নববধূ নুশরাতের আর হলো না “মা” হওয়া ঘাতক স্বামী গ্রেফতার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি//চাঁপাইনবাবগঞ্জ ভোলাহাটে তিন মাসের অন্তসত্বা নববধূ নুশরাত জাহান কে শ্বাসরোধ করে হত্যাকরেছে ঘাতক স্বামী শায়েম। অন্তসত্বা স্ত্রীকে হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চলানোর চেষ্টা করে।
সরেজমিন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার অনুমান দুপুরের পর নববধূ নুশরাতকে হত্যা করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভোলাহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির জন্য নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা: মাহবুবুর রহমান তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতার পিতা-মাতা ও স্বজনেরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে সন্দেহে ভোলাহাট থানা পুলিশের সহযোগিতায় লাশ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর মৃতার পিতা বাদি হয়ে ৫জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নববধূর স্বজনেরা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর বাবুরঘোন গ্রামের আবুল কালামের এইচএসসি পরীক্ষা দেয়া মেয়ে নুশরাত (১৯) এর সাথে পার্শ্ববর্তী ভোলাহাট উপজেলার হোসেন ভিটা গ্রামের মৃতঃ ফজলুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে একাধিক বিয়ে করা মাদকসেবী শায়েম বিশ্বাস (৩৫) প্রতারণা করে ৪ মাস পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকেরর দাবিতে নববধূর উপর নানাবিধ শারিরিক র্নিযাতন ও অত্যাচার করে আসছিল।
নির্যাতনের বিষয়টি নুশরাত পরিবারকে জানানোর পর স্বামীর সংসারে আর না পাঠাবেনা এমন সিদ্ধান্ত নেন তার পিতা। পরে ঘাতক স্বামী লোকজন নিয়ে গিয়ে অনেক বুঝিয়ে ঈদের পর আবার নিয়ে আসে নুশরাতকে। এরপরও চলতে থাকে নির্যাতন।
সর্বশেষ বুধবার শ্বাষরোধ করে হত্যার পর নিজ ঘরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটোক সাজানোর চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে ভোলাহাট থানার অফিসার ইনর্চাজ ফাছিরউদ্দিন নুশরাতের স্বামী শায়েমকে গ্রেফতার করেন এবং লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করেন।
ফাছিরউদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে লাশ ময়না তদন্তের পর হত্যার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া যাবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
গ্রেফতারকৃত শায়েমকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ৫জনকে আসামী করে মেয়ের বাবা আবুল কালাম হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে অফিসার ইনর্চাজ নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য

মন্তব্য