কালীগঞ্জে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, বড় বোনকে মারধরের অভিযোগ

ইব্রাহীম খন্দকার,কালীগঞ্জ,গাজীপুর//কালীগঞ্জে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা এবং এর প্রতিবাদ করায় বড় বোনকে মারধর করা হয়েছে বলে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই শিক্ষার্থীর বোন বেবী মমতাজ রাইসা। সোমবার দুপুরে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড দড়িসোম এলাকায় এমন ঘটনায় রাতে ৩ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থীর বড় বোন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নির্যাতিত পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ মসলিন কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া আসার সময় দড়িসোম গ্রামের ফকির চাঁনের ছেলে বরকত (৩০) মেয়েকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে ওই শিক্ষার্থীকে বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে থাকে। সোমবার দুপুর ২টায় ওই শিক্ষার্থী স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত বরকতের দোকানের সামনে পৌছলে শিক্ষার্থীর হাতে ধরে তার দোকানের ভেতর নিয়ে সার্টার ফেলে দেয়। দোকানের ভেতরে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করলে ওই শিক্ষার্থী ডাক চিৎকার করতে থাকে। তার ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজনসহ রাস্তায় চলাচলরত লোকজন এগিয়ে গিয়ে সার্টার খুলে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। এর ন্যায় সঙ্গত প্রতিবাদ করায় বড় বোন বেবী মমতাজ রাইসাকে আসামিরা মারধর করে। পরে স্থানীয়রা বিবাদীদের মারমুখী আক্রমন থেকে বোনকে রক্ষা করে থাকে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে সোমবার রাতে বড় বোন বাদী হয়ে দড়িসোম গ্রামের ফকির চাঁনের দুই ছেলে বরকত ও রিফাত তার স্ত্রী মুক্তা বেগমের নামে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তবে থানায় অভিযোগের পর বিভিন্ন ভয়ভীতির মধ্যে ওই নির্যাতিত পরিবার রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বড় বোন বেবী মমতাজ রাইসা বলেন, আমি মানসিকভাবে বিপদগ্রস্ত। শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে গেছি। আমার বাড়ি পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার দক্ষিন ভান্ডারিয়া। আমরা স্বামী-স্ত্রী ও ছোট বোনকে নিয়ে দড়িসোম গ্রামের হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে ভাড়া থাকি।
গতকাল মঙ্গলবার কালীগঞ্জ থানার পিএসআই আশীষ কুমার দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি বলেন, ধর্ষনের চেষ্টার কোনো সাক্ষী পাইনি। তবে মেয়ে দোকানে গিয়েছিল তা সত্য। এই বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে মেয়ের বড় বোনকে মারধর করা হয়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য