কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সোর এক্স-রে মেশিন দুই মাস যাবৎ বিকল প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো আর্থিকভাবে লাভবান

মো. ইব্রাহীম খন্দকার,কালীগঞ্জ ,গাজীপুর :
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সোর এক্স-রে মেশিন দুই মাস যাবত বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাসপাতালে আসা হতদরিদ্র রোগীরা এক্স-রে মেশিন বিকল থাকায় প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তারা অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে এক্স-রে করতে হচ্ছে। প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো আর্থিকভাবে লাভবান হলেও আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত শিকার হচ্ছে সাধারন রোগীরা।
আজ রোববার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সো সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক্স-রে রুমের সামনে সেবার জন্য রোগীরা দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেক চিকিৎসক রোগীদের জানিয়ে দিচ্ছেন হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট রয়েছে।এক্স-রে করতে হলে বাইরে প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে করে আনতে হবে। সোবাহান নামে এক রাজমিন্ত্রি কাজ করতে গিয়ে মাথা আর ঘাড়ে আঘাত পায়।আজ  জামালপুর ইউনিয়ন এলাকা থেকে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে এসেছে হাসপাতালে। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে এক্স-রে করার জন্য লেখে দিলে সে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে এক্স-রে করে নিয়ে আসে। হাসপাতালের এক্রা-রে বিকল হওয়ায় প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো লাভবান হচ্ছে। রোগীরা হাসপাতাল থেকে অল্প টাকায় এক্স-রে করতে পারলেও প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো দ্বিগুন থেকে তিনগুণ টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিদিন ২৫-৩০ জন রোগী এক্স-রে সেবা পেত। পাশাপাশি হাসপাতাল আর্থিকভাবে লাভবান হতো। এক্স-রে বিকলের ফলে রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হচ্ছে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ছাদেকুর রহমান আকন্দ বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত মেরামতের চেষ্টা হচ্ছে। রোগীরা এক্স-রের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে তিনি তা স্বীকার করেন। গাজীপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. সৈয়দ মঞ্জুরুল হকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সোর এক্স-রে মেরামতের জন্য সফটওয়ার কোম্পানীকে দুইবার চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কালক্ষেপণ করছে বলে মেরামত করতে বিলম্ব হচ্ছে। আজও মোবাইল ফোনে তাদের সাথে কথা হয়েছে। তাড়াতাড়ি মেরামত করে দিবে বলে তারা জানিয়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য