কুমিল্লা দেবিদ্বারে আ’লীগ সমর্থকদের হামলায় আ’লীগ অফিস ভাংচুর বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর ছবি ছিড়ে ফেলা সহ আসবাব সামগ্রীর ব্যপক ক্ষতি সাধন; আহত-১০

ফরহাদ হোসেন ফখরুল : বুধবার (২৩ শে মে) বিকেলে দেবীদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়ন আ’লীগ কার্যালয়ে হামলা ভাংচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় হালাকারীদের রড, ছোরা, হকিষ্টিক, চাপাতির আঘাতে অন্তত: ১০ নেতা-কর্মী আহত হওয়া সহ অফিসের আসবাব সামগ্রী ভাংচুর ও বঙ্গবন্ধুর ছবি এবং প্রধান মন্ত্রীর ছবি ছিড়ে ফেলার সংবাদ পাওয়া গেছে।
হামলায় মারাত্মক আহতদের মধ্যে ২জনের একজন মাহববুব আলমকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অপর আহত বাচন মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে আহতদের পরিবার জানিয়েছেন। হামলায় মারাত্মক আহত বাচন মিয়া(২৮) বরকামতা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগ সদস্য এবং নবিয়াবাদ গ্রামের আবু তাহেরের পুত্র ও মাহববুব আলম (৩২) কুমিল্লা (উঃ) জেলা ছাত্রলীগ’র সদস্য, ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামের আব্দু মিয়া মাষ্টারের পুত্র।

স্থানীয়রা জানান, মারাত্মক আহত বরকামতা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগ সদস্য নবিয়াবাদ গ্রামের আবু তাহের’র ছেলে বাচন মিয়া(২৮)কে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওখানেও অপর গ্রুপের সমর্থকরা বাচন মিয়ার লোকদের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়। হামলায় ছাত্রলীগ বরকামতা ইউপি সদস্য ও বরকামতা গ্রামের মৃতঃ মিন্নত আলীর পুত্র রনি আহমেদ(২৬)কে মারাত্মক আহত করে। এদিকে আহত বাচন মিয়াকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাতে না পারায় এবং নিরাপত্তা হীনতার কারনে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, ওখানেও রোগীর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
যুবলীগ নেতা আজাদ মামুন বলেন, বুধবার বিকেল অনুমান ৪টায় লিটন সরকার বরকামতা সড়কে একটি প্রাইভেট কার নিয়ে নিজে ড্রাইভ করে যাওয়ার পথে সড়কের পাশ দিয়ে যাওয়া কয়েকজন পথচারির উপর সড়কের কাঁদা ময়লা পানির ছিটা পড়ে। এসময় পথচারীরা তাদের গালমন্দ করলে লিটনের কয়েকজন সমর্থক গাড়ি থেকে নেমে এসে পথচারীদের উপর চড়াও হয়। লিটন সরকারও গাড়ি থেকে নেমে এসে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়। ওই ঘটনার কিছুক্ষন পর জাফরাবাদ গ্রামের মৃতঃ মিন্টু রায়’র পুত্র যাদব রায়(২৬)কে একা পেয়ে পথচারীরা তাকে মার ধর করে। আমরা আ’লীগ অফিসে নিয়মিত ইফতারের আয়োজন করি এরই মধ্যে বিকেল ৫টায় ২০/২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল আ’লীগ বরকামতা ইউনিয়ন কার্যালয়ে হামলা, ভাংচুর, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ছিড়ে ফেলা ও দলীয় নেতা-কর্মীদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। হামলায় অন্ততঃ ১০ নেতাকর্মী আহত এবং ইফতার সামগ্রী তছনছ করে ফেলে দেয়। কি কারনে হামলা হলো তার কারন নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও তিনি বলেন, পথচারিদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনাস্থল প্রায় কোয়াটার কিলো মিটার দূর হলেও তারা বিনা কারনে আওয়ামীলীগ অফিসে এ হামলা চালায়। এঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহত বাচন মিয়ার মা মামলা দায়ের’র প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।
আ’লীগ বরকামতা ইউনিয়ন কার্যালয়ে হামলা, ভাংচুর, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ছিড়ে ফেলা ও দলীয় নেতা-কর্মীদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার বিষযে লিটন সরকার বলেন, এসব দলীয় আভ্যন্তরীন কোন্দলকে কেন্দ্র করে নিজেদের রক্ষায় সাঝানো ঘটনা। অপরদিকে অভিযোগ করে বলেন, বুধবার বিকেলে কুমিল্লা (উঃ) জেলা ছাত্র লীগ’র শিক্ষা ও পাঠ চক্র বিষয়ক সম্পাদক ও জাফরাবাদ গ্রামের মৃতঃ মিন্টু রায়’র পুত্র যাদব রায়(২৬) মা’য়ের ঔষধ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে, দলীয় মতবিরোধে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে, মাসুদ, মাহবুব আলম, সালাউদ্দিন, বাচন মিয়া, রাজু, গিয়াস উদ্দিন, রনি আহমেদ, আল-আমিন সহ ১৪/১৫জন তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় মারাত্মক আহত যাদব রায়কে আশংকাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছাত্রলীগ নেতা যাদব রায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্র লীগ’র উদ্যোগে চান্দিনা বাস ষ্ট্যশনে মানব বন্ধন’র আয়াজন করা হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতা যাদব রায়ের মা গীতা রানী বাদী হয়ে ১০/১২ জনকে অভিযুক্ত করে দেবীদ্বার থানায় একটি অভযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান।
দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সরকার আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বরকামতা আ’লীগ অফিস ভাংচুর, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ছিড়ে ফেলা ও দলীয় নেতা-কর্মীদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার বিষযে কোন অভিযোগ পাইনি। তবে ছাত্র লীগ নেতা যাদব রায়ের উপর কিছু পোলাপাইন হামলা ও আহত করার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এছাড়া ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ’র উদ্যোগে চান্দিনা বাস ষ্ট্যাশনে মানব বন্ধন’র আয়াজন করা হয়েছে।

এ দিকে শুক্রবার(২৫ মে) ফেইসবুক মিডিয়াতে একটি ভিডিও ভাইরালে তুলপার দেবিদ্বার তৃণমুল আওয়ামী লীল। ভিডিওতে দেখা যায় জেলা পরিষদের সদস্য শাহজাহান সরকার বরকামতা আওয়ামী লীগ অফিস অস্বীকার করেন এবং নিজ মুখে হামলাকারীর নাম বলেন।

এক আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক বলেন, ভিডিও টি সোস্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হলেও বারবার থানায় অভিযোগ করার চেষ্টা করা হলেও। পুলিশ এ বিষয়ে নিরভ ভূমিকায় রয়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য