শ্রীপুরে তিন বছরেও শেষ হয়নি ছোট সেতুর কাজ !

সাইফুল আলম সুমন,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে বরমীর কাশিজুলি গ্রামে মাটিকাটা নদীতে তিন বছরেও হয়নি সেতু নির্মাণের কাজ। প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যায় নির্ধারণ করে গত ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে কার্যাদেশ দেয়া হয়। বর্তমানে কাজ বন্ধ থাকায় বরমী ও কাওরাইদ ইউনিয়নের কাশিজুলি ও লাকচতল গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে মাটিকাটা নদীর এই ব্রীজটি। এতে জনদোর্ভেগে পড়েছে দুই ইউনিয়নের শতশত মানুষ।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, বরমী ও কাওরাইদ ইউনিয়নের কাশিজুলি ও লাকচতল গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল মাটিকাটা নদী। জনদুর্ভোগ লাঘবে নদীতে ৭০মিটার একটি সেতু নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে ২কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে গত ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে মেসার্স বাচ্চু এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কার্যাদেশের প্রথম মেয়াদ ২০১৬ সালের ২০ এপ্রিল থাকলেও পরে আরও দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। এদিকে সিংহভাগ কাজ বাকি থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে বিল প্রদান করা হয়েছে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা।

নৌকার মাঝি লালু মিয়া জানান, তিনি তাঁর নৌকা দিয়ে মাটিকাটা নদীতে যাত্রী পারাপার করেন প্রায় ২০বছর ধরে। তাই সামনে থেকে দেখে আসছেন একটি সেতুর অভাবে এলাকার লোকজনের চরম ভোগান্তি। তিন বছর আগে এখানে একটি সেতু নির্মাণ শুরু হলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। আমরা কবে যে এই সেতু ব্যবহার করতে পারব তা এখন আর বলতে পারছি না।

দেদোয়ার গ্রামের সত্তোরোর্ধ বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ আক্ষেপ করে বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এই সরকারের মেয়াদেই সেতুটির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে, কিন্তু তিন বছর হয়ে গেল। এক মাস কাজ করলে ছয়মাস থাকে কাজ বন্ধ, দেখারও যেন কেউ নেই। সেতু আদৌ নির্মিত হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য ওমর ফারুক ঢালী জানান, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মাটিকাটা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের, কিন্তু সরকার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজে ধীরগতি। এতে এলাকার মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। মাসের পর মাস সেতুর কাজ বন্ধ থাকলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরমী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সদস্য জাকির হোসেন জানান, জনদুর্ভোগ লাগবে এখানে একটি সেতুর অভাব সরকার পূরণ করেছে। কিন্তু দু:খের বিষয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে নির্মাণকাজ শেষ হচ্ছে না। তিন বছরে এই সেতুর মাত্র ৩০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাচ্চু এন্টারপ্রাইজের মালিক বাচ্চু মিয়া জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মালামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজ করতে বিলম্ব হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের সর্বশেষ মেয়াদ বর্ধিত করা আছে এই সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুজায়েত হোসেন জানান, নানা কারণে সেতু নির্মাণ কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য