এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডের উন্নতি: পাশের হার ৮০.৪০%, জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬,৮৬৫

হালিম সৈকত, কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে পাশের হার ৮০.৪০%। গত বছর এ হার ছিল ৫৯.০৩%। এ বছর পাশের হার বৃদ্ধি পেয়েছে ২১.৩৭%। এ বছর কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১,৮২,৭১১ জন যা গত বছর ছিল ১,৮২,৯৭৯ জন। তার মধ্যে পাশ করেছে মোট ১,৪৬,৮৯৭ জন। বিগত বছর পাশ করেছিল ১,০৮,০১১ জন। ছেলেদের মোট পাশের হার ৮১.২৯% যা গত বছর ছিল ৫৯.৫১% এবং মেয়েদের মোট পাশের হার ৭৯.৬৯% যা বিগত বছর ছিল ৫৮.৬৩%।
বিভাগ ওয়ারী পাশের হার বিজ্ঞানে ৯৪.৫২%। ২০১৭ সালে ছিল ৮৪.১৬%। বিজ্ঞান বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৫৪,৮৭৯ জন। ২০১৭ সালে ছিল ৪৭,১৮১ জন তার মধ্যে পাশ করেছে ৩৯,৬৪১ জন। এ বিভাগে মেয়েদের পাশের হার ৯৪.২৩% গত বছর ছিল ৮৩.৯৫% এবং ছেলেদের পাশের হার ৯৪.৫২% গত বছর ছিল ৮৪.৩৪%।
মানবিকে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৫১,৭৭৭ জন। গত বছর ছিল ৫৫,৩৩০ জন। যার মধ্যে পাশ করেছে ৩৫,১৩১ জন। গত বছর ছিল ২২,৬০৯ জন। মোট পাশের হার ৬৭.৮৫%। ২০১৭ সাল এই হার ছিল ৪১.১৪%। ছেলেদের পাশের হার ৬৫.৫২% যা গত বছল ছিল ৩৬.৭০% এবং মেয়েদের পাশের হার ৬৮.৫২% যা গত বছর ছিল ৪২.৪৫%। এই বছরও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭৬,০৫৫ জন। ২০১৭ সালে ছিল ৮১,২৯৫ জন। তার মধ্যে মোট পাশ করেছে ৫৯,৯৭১ জন। মোট পাশের হার ৭৮.৮৫%। গত বছর এই হার ছিল ৫৬.৫৬%। ছেলেদের পাশের হার ৭৬.৭৯%। ২০১৭ সালে ছিল ৫২.২১% এবং মেয়েদেরে পাশের হার ৮১.৩৬% যা ২০১৭ সালে ছিল ৬২.১৮%। ২০১৭ সালের মতো ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাশের হার বেশি।
এ বছর মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬,৮৬৫ জন। গত বছর ছিল ৪,৪৫০ জন। যার মধ্যে ছেলেরা পেয়েছে ৩,৪৮৬ জন এবং মেয়েদের সংখ্যা ৩,৩৭৯ জন। ২০১৭ সালে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪,৪৫০ জন। এ বছর জিপিএ ৫ বৃদ্ধি পেয়েছে ২,৪১৫ জন।
১০০% পাশ করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭৪টি। গত বছর ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা শতভাগ পাস করেছিল।
এক জনও পাশ করতে পারেনি এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এই বছর নেই।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ২০১৮ সালে মোট ১,৭০৭টি। বিগত বছর ১,৬৯৫ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল।
এই বছর কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে জিপিএ ৫ পাওয়া স্কুলের মধ্যে সেরা কুমিল্লা মর্ডাণ হাই স্কুল। ৩৮৮ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে পেয়েছে ৩৩০ জন, নবাব ফয়জুন্নেসা হাই স্কুল থেকে পেয়েছে ২৯৯ জন, ইবনে তাইয়েমা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে পেয়েছে ২০২ জন, ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ পেয়েছে থেকে ১৮৮ জন, নোয়াখালী সরকারি গার্লস হাইস্কুল পেয়েছে থেকে ১৪৫ জন, নোয়াখালী জিলা স্কুল থেকে পেয়েছে ১৪৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার আনন্দ সরকারি হাই স্কুল থেকে পেয়েছে ১৩৮ জন, ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল থেকে পেয়েছে ১৩৫ জন, ফেনী সরকারি গার্লস হাই স্কুল থেকে পেয়েছে ১২৪ জন, চাঁদপুরের আল-আমিন একাডেমী থেকে পেয়েছে ১১৮ জন এবং চাঁদপুরের মাতৃপীঠ সরকারি গার্লস হাইস্কুল থেকে পেয়েছে ১০২ জন।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন এ বছর কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষার্থীদের ফলাফল বিগত বছরের তুলনায় সন্তোষজনক। গড় পাশে আমরা এগিয়ে আছি। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শহীদুল ইসলাম, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর আবদুস সালাম ও অডিস অফিসার মো. আবদুল খালেকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের রেজাল্ট বিপর্যয়ের কারণ বের করে আমরা দফায় দফায় প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছি। কেন ফলাফল খারাপ হয়েছে। কি করলে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সম্ভব? তাদের মতামত নিয়ে বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফলাফল ভালো করতে কাজ করেছে। তারই ফলাফল আজকের এই ভালো ফল। প্রধান শিক্ষকদের দাবী অনুযায়ী যারা নির্বাচনী পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারে নি। তাদেরকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি।
এই বছর থেকে আমারা শিক্ষামন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক যারা টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করেছে,তাদেরকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে হয়নি। দুদকও এই বছর বিষয়টি নিযে কাজ করেছে।। প্রত্যেক উপজেলার একাডেমিক সুপারভাইজার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারগণও তদারকি করেছেন। সাংবাদিকদের সহযোগিতাও ছিল বলে সচিব মন্তব্য করেন।

মন্তব্য

মন্তব্য