দেশে ফিরে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন, মোনালিসা।

মোনালিসা। মডেল ও অভিনেত্রী। দেশে ফিরে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন ঈদের নাটক-টেলিফিল্মে অভিনয় নিয়ে। অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন টিভি আয়োজনেও। বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তার সঙ্গে-

দেশে ফিরে আবারও পুরোদমে মিডিয়ায় কাজ শুরু করেছেন। ঈদে আপনাকে অনেক নাটকে দেখা যাবে নিশ্চয়ই?

দুই বছর পর দেশে ফেরার সুযোগ পেলাম। ফেরার পর থেকে প্রতিটি মুহূর্ত আনন্দময় মনে হচ্ছে। প্রিয় মানুষদের কাছে পেয়ে বেশ ভালো সময় কাটছে। আর মিডিয়ায়ও ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। এই ঈদে প্রায় দশটি নাটকে আমাকে দেখা যাবে। টেলিফিল্মেও কাজ করেছি। ‘আমরা ভিনদেশি তারা’ নামের একটা নাটক দিয়ে অভিনয় শুরু করেছিলাম। রাইমা ইসলাম শিমু নির্মিত এ নাটকে সহশিল্পী ছিলেন আফরান নিশো। এ ছাড়া তানিন রহমানের রচনায় মাকসুদুর রহমান বিশালের পরিচালনায় ছয় পর্বের ধারাবাহিক ‘ভালোবাসা তোমার আমার’, জাহিদ হাসানের ‘যে মাসে সুখ থাকে’, শাখাওয়াত মানিকের ছয় পর্বের ধারাবাহিক ‘আমার বউ নায়িকা’, রোকনের ‘ছুটির ফাঁদে’, মোরসালিন শুভর ‘কোম্পানির প্রচারের স্বার্থে’, মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘অনুভবে’ ও ‘কী জানি কী হয়’, আশফাক নিপুণের ‘হয়তো তোমার কাছে যাব’ নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি হানিফ সংকেতের পরিচালনায় একটি বিশেষ নাটক ও ঈদ ইত্যাদিতে পারফর্ম করেছি। সব মিলিয়ে ব্যস্ততার মধ্যেই দিন কাটছে।

ঈদ আয়োজনের নাটকে বিশেষ কোনো চরিত্রে আপনাকে দেখা যাবে?

মোরসালিন শুভর পরিচালনায় কোম্পানির প্রচারের স্বার্থে নাটকে আমি গার্মেন্টের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। এতে আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। আশফাক নিপুণের পরিচালনায় ‘হয়তো তোমার কাছেই যাব’ নাটকে আমার চরিত্র প্যারালাইজড আক্রান্ত এক মেয়ের। চরিত্রটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। এই নাটক দুটিতে দর্শক ভিন্নতা খুঁজে পাবেন।

ভক্তদের জন্য নাটক, টেলিছবি কিংবা অন্যান্য টিভি আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে কাজের মান বিচার করার সুযোগ কতটুকু থাকছে?

গৎবাঁধা নাকি ভালো কাজ করব- সেটা নির্ভর করে নিজের ওপর। আমি কখনও স্রোতের জোয়ারে গা ভাসাতে চাইনি। সে জন্য সংখ্যা নয়, কাজের মান নিয়ে সবসময় ভেবেছি। এখনও কাজ করার আগে গল্প, চরিত্র, নির্মাতা- এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবি।

বিরতির পর কাজ করতে এসে মিডিয়ার কী পরিবর্তন চোখে পড়েছে?

হ্যাঁ, বিশাল পরিবর্তন চোখে পড়েছে। মিডিয়ার সবকিছু বদলে যাচ্ছে। কমিটমেন্টের খুবই অভাব। প্রফেশনাল দিক থেকে কেউ কেউ বিচ্যুত হচ্ছে। একদিনেই নাটক নামিয়ে ফেলার পাঁয়তারা দেখছি। শিল্পীদের সময় দিতে চান না কোনো কোনো নির্মাতা। এভাবে চলতে থাকলে নাটকের মান এমনিতেই দিনে দিনে নেমে যাবে। ভালো কাজে সময় লাগে। চিন্তা করে সুন্দর করে করতে হয়। অনেক নির্মাতা তা বোঝেন না। তারা নামেমাত্র পরিচালক। এ বিষয়টি আমাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। আসলে আমরা কোথায় যাচ্ছি। বাজেট কমের কারণে ভালো নির্মাতাদের অনেকেই কাজ করতে চান না। সবাই মিলে চেষ্টা করছি ভালো কিছুর জন্য। ভালো করার জন্য সাপোর্ট দরকার। বেশি লাভের জন্য কাজের মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য

মন্তব্য