সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় জেলায় ঝরল ৩৪ প্রাণ, আহত ৮০

নিজস্ব প্রতিবেদক,
দেশের ছয় জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হযেছেন আরও অন্তত ৮০জন। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন গাইবান্ধায়। এ জেলায় মারা গেছেন ১৭।

এছাড়া রংপুরের তারাগঞ্জে ৬, গোপালগঞ্জে ৫, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ ও নাটোরে ২ জন করে নিহত হয়েছেন। ঢাকাটাইমস জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে পড়ুন বিস্তারিত।

গাইবান্ধা

গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরগামী যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নারী ও শিশুসহ ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৫ জন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শনিবার ভোর সোয়া চারটার দিকে পলাশবাড়ির ব্র্যাক অফিস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বাসটি উল্টে গেলে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারায় ৮ জন এবং হাসপাতালে মারা যান আট জন।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে সৈয়দপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া আলম এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৬৪২২) বাঁশকাটা নামক স্থানে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছে ধাক্কা লাগে। আর এতেই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

রংপুর

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন। শুক্রবার দিনগত মধ্যরাত আড়াইটার সময় তারাগঞ্জের সলেয়াশায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তারাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রংপুর অংশের সহকারী পরিচালক এবং যাত্রীবাহী বাসটির অন্য যাত্রীরা জানান, রাত ২টার সময় তারাগঞ্জের সলেয়াশায় এলাকায় দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বিআরটিসি দ্বিতল বাসের চাকা বিকল হয়ে গেলে সেটি সারানোর সময় একই দিকে পঞ্চগড় থেকে আসা বালু বোঝাই একটি ট্রাক সজোরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসযাত্রী এবং বিআরটিসি দ্বিতল বাসের পিছনে ধাক্কা দেয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে ৬ জন যাত্রী ঘটনাস্থলে মারা যায়। তবে নিহতদের নাম ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।

অন্যদিকে এতে আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইয়াসিন (৩০), তুহিন (৩০), মিঠু (২৫), অজ্ঞাত (৩০), অজ্ঞাত (৩৫), আবু রায়হানসহ (৩০) আহত অন্যদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশংকাজনক।
ফরিদপুর

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী একটি বাস খাদে পড়ে দুইজন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ২০ জন। শনিবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পূর্ব সদরদি নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে ।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার সাইফুজ্জামান জানান, সকাল নয়টার দিকে ভাঙ্গার পূর্ব সদরদি নামক এলাকায় বরিশাল থেকে রাজশাহীগামী তুহিন পরিবহন নামের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায় । এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান। আহত ২০ যাত্রীকে পুলিশ ও ফায়ান সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করে।

নিহত দুই জনের নাম পরিচয় জানা যায়নি। লাশ ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে ।

গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনা পাড়া বাজারে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি রিকশা ভ্যানকে ধাক্কা দিলে ২ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।

শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা- খুলনা মহাসড়ক ও ঘোনাপাড়া টুঙ্গিপাড়া সড়কের মোড়ে এ দুঘর্টনা ঘটে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তঅ (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, টুঙ্গিপাড়া থেকে ছেড়ে আসা গোপালগঞ্জগামী একটি লোকাল বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা রিকশা ভ্যান, থ্রিহুইলারসহ বেশ কয়েকটি যানবাহনকে ধাক্কা দিয়ে ট্রাফিক আইল্যান্ডে উঠে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের চাপায় ২জন নিহত হন। আহত হয় ১০ জন। আহতদেরকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ভুইয়াগাতীতে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক ও হেলপার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ২০ বাসযাত্রী। শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের ভুইয়াগাতী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতেরা হলেন, রায়গঞ্জ উপজেলার শ্যামনাই গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে ট্রাকচালক শরিফ ফকির (৩৫), একই গ্রামের ধুকু মিয়ার ছেলে হেলপার রফিকুল ইসলাম (৩০)।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুর কাদির জিলানী জানান, বগুড়া থেকে ঢাকাগামী আরকে পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ভুইয়াগাঁতী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকের চালক ও হেলপার নিহত হন।

নাটোর

নাটোর শহরের আলাইপুরে বালুভর্তি ট্রাক চাপায় মহিলাসহ দুই অটোরিকশা যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিন জন। শনিবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে শহরের আলাইপুর কমলা সুপার মার্কেটের সামনে এ দূর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত মহিলা নলডাঙ্গা থানার সোনাপাতিল গ্রামের মঙ্গল দেবনাথের স্ত্রী সুলতা দেবনাথ। অপর নিহত ব্যাক্তি একই এলাকার কার্ত্তিক চন্দ্র দেবনাথের ছেলে কানাই দেবনাথ।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান ও ফায়ার ব্রিগেড স্টেশন কর্মকর্তা মুহিউদ্দীন জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে নলডাঙ্গা থেকে নাটোরগামী যাত্রী বোঝাই একটি অটোরিকশাকে বালু ভর্তি একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দিলে অটোরিকশার দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অটোচালকসহ অপর তিন যাত্রী আহত হয়। ট্রাক চালক ঘটনার পর পরই পালিয়ে গেছেন।

মন্তব্য

মন্তব্য