নামের আগে হাজী,আলহাজ্ব ও নামাযী

মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ ইসলামের পাঁচটি স্তরের মধ্যে সালাত ও হজ্ব দুটি বিষয়। হজ্ব প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে একবার ফরয। নামায আদায় করতে হয় দৈনিক পাঁচবার। হজ্জ্ব করে আসার পরে নামের শুরুতে হাজী ও আলহাজ্ব শব্দটি ব্যবহার হয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। এ ক্ষেত্রে এমন কথাও প্রচলিত আছে যে, একবার হজ্ব করলে হাজী আর দুইবার বা সাতবার হজ্ব¡¡ করলে আলহাজ্ব বলা হয়। প্রকৃত অর্থে এই কথার ভিত্তি নেই। তবে দীর্ঘকাল থেকে নামায আদায় করলেও নামের আগে নামাযী বা মুসল্লি শব্দটি ব্যবহার করতে দেখা যায় না। কেউ হইতো প্রশ্ন করতে পারেন? মৌলিক কোন বিষয় না লিখে কেন এই সামান্য বিষয় নিয়ে লিখছি? এই বিষয় নিয়ে কেন বাড়াবাড়ি করছি?
হজ্জ্ব গুরুত্ব পূর্ণ ইবাদত হলেও এখন যেন ফ্যাশনের মতো রুপ নিয়েছে। কতিপয় ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ মাওলানা পরিচয়ধারী ব্যক্তি সহ ইমাম বক্তা ও পীরদের মাঝে হাজী বা আলহাজ্ব শব্দের ব্যপক প্রচলন লক্ষণীয়। কেউ কেউ অতি উৎসাহি হয়ে ডাবল হাজী শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। এভাবে সূরা ফাতিহা শরীফ মুখস্ত বলতে পারলেই যদি ফাতিহায়ে হাফেজ বা হাফেজে ফাতিহা বলার প্রচলন শুরু হয়, তাহলে এক সময় প্রকৃত নাম খুজে পেতে দীর্ঘসময় লেগে যাবে। ডাবল আর ট্রিপলবাজ না হয়ে ঈমান আক্বীদাকে বিশুদ্ধ করাই মূল উদ্দেশ্য হওয়া দরকার। ডাক্টার হতে হলে যেমন এমবিবিএস পাস করতে হয় তেমনি ভাবে আলহাজ্ব বা হাজী হতে হজ্জ্ব করতে হয়। হজ্জ্বের মত একটি পবিত্র বিষয়কে নিছক দুনিয়ার অন্যান্য কাজের মত মনে করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। ইবাদত করেই যদি উপাধি লাগানো হয় তাহলে যারা শুধু শুক্রবার জুমুয়ার নামায আদায় করে তাদের কি শুক্রাজামাত বলা হবে? মোটেই নয়। অনেক জনকে বলতে শুনছি “সব বক্তার নামের আগে আলহাজ্ব আছে আমার নামের থাকবে না, তা হয় না”, “হজ্জ্ব¡ করলে মাহফিলের প্রোগ্রাম বেশি পাওয়া যায়”, “টাকা পয়সা তো আর কম নেই, এমন হজ্জ্ব না করলে মানুষ খারাপ বলে”, অল্প বয়স হলেও হজ্জ্ব করে আসা উচিত। মানুষে বিশ্বাস করে তাড়াতাড়ি। পাশাপাশি ব্যবসাটাও ভালো হয়।”
পবিত্র হজ্জ্ব কবুল হওয়ার অনেক শর্ত রয়েছে। সে সব শর্তের দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। অন্যান্য ইবাদতের মতো হজ্ব করার মধ্যেও অহঙ্কার রয়েছে। নামের আগে হাজী ও আলহাজ্ব শব্দ ব্যবহার করাটা অধিকাংশ সময় অহঙ্কারের ব্যবহারিক রুপ। সাওয়াবের পরিবর্তে যদি ছবির চাদরে ও অহঙ্কারে কোটি কোটি কবীরা গুনাহে পাপ হয় তাহলে অর্থ, সময় ও জীবন সবই নিষ্ফল। অথচ গর্ব-অহঙ্কার সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক বলেন,“আল্লাহ কোন আত্ম-আহঙ্কারী দাম্ভিক মানুষকে ভালোবাসেন না।” (পবিত্র সূরা লোকমান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮), “নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক দাম্ভিক আত্ম-গর্বিত ব্যক্তিকে কখনো পছন্দ করেননি।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৬) পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- “যার অন্তরে বিন্দু পরিমান অহঙ্কার থাকবে, সে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না।” (পবিত্র মুসলিম শরীফ) মানুষ অহঙ্কার করার অধিকার রাখে না। অহঙ্কার মহান আল্লাহ পাক উনার চাদর। এটাকে টানাহেঁচড়া করা উচিত নয়। কাউকে হাজী সাহেব বললে সমাজে তার প্রভাব বেড়ে যাবে, আস্থা বাড়বে। সেই আস্থাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায় প্রতারণার জাল ফেলবে, মানুষের মুখের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে থাকবে। এমনি নিরর্থক চিন্তা করা নিতান্তই বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। হজ্জ্ব করতে অর্থ ও শারীরিক শক্তির প্রয়োজন রয়েছে। যা সলাত ও সাওমের জন্য প্রয়োজন হয় না। যারা হজ্জ্ব¡ করতে যাবেন তাদের এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। প্রত্যেক ইবাদতের উদ্দেশ্য মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি অর্জন ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি অর্জন। এ মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ইবাদত কবুলের শর্তসমূহ পূরণ করলে আশা করা যায় মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ক্ষমা পাওয়া যাবে। (আমীন)

মন্তব্য

মন্তব্য