ছে। অর্থাৎ বাজারে এবার পাটের দাম খুবই ভালো। প্রতি বিঘায় পাট চাষে সবমিলিয়ে খরচ পড়ে ৮/৯ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয় প্রতি বিঘায় কমপক্ষে ৭/৮ মন করে। বর্তমানে বাজার দর হিসেবে বিক্রি করে ভালো লাভ থাকছে। এছাড়াও প্রতি বিঘায় পাট খড়ি বিক্রি করে বাড়তি টাকা পাওয়া যায় ৩/৪ হাজার। এ ব্যাপারে পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আব্দুল মতিন বলেন, উপজেলার চাষীরা বিভিন্ন কারণে পাট চাষ করে থাকেন। এবার প্রতিকুল আবহাওয়া ভালো থাকায় পাট অনেকাংশ ভালো তাই বর্তমান বাজারে পাট চাষীরা মূল্য ভালো পাওয়ায় খুশিতে রয়েছেন।

মন্তব্য

মন্তব্য