ভালোবাসা থাকুক প্রকাশ্যে, বাংলাদেশে লিভ টুগেদার বৈধ – সুপ্রিমকোর্ট

পাপিয়া বাড়ৈ (জয়), প্রতিবেদকঃ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিম দেশ বাংলাদেশে লিভ টুগেদার কিংবা বিবাহ বহির্ভূত বসবাসের আইনগত বৈধতা দিলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত। যদিও অমুসলিম দেশ গুলোতে এটি একটি অতি সাধারন ঘটনা। তবে আমাদের ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী বিয়ে ছাড়া একসাথে বসবাসের অনমোদন না থাকায় এটা শোভন ছিলোনা। উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকলেও ধিরে ধিরে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শুরু করেছে আমাদের বাংলাদেশ। কিছুদিন আগে এমনটাই আদেশ রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট। অনেক পূর্ব থেকেই অন্যান্য বিশ্বে বিয়ে না করেও ছেলে মেয়ে একসাথে থাকার প্রচলন রয়েছে । সেদিক থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকলেও এখন আর পিছিয়ে রইলো না। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী
ধর্মীয় মতে বিয়ে করার পরে ছেলে ও মেয়ে একসাথে থাকার অনুমতি ছিল কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে একজন ছেলে ও মেয়ে বিয়ে না করেও তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী লিভ টুগেদার করতে পারবে যা সুপ্রিমকোর্ট সরাসরি মান্যতা দিয়ে দিল। লিভ টুগেদার বলতে সাধারনত বুঝায় বিয়ে না করে একসাথে থাকা যেটাকে আখ্যায়িত করা হয় লিভ টুগেদার হিসেবে। বাইরের দেশে এটি অতি সাধারন ঘটনা, কিন্তু আমাদের দেশে এটা কেউ করতে চাইলে সমাজ ভ্রু কুঁচকায়। তাই আজও বেশিরভাগ ছেলে মেয়ে ই আমাদের দেশে লুকিয়ে প্রেম করে। অনেকে স্বামী- স্ত্রী মিথ্যা পরিচয়ে লিভ টুগেদার করতো। গতবছর এই বিষয়ে একটি মামলা হয়েছিলো যার রায় দেয়ার সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, দু’জন ছেলে-মেয়ের মধ্যে মনের মিল থাকলেই তারা একসাথে থাকতে পারবে। এজন্য তাদের সামাজিক প্রথার সম্মুখীন হতে হবে না। কোর্ট থেকে এটাও বলা হয়েছিলো যে, দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে যদি তাদের নিজেদের ইচ্ছায় একে অপরের সাথে থাকে, সহবাস করতে ইচ্ছুক থাকে তাহলে সমাজের বাধা দেওয়ার কোন অধিকার নেই ! সুপ্রিমকোর্ট জানিয়েছে যে, দু’জনের মধ্যে ভালোবাসা আর সম্মতি থাকলেই তাদের আর কোন বাধার সম্মুখীন হওয়া উচিত নয়। ভালোবাসা থাকুক প্রকাশ্যে, সমাজের কোনরকম ভয় না করে। সুপ্রিমকোর্টের এ রায়ের ফলে যেসব ছেলে-মেয়েরা লিভ ইন করতে আগ্রহী তারা খুবই খুশি বলে মনে করা হচ্ছে। বিয়ে না করেই এবার তারা একসাথে থাকতে
পারবে। এই আইনকে বেশিরভাগ মানুষই সাধুবাত জানিয়েছেন কারন উন্নত দেশগুলোতে এমন আইন অনেক আগে থেকেই আছে। তবে আমাদের ধর্মীয়
অনুভুতি সম্পন্ন সমাজের মানুষরা এ রায়ের ব্যাপারে মোটেও সন্তুষ্ট নয় বলে ধারনা
করা হচ্ছে।

মন্তব্য

মন্তব্য