ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের মূলে দুই সেতুর টোলপ্লাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক//
বেশ কিছু দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কজুড়ে যানজটে অসহনীয় যন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে যানবাহনের যাত্রীদের। কুমিল্লা থেকে ঢাকা পৌঁছতে যেখানে সময় লাগে বড়জোড় ২ ঘণ্টা, সেখানে সময় লাগছে ৮/৯ ঘণ্টা! গতকাল মঙ্গলবারের ন্যায় আজ বুধবারও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ব্রিজ থেকে কুমিল্লার চান্দিনার মাধাইয়া পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার এলাকা জড়ে যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এছাড়া কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজা থেকে চান্দিনার মাধাইয়া পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার অংশে যানজট রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চান্দিনার মাধাইয়া, দাউদকান্দির গৌরিপুর, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া, মদনপুর এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে অসংখ্য যানবাহন আটকে রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, গোমতী ও মেঘনা সেতু টোলপ্লাজায় ওজন স্কেলে একটি মালবাহী যানবাহন কমপক্ষে ১০/১৫ মিনিট আটকে রাখা হয়। সেখানে ট্রাক চালক ও হেলপারের সাথে টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষের টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির চিত্র নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। টোলপ্লাজায় মালবাহী যানবাহন আসা মানেই ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দিতে হবে টোলপ্লাজার কর্মকর্তাদের। এই টাকার লেনদেন নিয়ে অনেক সময় অতিবাহিত হয়। ফলে টোলপ্লাজাগুলোতে মালবাহী যানবাহন ও যাত্রীবাহী যানবাহনের ভিড় জমতে থাকে। ফলে টোলপ্লাজার কর্তৃপক্ষের সৃষ্টি কৃত্রিম যানজটে নাকাল হয় যানবাহন ও যাত্রীরা। মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টার আটকে থাকবে যানবাহন।

দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় যানজটে আটকে থাকা ট্রাক চালক সিদ্দিক মিয়া জানান, টোলপ্লাজার কর্মকর্তারা যে কোন মালবাহি ট্রাক দেখলেই কমপক্ষে দুই হাজার টাকা আদায় করে। কিন্তু রসিদ দেয় মাত্র ৫ শত টাকার। তাদের জন্যেই এ যানজট সৃষ্টি হয়।

মদনপুর এলাকায় যানজটে আটকা থাকা ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী ব্যবসায়ী শাহ ইমরান জানান, এক জায়গায় আড়াই ঘণ্টা আটকে আছি। চারলেন মহাসড়ক এখন গলার কাঁটা। টোলপ্লাজার কর্মকর্তাদের দুর্নীতি বন্ধ না হলে আমাদের মত সাধারণ যাত্রীরা দিনের পর দিন এই ভোগান্তি নিয়েই চলাচল করবো।

ফেনী যানজটমুক্ত হওয়ায় যানবাহনগুলো দ্রুত গতিতে এসে জড়ো হয় সেতুর টোল প্লাজায়। সেখানে কিছুটা বিলম্বিত হয়। এরপর সেতুতে উঠাকালীন যানবাহনের গতি অন্তত ৮০ ভাগই কমে আসে। আর চার লেনের গাড়িগুলো দুই লেনের সেতুতে চলাচলে ধীর গতির ফলে মূলত এই যানজট।

এছাড়া কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজা থেকে চান্দিনার মাধাইয়া পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার অংশে যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে থেমে আছে। যানজটে আটকে আছে হাজার হাজার যাত্রী। কুমিল্লা থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগছে ৮/৯ ঘণ্টা।

যানজটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। রয়েল বাসের যাত্রী কুমিল্লার নগরীর বাসিন্দা মেহেদী জানান, ২ ঘণ্টা ধরে আটকে আছি টোলপ্লাজা এলাকায়। ছোট বাচ্ছা দুটো সাথে আছে। তাদের বাথরুমের প্রয়োজন হয়েছে। কিন্তু কি করবো। অনেক যাত্রী মহাসড়কের পাশে তাদের বাথরুমের কাজ সারছে। এসব কি নজরে পড়ে না যোগাযোগ মন্ত্রীর? সীমাহীন দুর্ভোগ। মহাসড়কের সুফল আমরা পাচ্ছি না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ফেনির ফতেহপুর ওভারপাস এলাকার যানজট ছিল। সোমবার দুপুরের পর থেকে তা কমতে শুরু করে। অন্যদিকে ঢাকামুখী কুমিল্লার দাউদকান্দিতে যানজট তীব্র হয়। মঙ্গলবার ভোররাত থেকে দাউদকান্দি টোলপ্লাজা অংশে শুরু হওয়া যানজট এখনো তীব্র আকার ধারণ করে আছে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ আর টোলপ্লাজায় ধীরগতির কারনে যানজট নিয়ন্ত্রনে আসছে না। যানজট নিরসনে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

মন্তব্য

মন্তব্য