তিতাসে ফের ষড়যন্ত্রের জালে মুক্তিযোদ্ধার পরিবার প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

মোঃ জুয়েল রানাঃকুমিল্লার তিতাসে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহিনুল ইসলাম সোহেল শিকদার ও তার ছোট ভাই উপজেলা যুব লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ লালন শিকদারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে হোমনা-গৌরীপুর সড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৭ মে সোমবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনসমূহের উদ্যোগে গাজীপুর বাসস্ট্যাশন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে হোমনা-গৌরীপুর সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে গাজীপুর খান মডেল বহুমূখী হাই স্কুল কলেজ মাঠে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কুমিল্লা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য একাত্ততা প্রকাশ করে উপস্থিত হন। সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ মোহসিন ভূঁইয়া, দপ্তর সম্পাদক মো. মীর শওকত লিটন, উপজেলা যুব লীগের আহ্বায়ক মো. সাইফুল আলম মুরাদ, উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম তুষার প্রমূখ। এসময় উপজেলার সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ দলীয় শত শত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগ যখন বলিষ্ট নেতৃত্ব নিয়ে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো, তখন একটা জামাত-বিএনপি’র দালালচক্র ধারাবাহিক ঘোর ষড়যন্ত্রের নিল নকশা হিসেবেই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত উপজেলা পরিষদের একমাত্র ভাইস চেয়ারম্যান ও তার ছোট ভাইকে আবারো কোথাকার কোন ডাকাত নিহতের ঘটনার মামলায় আসামী করা হয়। অথচ ঐ ডাকাত নিহতের ঘটনা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হয় পুলিশের সাথে তাদের বন্দুকযুদ্ধ হয় এবং সেই যুদ্ধে নিহত ডাকাতের ভাইসহ ২জন আটকও হয়। উক্ত মামলা প্রত্যাহার করারও জোর দাবী জানায় সমাবেশে বক্তারা।উল্লেখ্য, গত ১লা মে মঙ্গলবার দুপুরে দাউদকান্দির নন্দন পুরে পুলিশ ও জেলা ডিবি’র সাথে দুর্ধর্ষ জলদস্যু ডাকাতদলের ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধ হয় এবং ঐ ঘটনায় ৫ পুলিশ আহত হয়। বেশকিছু ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয়ে পালিয়ে যাবার সময় দাউদকান্দির বাজরা গ্রামের রাজু মিয়ার ছেলে মহসিন (৩৭) মো. রিপন (২৫) নামে দুই কুখ্যাত ডাকাতকে আটক করেন। এর দুদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে আটক ডাকাত মহসিনের ছোট ভাই মো. ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ওই ঘটনায় রহস্যজনক কারণে নিহতের স্ত্রী সুমি আক্তার বাদী হয়ে দাউদকান্দি থানায় তিতাস উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল শিকদার ও তার ছোট ভাই নুর মোহাম্মদ লালন শিকদারসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ৮/১০ জনের নাম অজ্ঞাত রেখে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে একজন অরাজনৈতিক জলদস্যু নিহতের ঘটনায় সরকার দলীয় একজন কর্মী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তন ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে একের পর এক ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা এবং উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলেই মনে করছেন এলাকার উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, ইতোপূর্বেও বেশ কয়েকবার হামলা দিয়ে গুলি করে হত্যা চেষ্ঠাসহ বেশ কয়েকটি হত্যা মামলায় জড়িয়েছিলো তিতাসের নিরীহ-নিপীড়িত মানুষের বন্ধু সোহেল শিকদারকে। কিন্তু প্রতিটি ঘটনাতেই তিনি আল্লাহর রহমতে প্রাণে বেঁচে যায় এবং মামলাগুলো থেকে আদালতের তদন্তে নির্দোষ প্রমানিত হয়েছেন।

মন্তব্য

মন্তব্য