মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি — খোলা চিঠি–

“পাঁচ লক্ষাধিক বেসরকারি শিক্ষকদের হৃদয়ের ক্রন্দন ও হাহাকার শুনতে কি পান?”
হে বিশ্বশান্তি ও মানবতার অগ্রদুত,
আপনি বিশ্বের বিষ্ময়, উন্নয়নের রোল মডেল। আপনি বিশ্ববরেণ্য চিন্তাবিদ ও পরিকল্পনাকারী। আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে উন্নয়নশীল দেশের তকমা অর্জন করেছে। প্রত্যাশার জাল বুনছি এজন্যে যে, আপনার গতিশীল নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত স্বত্তে¡ও আপনার দুরদর্শী ও সাহসী ভূমিকায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। প্রায় ১লক্ষ ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে নির্মাণ করেছেন বেশ কিছু বৃহদাকার ফ্লাইওভার। নির্মিত হচ্ছে মেট্রোরেল ও এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ে। মোদ্দাকথা আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে বৈপ্লবিক উন্নতি সাধিত হয়েছে তা রীতিমত ঈষর্ণীয়। সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে হেন কোন শ্রেণিপেশার মানুষ নেই যারা আপনার দুরদর্শী ও সময়োচিত সিদ্বান্তে সরাসির উপকৃত হয়নি। বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের তো পোয়াবারো। দফায় দফায় বেতন ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি। স্বল্প সুদে ৭৫ লক্ষ টাকা গৃহনির্মাণ ঋণ। এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। একসঙ্গে ২৬ হাজার রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ আপনার অনন্য কীর্তি। যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে একই সাথে ৩৩ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে। আপনি জাতির জনকের কন্যা। আপনিও পেরেছেন, পারেন এবং পারবেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনি জনদরদী, অপরের দুঃখে আপনার প্রাণ কাঁদে। কিন্তু আমরা যারা বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আপনার কৃপা দৃষ্টিলাভ এবং আশির্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। সংখ্যায় আমরা পাঁচ লক্ষাধিক এবং দেশের ৯৮ ভাগ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমাদের দ্বারা পরিচালিত হলেও আমরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত। সরকারি কর্মচারিরা ২০১৫ সাল থেকে বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট পেলেও রহস্যজনক কারণে আমরা অধ্যাবধি পাইনি। একইভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে বৈশাখী ভাতা পাপ্তির ক্ষেত্রে।
হে গণতন্ত্রের মানসকন্যা,
রাষ্ট্রের সকল নাগরিক আপনার কাছে সমান। বাঙালি স্বভাবতই উৎসব প্রিয় জাতি। বেসরকারি শিক্ষকরা এর বাইরে নয়। তারা কোন ভিনগ্রহ থেকে আসেনি। সমাজের আট দশটা মানুষের মত তাদেররও স্বাদ-আহ্লাদ আছে। সন্তান-সন্ততি আছে। ঈদের কেনাকাটার শখ তাদেরও আছে। আমি নিজে একজন প্রধান শিক্ষক। আমার বেতন স্কেলের ২৫% ঈদবোনাস মাত্র ৭২৫০/- টাকা। এ নামমাত্র টাকায় স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ঈদের কেনাকাটা আদৌ সম্ভব কিনা এ প্রশ্ন জাতির কর্ণধার আপনার কাছেই রাখলাম।
হে বিশ্ববরেণ্য চিন্তাবিদ,
বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি, বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্খা ও ভরসার স্থল, আপনি দীর্ঘ ১৫ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী। আপনার নেতৃত্বে দেশ অনেক দুর এগিয়ে। বিশ্ববাসী আজ বাংলাদেশকে সমীহ করে। আপনি নিজেও স্বীয় দক্ষতা ও যোগ্যতাবলে খ্যাতির চূড়ায় আসীন। অথচ আপনারই আস্থাভাজন মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজ অর্ধাহারে, অনাহারে কিংবা উৎসব-পার্বণে মলিন মুখে থাকবে তা নিশ্চয়ই প্রত্যাশিত নয়। তাই আমরা যে মহানব্রত নিয়ে এ সেবামূলক পেশায় আত্মনিয়োগ করেছি তা যেন স্বার্থক ও সফল হয় তার কাণ্ডারী একমাত্র আপনিই হতে পারেন। আপনার একটি সাহসী সিদ্বান্তই বদলে যেতে পারে আমাদের ভাগ্যের চাঁকা। শিক্ষা ব্যবস্থায় সাধিত হতে পারে বৈপ্লবিক উন্নয়ন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস জাতির জনকের রক্ত যাঁর শিরা-উপশিরা ও ধমনীতে প্রবাহিত, তিনি বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে একদিন না একদিন জাতীয়করণ করবেন। আশার কথা যে, আপনি ইতমধ্যেই দেশের বিভন্ন উপজেলায় কিছু প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করেছেন। এজন্য আপনাকে সাধুবাদ জানাই। লক্ষ যেহতু শিক্ষার মানোন্নয়ন তাই বিচ্ছন্নভাবে নয়, দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করে পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষকের মনের মনিকোঠায় ঠাঁই করে নেবেন এবং বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাসে নিজের নামটি স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে রাখবেন এ প্রত্যাশায় এ কিঞ্চিৎ আখ্যায়িকার ইতি টানছি।
ইতি
আপনারই গুণমুগ্ধ
মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ভূঞা
প্রধান শিক্ষক
পীরকাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়,
মুরাদনগর, কুম­িল্লা

মন্তব্য

মন্তব্য