ড্রেন আছে, নেই নিস্কাশন ব্যবস্থা, জনদূর্ভোগ চরমে

সাইফুল আলম সুমন,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে মাওনা চৌরাস্তার কাঁচাবাজার এলাকায় ড্রেন থাকলেও নেই নিস্কাশন ব্যবস্থা কার্যত পানিবন্দী ব্যবসায়ীরা। একটু বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলবদ্ধতা, নিস্কাশনের অভাবে জনদূর্ভোগ পহাতে হচ্ছে বাজার করতে আসা জনসাধারণের আর ব্যবসায়ীরা পড়েছে চরম বিপাকে। এর কারণ হিসাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ত্রুটিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শ্রীপুরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ীক কেন্দ্র মাওনা চৌরাস্তার উত্তর পাশের কাঁচাবাজার ও এর আশপাশ পানিবন্দী হয়ে আছে। বাজার হয়ে মাওনা-তেলিহাটি সড়কটির অবস্থান। এই সড়কে শতশত মানুষ ময়লা পানি পায়ে মাড়িয়ে কাঁচাবাজারে করছে। রাস্তার এক পাশে আধুনিক বিপনী কেন্দ্র কিতাব আলী প্লাজা ও ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ারে প্রবেশের বিকল্প পথ। এই বিপনীকেন্দ্র গুলোতে প্রবেশেও দুর্ভোগে পড়ছেন ক্রেতারা। তা ছাড়া রমজান উপলক্ষে কাঁচাবাজারের তুলনামূলক ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়া মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে।

কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম জানান, একটু বৃষ্টি হলেই সড়কের এই অংশে পানি জমে যায়। ড্রেন থাকার পরেও এমন জলাবদ্ধতার কারণ ড্রেন পরিস্কার না করা। তিনি বলে, এটি বৃষ্টির মৌসুম, এ সময় প্রায়ই বৃষ্টি হবে। বৃষ্টিতে এমন জলাবদ্ধতা থাকলে তো আমাাদের ক্রেতা সংকটে ভোগতে হবে। মাওনা চৌরাস্তার ব্যবসায়ী আমজাদ বলেন, ড্রেন থাকার পরেও এমন জলাবদ্ধতা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ব্যবসায়ীরা ভোগান্তি ও ক্ষতির সম্মুখীন। তেলিহাটি থেকে আসা ক্রেতা আল আমীন বলেন, ময়লা ও দূর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে বাজারে যেতে হয়। একটা আধুনিক বাণিজ্যিক এলাকায় এমন দৃশ্য বেমানান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা এই দুর্ভোগ দেখেন না। অপর ক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেখছি একটু বৃষ্টিতেই এই স্থানটিতে পানি জমে যায়। অথচ এর পাশে দুই-তিনটা বড় বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র আছে। মানুষের দূর্ভোগ বিবেচনা অতি দ্রুত পানি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরী।

শ্রীপুর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদুল ইসলাম বলেন, মাওনা চৌরাস্তা ও মাওনা কাঁচাবাজার এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব সড়ক ও জনপথের। এটি তারাই করবেন।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী গাউসুল হাসান মারুফ বলেন, স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কিছুদিন আগে মাওনা চৌরাস্তা ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ২কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ড্রেন তৈরি করা হবে। তখন আর এমন ভোগান্তি থাকবে না। তিনি বলেন, ওই স্থানে বর্তমানে ড্রেন আছে কিন্তু এর আউটলেট নেই। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়া সড়কটির আশপাশের বাড়ির সকল বর্জ্য এই ড্রেনে ফেলার কারণেও জলাবদ্ধতার পরিমাণ বেড়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য