কালীগঞ্জে শহীদ মিনারের পাশে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়

মো. ইব্রাহীম খন্দকার, কালীগঞ্জ,গাজীপুর//কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ন (আর আর এন) পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের পূব দিকে শহীদ মিনারের পাশে ময়লা আবর্জনায় ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। কালীগঞ্জ বাজারের যত ময়লা আবর্জনা, পলিথিন, পঁচা কাঁচা তরকারিসহ যত নোঃরা আবর্জনা রয়েছে সব শহীদ মিনারের পাশে ফেলে পরিবেশ বিনষ্ট করছে। এছাড়া কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন খাবার হোটেলের যাবতীয় ময়লা আবর্জনা সেখানে ফেলে ময়লার পাহাড় বানাচ্ছে। এর আশেপাশে দিয়ে সাধারন জনগণের যাতায়াতের সময় দুর্গগ্ধে মুখ চেপে ধরে যেতে হচ্ছে। শহীদ মিনারের পাশেই রয়েছে কালীগঞ্জ পৌরসভার পাবলিক টয়লেট। এর যাবতীয় ময়লা ও নোঃরা পানি শহীদ মিনারের আশেপাশে এবং ঐতিহ্যবাহী মাঠে গিয়ে জমে থাকে। মাঠের কোণায় জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে কালীগঞ্জ ক্রীড়া সংস্থার ভবনটি। যার কাজ অসমাপ্ত থাকায় ময়না আবর্জনার মাঝে ক্রীড়া সংস্থাটি হাবুডুবু খাচ্ছে। ময়না আবর্জনার পাশে ৬ তলা বিশিষ্ট কালীগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্রা নির্মিত হচ্ছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এসব সংস্থার পাশে প্রতিদিনই ফেলানো হচ্ছে ময়লা আবর্জনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছে। কালীগঞ্জের সেচ্ছাসেবী কয়েকটি সংগঠন নিজ উদ্যোগে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকটি দপ্তরে ক্লীন কালীগঞ্জ করতে স্বারকলিপি প্রদান করে থাকে। তারপরেও সেই সব সংস্থা শহীদ মিনার সহ তার আশেপাশের ময়লা আবর্জনা অপসারণ করতে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা,সাধারন মানুষসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দর মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।
কালীগঞ্জের কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহীদ মিনার স্বাধীনতার স্তম্ভ। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও শোক দিবস এলে প্রশাসন শহীদ মিনার ধুয়া মুছা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে থাকেন। দিবসটির পরদিন থেকে সেইস্থানে আবার ময়লা আবর্জনায় ভরতে থাকে। শহীদ মিনার সংরক্ষনের দায়িত্ব সবার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হোটেল মালিক বলেন, ময়না আবর্জনা ফেলার পৌরসভার নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। তাই মাঠের কোণায় ফেলতে হচ্ছে। তা না হলে এতো ময়লা কোথায় ফেলাবো ।
এই বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার সচিব মো. মিলন মিয়া বলেন, ময়লা ফেলার কালীগঞ্জ পৌরসভার নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। শহীদ মিনারের পাশে ময়লা না ফেলতে ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো কথা শুনছে না। ডাম্পিংয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে খাস জমি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। জমি পেলে ময়না আবর্জনা ফেলতে কোনো সমস্যা হবে না।

মন্তব্য

মন্তব্য