গুরুতর অসুস্থ, কোর্টকে জানাবেন : খালেদা জিয়া

উচ্চ আদালতে আগামী ৮ মে জামিন শুনানিতে ‘অসুস্থতা’র বিষয়টি উপস্থাপনের জন্য আইনজীবীদের বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদার সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুর রেজ্জাক খান সাংবাদিকদের কাছে একথা জানান।
আবদুর রেজ্জাক খান বলেন, ‘ম্যাডাম বলেছেন, “আমি অত্যন্ত গুরুতরভাবে অসুস্থ, এটা কোর্টকে জানাবেন।” জেলে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে থাকার কারণে দিন দিন তার স্বাস্থ্যের অবণতি ঘটছে। মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট—এটা সর্বোচ্চ আদালতে উপস্থাপনের জন্য আমাদের তিনি বলেছেন।’
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘হাইকোর্ট বিস্তারিত শুনানি করে ম্যাডামকে জামিন দিয়েছেন। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে এবং আমার ৫০ বছরের ক্রিমিনাল প্রাকটিসে পাঁচ বছর সাজার পর হাইকোর্ট বিভাগ যখন জামিন দেন, উচ্চ আদালত সেই জামিন কখনো স্থগিত করেননি। এখানে শুধু স্থগিতই করেননি, এখানে তারা পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য দীর্ঘ সময় দিয়ে তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমরা আশা করি, বিশ্বাস করি, দেশে যদি আইনের শাসন বিন্দুমাত্র থাকে, তাহলে অবশ্যই ৮ তারিখে ম্যাডাম জামিন পাবেন।’
আজ বিকেল ৪টায় পুরনো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে প্রবেশ করেন তার পাঁচ শীর্ষ আইনজীবী। তারা হলেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুর রেজ্জাক খান, অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন। বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে আসেন।
অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমরা ম্যাডামকে দেখতে এসেছিলাম আইনজীবী হিসেবে যেহেতু আমরা মামলা করি, সেই কারণে। ম্যাডাম খুবই অসুস্থ। তার যে বাম হাত তিনি নাড়াতে পারেন না, তা শক্ত হয়ে গেছে এবং ঘাড়েও তার সমস্যা আছে। অর্থাৎ্ এই রকম একটি স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় বন্দী থাকাবস্থায় যেরকম অবস্থা হয় তাই ম্যাডামের হয়েছে। ম্যাডামের বয়সও চিন্তা করতে হবে তার বয়স ৭৩ বছরের উপরে।’
জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি, ম্যাডামের যে চিকিৎসা দরকার তা জেলখানায় সম্ভব নয়। ম্যাডামের চিকিৎসা ইউনাইটেড হাসপাতালে হওয়া দরকার। আপনারা দেখেছেন, জেল কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখেছে, তার চিকিৎসার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। দেশের তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দেশের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দলের প্রধান তিনি আজকে জেলখানায় আছেন। কী মামলায় আছেন, তা আপনারা জানেন। একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলায় তিনি আজকে বিনা চিকিৎসায় জেলখানায় কষ্ট পাচ্ছেন। এটা খুবই্ দুঃখজনক।’
এর আগে গতকাল শুক্রবার খালেদা জিয়ার আত্মীয়-স্বজনরা কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করেন।

মন্তব্য

মন্তব্য