মা আত্মহত্যা ও দুই মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যুর ‘পুলিশি তদন্ত আটকে আছে

রাজধানীর দারুস সালামে নিজ ঘরে মা ও দুই মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ‘ডাবল মার্ডার ওয়ান সুইসাইডেই’ আটকে আছে পুলিশি তদন্ত। রক্তাক্ত ওই ৩ মরদেহ উদ্ধারের পর পেরিয়ে গেছে ৪ দিন। কিন্তু ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা এখনও সেই রহস্য উদঘাটন হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার রাতে এই রিপোর্ট লেখা অবধি এই ঘটনায় থানায় কোনও মামলা হয়নি।নিহতের স্বজনরাও মনে করছেন, নিজের চাকরি ও সংসার নিয়ে মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত থাকার কারণেই জেসমিন আক্তার (৩৫) নিজের দুই মেয়ে হাসিবা তাহসিন হিমি (৯) ও আদিলা তাহসিন হানিকে (৫) খুন করে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় নানা প্রশ্নের উদয় হয়েছে জনমনে। কারণ, গত সোমবার রাতে দারুসসালাম থানা এলাকার পাইকপাড়া সি টাইপ সরকারি কোয়ার্টারের ১৩৪ নম্বর ভবনের চারতলার যে ফ্ল্যাট থেকে ওই ৩ মরদেহ উদ্ধার করা হয় তখন এবং হত্যাকাণ্ডের সময় সে বাসাতেই ছিলেন নিহত জেসমিন আক্তারের খালাতো বোন রেহেনা পারভীন যুথি,ভাগিনা রওশন জামিল ও তার স্ত্রী রোমানা পারভীন। তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, বাসায় থাকলেও কোনও চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ পাননি। কিন্তু একই ফ্ল্যাটের পাশাপাশি রুমে থেকেও এত বড় একটি ঘটনা আঁচ করতে না পারায় ওই ঘটনা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে লাশের সুরতহাল রিপোর্টে জেসমিনের গলা, দুই হাতের কব্জি ও পেটে ৮-১০টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন মিলেছে। এছাড়া তার বড় মেয়ে হিমির বুকে তিনটি, দুই হাত ও গলায় ছুরিকাঘাত এবং ছোট মেয়ে হানির পেটে ছুরিকাঘাতেরও চিহ্ন পাওয়া গেছে। হানির লাশ উদ্ধারের সময় তার নাড়িভূঁড়ি বের হয়ে ছিল। একজন মা এমন নির্মমভাবে নিজের সন্তানদের হত্যা করে আত্মহত্যা করতে পারে কিনা? একই মানুষ একই সময়ে নিজের শরীরের এতগুলো ছুরিকাঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করতে পারেন কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।গত রাতে দারুস সালাম থানার ওসি মো. সেলিমুজ্জামান আমাদের সময়কে বলেন, ‘মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও মামলা হয়নি। নিহতের স্বজনদের বক্তব্য ও ঘটনাস্থলে পারিপার্শ্বিক সব বিষয় বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে আমরা এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যা বলেই ধারণা করেছি। ফলে ঘটনাটি কী হয়েছে তা নিশ্চিত না হওয়ায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। তবে সার্বিক বিষয় মাথায় রেখেই আমরা তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। নিহতদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই জানা যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা যোগ করেন ওসি।

মন্তব্য

মন্তব্য