কুমিল্লার তিতাসে দূর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে ছাই লতিফের ঘর

হালিম সৈকত,কুমিল্লা:কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামে গতকাল রাত ২টা থেকে ২.৩০টায় দূর্বৃত্তের দেয়া আগুনে মৃত ধনু ভূইয়ার ছেলে আ: লতিফের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে তার পনের লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানান আ: লতিফ। ঘরে থাকা ১টি ফ্রিজ, ২টি আলমারী, ৫টি কম্বল, ১টি এলইডি টিভি, ৩টি খাট ও ১টি শো-কেসসহ ঘরে থাকা যাবতীয় সব কিছু পড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সে দীর্ঘদিন যাবৎ বাহরাইন থাকত। কিছু দিন পূর্বেই দেশে এসেছে। এসেই সে কিছু কুচক্রী মহলের রোষানলের স্বীকার হয়েছেন বলে জানান। কে বা কারা আগুন দিতে পারে জিজ্ঞাসা করা হলে আ: লতিফ বলেন, ভিটিকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু মোল্লার ছেলে জহিরুল ইসলাম, রুবেল এবং ভাতিজা মনির হোসেন এর নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ২৬ জুন আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে মারধর করে এবং আমার জমি জবর দখল করে। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করি। কেন মামলা করলাম তারা আবার কাউন্টার মামলা করে। বাহরাইন থাকা অবস্থায় আবু মোল্লার ভাতিজার সাথে আমার হাতাহাতি হয়। আমি কেন আবু মোল্লার কাছে মাথা নত করি না, তারই প্রতিশোধ হিসেবে তারা আমাকে মেরেছে এবং আমার বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দিয়ে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। আমি আমর শ^শুর বাড়িতে ছিলাম বলে প্রাণে বেঁচে যাই। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এই দিকে অভিযুক্ত আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে জহিরুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, লতিফ একজন আদম ব্যবসায়ী। চিহ্নিত দালাল। সে বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর নাম করে প্রায় বিশ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এখন পাওনাদাররা তার কাছে টাকা চাইতে এসেছে বলে সে টাকা না দিয়ে নানা তালবাহানা শুরু করেছে এবং রাত আড়াইটার দিকে নিজের ঘরে নিজেই আগুন দিয়ে পাওনাদারদের কাছ থেকে অব্যাহতি পেতে চাচ্ছে। অতীতেও সে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। আমার কাছে অনেকেই বিচার দিয়েছে সেই সুবাধে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছি মাত্র। আমার সাথে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে সামান্য মেরেছি।
মানিককান্দি গ্রামের বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম বলেন, মরহুম ধনু মিয়ার ছেলে আ: লতিফ বাহরাইন প্রবাসী কয়েক বছর আগে বাহরাইনের ভিসা দেবার নাম করে মানিক কান্দি গ্রামের জাকির ভূইয়া, জনু মিয়া, হান্নান, আ: বাতেন ও খোকনসহ আরো অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে স্ত্রীসহ বাহরাইন চলে যায়। এখন মানুষের টাকা না দেবার জন্যই এই কাহিনী সাজিয়েছে। যতটুকু জেনেছি তারা নিজেরাই আগুন লাগিয়েছে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য।
দুলারামপুর এবং মানিক কান্দি গ্রামের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চেয়ারম্যানের ছেলেরা এবং ভাতিজারা আ: লতিফকে একাধিকবার মেরে রক্তাক্ত জখম করেছে সত্য। কিন্তু আ: লতিফও মানুষের টাকা পয়সা দিচ্ছে না। মানুষের পাওনা টাকার জন্য চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে বিচার দিয়েছে। চেয়ারম্যান এবং ঢাকা দক্ষিণের ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, দুলারামপুরের কৃতি সন্তান আনিসুল হক তিন তিন বার সালিশ ঢাকলেও আ: লতিফ আসে নাই। চেয়ারম্যানের ছেলেরা তাকে জিজ্ঞাসা করলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি হয়। লতিফ মাইর খায়। পাওনাদাররা তার জমি জবর-দখল করে।
এই দিকে লতিফ আরও বলেন, চেয়ারম্যানের বিচার অবশ্যই মানি। আমি যদি চেয়ারম্যানের ডাকে না আসি তাহলে চেয়ারম্যান পর পর তিন বার নোটিশ করতে পারত। তারপরও না আসলে ধরে আনতে পারত। বাহরাইনে তার ভাতিজার সাথে আমার ঝগড়া হয়েছে। সেই প্রতিশোধ নেবার জন্যই আমাকে তারা প্রাণে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। আর এই জন্যই তারা আমার ঘর দোর পুড়িয়ে দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবী বিষয়টি দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসছে। এর একটি সুরাহা হওয়া দরকার। মানিক কান্দি গ্রামে কিছু দিন যাবৎ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা ঘটনা ঘটছে। এবং এলাকাবাসী বলেন অশান্ত হয়ে পড়েছি দুলারামপুর, মানিককান্দি গ্রাম। ব্যক্তিগত আধিপত্য এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার কারণেই এই ধরণের ঘটনা ঘটছে বলে জানান এলাকাবাসী। এলাকায় সবাই নেতা, কেউ কাউকে মানতে নারাজ। আগুন লাগার বিষয়টি সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছেন এলাকাবাসী। এখনও মামলা হয়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য

মন্তব্য